মূল্য ও মূল্যায়ন

সদ্য স্নাতক পাশ করা ছেলেকে ভাল একটা উপহার দেয়ার জন্য বাবা তাকে নিয়ে গ্যারেজে গেলেন।

বললেন, এখানের এই গাড়িটা অনেক বছর আগে আমি নিয়েছিলাম। এখন এর অনেক বয়স হয়ে গেছে। তোমার খুশীর এই মুহূর্তে এটা আমি তোমাকে উপহার হিসেবে দিতে চাই।

তবে তার আগে তুমি এটা বিক্রির জন্য ব্যবহার করা গাড়ির শোরুমে যাও এবং দেখ তারা এটার কত দাম বলে।

ছেলে ব্যবহৃত গাড়ির শোরুম থেকে বাবার কাছে ফিরে এসে বলল, তারা এই গাড়ির মূল্য এক হাজার ডলার বলেছে, কারণ এটি দেখতে খুব জরাজীর্ণ।

বাবা বললেন, এবার এটা ভাঙ্গারি দোকানে নিয়ে যাও, দেখ ওরা কি বলে!

ছেলে ভাঙ্গারি দোকান থেকে ফিরে এসে বলল, এটা অনেক পুরনো গাড়ি বলে ওরা মাত্র ১০০ ডলার দাম দিতে চায়।

বাবা তখন একটা গাড়ির ক্লাবে গিয়ে গাড়িটা দেখাতে বললেন।

ছেলে গাড়িটি ক্লাবে নিয়ে গেল এবং ফিরে এসে খুশিতে তার বাবাকে বলল, ক্লাবে কিছু লোক খুবই কৌতূহলি হয়ে গাড়িটি পর্যবেক্ষণ করলো এবং এর জন্য এক লক্ষ ডলার অফার করেছে। যেহেতু এটি একটি Nissan Skyline R34, একটি আইকনিক গাড়ি।

তখন বাবা তাঁর ছেলেকে বললেন, সঠিক জায়গার সঠিক লোক তোমাকে সঠিক ভাবেই মূল্যায়ন করবে। আর যদি কোথাও তোমাকে মূল্য না দেওয়া হয়, তবে রাগ করবে না।

বুঝে নেবে এর মানে তুমি ভুল জায়গায় আছো। তারাই তোমার মূল্য দিবে, যাদের নিজেদের মূল্যবোধ আছে, গুণের মর্ম উপলব্ধি করার মত যোগ্যতা আছে।

এমন জায়গায় কখনো থেকো না যেখানে তোমার প্রকৃত মূল্যায়ন কেউ করে না।

(সংগৃহীত)

ঢাবি অপটিমিস্টিক সোসাইটির সদস্য সংগ্রহ চলছে

ইতিবাচকতা, সুখবোধ, আশাবাদ এবং মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করে চলা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি ভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অপটিমিস্টিক সোসাইটির সদস্য সংগ্রহ চলছে।

সদস্য সংগ্রহের আবেদন ফর্ম সংগ্রহ করা যাবে ৫ আগস্ট ২০২২ পর্যন্ত।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল বর্ষের শিক্ষার্থীরা সংগঠনটির সদস্য হতে পারবেন।

আগস্ট মাসের ১১ তারিখ বৃহস্পতিবার সদস্যদের নবীনবরণ অনুষ্ঠিত হবে।

‘পজিটিভিটি ব্রিঙস হ্যাপিনেস’ স্লোগানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মানসিক সুস্থতা ও সুখবোধ নিশ্চিত করতে ২০১৮ সালের ২৮ নভেম্বর যাত্রা শুরু হয় সংগঠনটির।

সংগঠনটি ইতিবাচকতা, সুখবোধ, আশাবাদ এবং মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে বছরব্যাপী বিভিন্ন সৃষ্টিশীল কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে।

‘মনচিঠি’ শিরোনামে সংগঠনটি ২০২০ সালের মে মাস থেকে অনলাইনে বিনামূল্যে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে যাচ্ছে।

ক্লাবটির মডারেটর হিসেবে আছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এডুকেশনাল এবং কাউন্সেলিং সাইকোলজি বিভাগের অধ্যাপক এবং টিএসসির ছাত্র নির্দেশনা ও পরামর্শদান দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মেহজাবীন হক ম্যাম।

ক্লাবটির প্রতিষ্ঠাতা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী মুখলিসুর রহমান মাহিন।

⦿ সদস্য ফর্মের লিঙ্ক

ক্লাবের ওয়েবসাইট
• ফেসবুক পেজ
• ফেসবুক গ্রুপ (পাবলিক)
• মনচিঠির ফেসবুক পেজ

⦿ যোগাযোগ :

01841 21 52 71 (অফিসিয়াল)
01751343368 (আনিসুর রহমান, প্রেসিডেন্ট)
01861987840 (নাহিদুল ইসলাম, সেক্রেটারি)

অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা সামলাবেন কীভাবে?

সালমার সবকিছু নিয়েই দুশ্চিন্তা। ছেলেমেয়ের স্কুল, বাসার রান্নাবান্না, নিজের শরীর, পরিবারের সবার নিরাপদে বাসায় ফেরা—সবকিছুতেই চিন্তার শেষ নেই। ভয় হয়, যেন কোনো খারাপ কিছু ঘটতে যাচ্ছে। কিছুই যেন ঠিকমতো হবে না। এ কারণে তাঁর মেজাজও থাকে খিটখিটে, অস্থিরতা বা অশান্তির একটা ভাব। শারীরিক নানা সমস্যা, যেমন পায়ে; মাথাব্যথা, বুক ধড়ফড়, পেটে সমস্যা, শারীরিক ক্লান্তি, ঝিমঝিম ভাব, ঠিকমতো ঘুম না হওয়া, শরীরের নানা ব্যথা ইত্যাদি।

অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরও যখন কোনো সমস্যা পাওয়া যায় না, চিকিৎসক জানান যে শরীরের ভেতরে কোনো সমস্যা না থাকলেও অতিরিক্ত উদ্বেগ বা ‘টেনশনে’ ভোগার কারণে এসব শারীরিক কষ্ট হচ্ছে।

অতিরিক্ত ‘টেনশন’ বা উদ্বেগে ভোগা একধরনের সমস্যা। একে অ্যাংজাইটি ডিসঅর্ডার বলা হয়। এ ক্ষেত্রে ছোটখাটো সমস্যা তারা অনেক বড় করে দেখে এবং যেকোনো বিষয়ের নেতিবাচক দিকটাই তাদের সামনে চলে আসে। এরা ছোটখাটো চাপ মোকাবিলা করতে হিমশিম খায়, যা জীবনের স্বাভাবিক গুণগত মান নানাভাবে (কর্মদক্ষতা, পারস্পরিক সম্পর্ক, জীবন উপভোগ করা ইত্যাদি) কমিয়ে দেয়।

অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা কীভাবে মোকাবিলা করবেন?

• নিজেকে যথাসম্ভব রিলাক্সড রাখুন:

অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা বা উদ্বেগে ভুক্তভোগী ব্যক্তির মন ও শরীর সব সময় ‘টেনসন্ড’ থাকে বলে শরীর ও মন যাতে রিলাক্সড থাকে, সেটা চেষ্টা করা উচিত।

নিয়মিত ব্যায়াম করুন অথবা প্রতিদিন অন্তত ৪০ মিনিট দ্রুত হাঁটুন। দেখবেন আপনার শরীর ও মন কিছুদিন পরে অনেক রিলাক্সড বা শান্ত বোধ করবেন।

প্রতিদিন অন্তত দুই থেকে তিনবার শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম করা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে ধীরে ধীরে (৪-৫ সেকেন্ড ধরে) লম্বা করে পেট ভরে শ্বাস নিয়ে কিছুক্ষণ (৪-৫ সেকেন্ড) ধরে রেখে ধীরে ধীরে (৪-৫ সেকেন্ড ধরে) বের করে দিতে হবে। এ রকম ১০-১২ বার করবেন। এ সময় সম্পূর্ণ মনোযোগ আপনার শ্বাস-প্রশ্বাস বা শরীরের দিকে রাখুন। রিলাক্সেসনের জন্য এটা বিজ্ঞানসম্মত একটা চমৎকার ও সহজ পদ্ধতি।

• দুশ্চিন্তাকে প্রশ্রয় না:

যেকোনো নেতিবাচক চিন্তা বা দুশ্চিন্তা একবার মাথায় ঢুকলে সেগুলো আরও নেতিবাচক চিন্তা মাথায় আনে, যা শেষ পর্যন্ত হতোদ্যম করা ছাড়া কিছুই করে না।

কাজেই প্রথম থেকেই কোনো নেতিবাচক চিন্তা এলে সেটা নিয়ে না ভেবে মন সঙ্গে সঙ্গে অন্যদিকে সরিয়ে ফেলুন বা নিজেকে অন্য কাজে নিয়োজিত করুন (যেসব কাজে আপনার মনোযোগ লাগবে)।

গুনগুন করে গান গাওয়া বা শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম এ ক্ষেত্রে খুব সাহায্য হতে পারে।

• সামাজিক মেলামেশা বাড়া:

দুশ্চিন্তা, অশান্তি, অস্থিরতা, মন খারাপ কমানোর অন্যতম উপায় হলো সামাজিক মেলামেশা বাড়ানো।

দেখা যায়, যাঁদের বন্ধুবান্ধব বেশি বা নানা ধরনের মানুষের সঙ্গে সংযোগ রয়েছে, তাঁদের মানসিক স্বাস্থ্য তুলনামূলকভাবে ভালো থাকে।

আপনার চারপাশের অনেক শুভাকাঙ্ক্ষী বা বন্ধুবান্ধব, সজ্জন ব্যক্তিদের দ্বারা মানসিকভাবে যুক্ত আছেন—এই বোধ আপনাকে মানসিকভাবে অনেক ভালো রাখবে।

তবে সেটা যেন ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়ায় সীমাবদ্ধ না হয়। কাজেই মাঝেমধ্যে সপ্তাহের কাজের ভিড়ে কিছুটা সময় রাখুন বন্ধু-আত্মীয়-প্রতিবেশীর সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন আড্ডা বা সময় কাটানোর জন্য।

• নিজের জন্য প্রতিদিন কিছু সময় রাখুন:

প্রতিদিন খুব অল্প সময় হলেও নিজের জন্য কিছু সময় রাখুন। এ সময়টায় করার জন্য না করে বা দায়িত্বের জন্য না করে আপনার যেভাবে ভালো লাগে সেভাবে কাটান অথবা ভালো লাগার কোনো কাজ করুন।

• গ্রহণযোগ্যতা বাড়া:

জীবনের নানা কিছু, সেটা সন্তানের পড়াশোনা, বাসার গৃহকর্মীর কাজ, জীবনসঙ্গীর সঙ্গে সম্পর্ক, অথবা যেকোনো কিছু—সব কিন্তু আপনার চাহিদা বা প্রত্যাশার মতো হবে না।

অনেক কিছু পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নানা ‘না’ পাওয়াও থাকবে। কাজেই আপনার মনকে যদি ছোটখাটো ব্যর্থতা গ্রহণ করার জন্য প্রস্তুত করতে পারেন, তাহলে অনেক কিছুই দেখবেন সহজ হয়ে যাবে।

সেই সঙ্গে প্রতিনিয়ত যদি আপনার জীবনের ইতিবাচক দিকগুলোর (সেটা আপাতভাবে যত ছোটই মনে হোক না কেন) দিকে মনোযোগ দেন, তাহলে একরকম মানসিক শক্তি পাবেন।

একটু মনোযোগ দিলে দেখবেন, প্রতিদিনই ছোটখাটো অনেক কিছুই ভালোভাবে ঘটছে, অথবা দিন শেষে অনেক ভালো মুহূর্তই জমা হচ্ছে আপনার কোটায়।

সুতরাং মনোযোগী হোন আপনার জীবনের ইতিবাচক বিষয়ের প্রতি এবং নিজের বা অন্যদের ব্যর্থতা বা ছোটখাটো ভুলত্রুটি যথাসম্ভব উপেক্ষা করুন। সেই সঙ্গে ভালোবাসুন নিজেকে।

মনে রাখবেন, নিজেকে ভালো রাখতে পারলেই ভালোবাসার মানুষদের জন্য যখন কিছু করবেন, সেটা গুণগত দিক দিয়েও উৎকর্ষ হবে।

ডা. মেখলা সরকার
মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট, ঢাকা

সূত্র : প্রথম আলো

সুখ কেনা যায়, টাকা দিয়েই কেনা যায়

অনেক মানুষকেই বলতে শুনেছি যে টাকা দিয়ে সুখ কেনা যায় না। হয়তো তারা কিনতে পারে না। আমি পারি। এইযে গরম এক কাপ কফি কিনে খেলাম; সাথে স্ট্রবেরি টর্টে; টাকা না থাকলে এটা আমি কীভাবে কিনতাম!

ছোটবেলায় একটা বই পড়ে আমি ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কেঁদেছিলাম। ভেবেছিলাম জীবনে আর কোনোদিন এই বইটা আমি পড়ব না। বলা বাহুল্য, সেই বইটা এখন আমার সামনে। অ্যামাজন আজকেই ডেলিভারি দিয়েছে। ঘর থেকে বের হবার সময় বইটা হাতে করে নিয়ে এসেছি। টাকায় হিসেব করলে বইটার দাম হাজার টাকার বেশি। টাকা ছাড়া এই বইটা আমি কীভাবে কিনতাম!

এইযে ছোট ভাইকে মোবাইল কিনে দিলাম, আম্মুকে তাঁর প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র; টাকা ছাড়া কীভাবে হতো! আজ সারাদিন আমি বাইরে বাইরে ঘুরছি। এই মুহূর্তে বসে আছি আমার প্রিয় কফি শপে। হাতের বই শেষ হলেই ঘরে ফিরে যাব। আমি যেখানে বসে আছি সেখান থেকে রাস্তা দেখা যাচ্ছে। যাদের ঘর নেই, তারা এই ঠান্ডায় কম্বল জড়িয়ে রাস্তায় বসে ভিক্ষা করছে। কী নির্মম!

আমার মনে হয়, যাদের প্রচুর টাকা আছে কেবল তারাই বলে টাকা দিয়ে সুখ কেনা যায় না। সম্ভবত সুখ কী সেটা সম্পর্কে এদের ধারণাই নেই।

আমার কাছে সুখ হচ্ছে, আমি যখন যা করতে চাই টাকা যেন সেটার মধ্যে বাঁধা না হয়ে দাঁড়ায় সেটা নিশ্চিত করা। আমি বিশ্বাস করি, জীবনে ভালোবাসার চেয়েও অর্থনৈতিক নিশ্চয়তা বড় জিনিস। আমি জানি, সবাই একমত হবে না। কিন্তু আমার কাছে তাই। পকেট খালি মানে হচ্ছে পুরো দুনিয়া খালি।

সুতরাং, যার যেই লক্ষ্যই থাকুক না কেন, আগে নিজেকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে হবে। নিজের, পরিবারের, বন্ধু এবং আত্মীয়ের অর্থনৈতিক প্রয়োজনে নিজেকে প্রয়োজনীয় করে তুলতে পারা গৌরবের; সুখের। সুখ কেনা যায়। টাকা দিয়েই কেনা যায়৷ এইযে একটু পরে ফুল কিনে বাসায় ফিরে যাব। এটা যদি সুখ না হয়; তো সুখ কী? [ফেসবুক থেকে সংগৃহীত]

লেখক : খাদিজাতুল কোবরা সনিয়া, শিক্ষার্থী, ইউনিভার্সিটি অব গেটিংজেন, জার্মানি

৪০ বারের চেষ্টায় গুগলে চাকরি

‘একবার না পারিলে দেখ শতবার’—কবিতার লাইনটি পড়া যতটা না সহজ, ধৈর্য ধরে লক্ষ্য অর্জনে লেগে থাকা কিন্তু ততটা সহজ নয়। তবে কিছু মানুষ লক্ষ্য অর্জনে বিরল নজির গড়েন। তাদেরই একজন টাইলার কোহেন। শতবার না হলেও ৪০ বারের চেষ্টায় তিনি চাকরি পেয়েছেন টেক জায়ান্ট গুগলে। খবর এনডিটিভির।

গুগলে চাকরি করার স্বপ্ন ছিল কোহেনের। এই স্বপ্ন পূরণে কোনো কিছুই তাঁকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। ফলে তাঁর ৩৯তম আবেদন প্রত্যাখ্যাত হলেও থেমে যাননি। শেষ পর্যন্ত ৪০তম আবেদনে সফল হন কোহেন।

স্বপ্ন পূরণের মুহূর্তটি লিংকডইনে সবার সঙ্গে ভাগাভাগি করেন কোহেন। এতে গুগল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তাঁর ই–মেইল যোগাযোগের একটি স্ক্রিনশট পোস্ট করেন। দেখা যায়, ১৯ জুলাই গুগলে তাঁর চাকরি পাওয়ার স্বপ্ন পূরণ হয়।

কোহেন যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকোতে বসবাস করেন। গুগলে চাকরির আগপর্যন্ত ‘ডোরড্যাশ’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে অ্যাসোসিয়েট ম্যানেজার (স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড অপস) হিসেবে তিনি কর্মরত ছিলেন।

লিংকডইন পোস্টে কোহেন ছোট্ট করে লিখেছেন, ‘অধ্যবসায় ও পাগলামির মাঝে সুন্দর একটি সীমারেখা আছে। আমি এখনো বোঝার চেষ্টা করছি, আমার কোনটা আছে। ৩৯বার প্রত্যাখ্যান, একবার গ্রহণ।’

কোহেনের পোস্টটি ভাইরাল হয়ে যায়। এই পোস্টে প্রায় ৪০ হাজার ব্যবহারকারী লাইক দেন। কমেন্ট করেছেন ৯ শতাধিক ব্যবহারকারী।

কোহেনের পোস্ট করা স্ক্রিনশটে দেখা যায়, ২০১৯ সালের ২৫ আগস্ট তিনি প্রথমবার গুগলে চাকরির আবেদন করেন। কিন্তু তাঁর আবেদন গ্রহণ করা হয়নি। তিনি হাল ছেড়ে দেননি। ওই বছরের সেপ্টেম্বরে আরও দুবার আবেদন করেন তিনি। এই যাত্রায়ও তিনি ব্যর্থ হন।

স্ক্রিনশটে আরও দেখা যায়, এরপর আট মাসের বিরতি দেন কোহেন। এরপর ২০২০ সালের জুনে করোনা মহামারির সময় আবার আবেদন শুরু করেন। গত ১৯ জুলাই গুগল তাঁকে চাকরির জন্য মনোনীত করার আগপর্যন্ত তিনি এভাবে আবেদন করেই যেতে থাকেন।

দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর কোহেনের এমন অর্জনে অনেকেই অভিভূত। তাঁকে অভিনন্দন জানিয়ে কেউ কেউ পোস্টে কমেন্ট করেন। একই সঙ্গে চাকরির জন্য নিজেদের একের পর এক আবেদন করার অভিজ্ঞতাও জানান।

একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘অ্যামাজনে চাকরি হওয়ার আগপর্যন্ত আমার ১২০টির বেশি আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়েছে।’ আরেকজন লিখেছেন, ‘আমার ৮৩তম আবেদন চলছে। ৫২টি প্রত্যাখ্যান আর একটির বিষয়ে অপেক্ষায় (চূড়ান্ত পর্ব)। নির্মম বটে।’

সূত্র : প্রথম আলো

ঢাবি অপটিমিস্টিক সোসাইটির কমিটি গঠন : আনিস সভাপতি নাহিদ সাধারণ সম্পাদক

ইতিবাচকতা, সুখবোধ, আশাবাদ এবং মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করে চলা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি ভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অপটিমিস্টিক সোসাইটির পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠিত হয়েছে।

২২ জুলাই ২০২২ পূর্ণাঙ্গ কমিটির সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যবিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা বিভাগের ২০১৮-১৯ সেশনের শিক্ষার্থী আনিসুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক আরবি বিভাগের ২০১৮-১৯ সেশনের শিক্ষার্থী নাহিদুল ইসলাম।

কমিটির অন্যান্যদের মধ্যে আইরিন আঁখি এবং তাসনিম আলম সহসভাপতি। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহিনুর ইসলাম শাহিন। আমির হোসেন অপু এবং কারিমুল ইসলাম সাংগঠনিক সম্পাদক। দপ্তর সম্পাদক মানসী রানী সিংহ। প্রচার সম্পাদক শায়লা সুলতানা। সালমা আক্তার, সুমি আক্তার এবং পূর্ণিমা সিকদার শ্রুতি অনুষ্ঠান বিষয়ক সম্পাদক। সাংস্কৃতিক সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদৌস লীনা। তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক মাহাবুবুর রহমান। স্বাস্থ্য এবং খেলাধুলা বিষয়ক সম্পাদক আছমা আক্তার লিয়া। সেলিম রানা সিয়াম, মনোয়ার হোসেন, কামরুজ্জামান, জাহিদ মোস্তফা, তেরেজা ডায়না গমেজ কার্যনির্বাহী সদস্য।

নবনির্বাচিত কমিটি আগামী এক বছরের জন্য দায়িত্ব পালন করবে।

কমিটি গঠন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা মুখলিসুর রহমান মাহিন, সাবেক সভাপতি ইমতিয়াজ খান আসিফ এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফারহানা খান ঋতু এবং ক্লাবের সদস্যবৃন্দ।

‘পজিটিভিটি ব্রিঙস হ্যাপিনেস’ স্লোগানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মানসিক সুস্থতা ও সুখবোধ নিশ্চিত করতে ২০১৮ সালের ২৮ নভেম্বর যাত্রা শুরু হয় সংগঠনটির।

সংগঠনটি ইতিবাচকতা, সুখবোধ, আশাবাদ এবং মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে বছরব্যাপী নানা সৃষ্টিশীল কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে।

‘মনচিঠি’ শিরোনামে সংগঠনটি ২০২০ সালের মে মাস থেকে অনলাইনে বিনামূল্যে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে যাচ্ছে।

ক্লাবটির মডারেটর হিসেবে আছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এডুকেশনাল এবং কাউন্সেলিং সাইকোলজি বিভাগের অধ্যাপক এবং টিএসসির ছাত্র নির্দেশনা ও পরামর্শদান দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মেহজাবীন হক ম্যাম।

দিনের পর দিন ওনাদের চিল্লাচিল্লি, মারামারি, ঝগড়াঝাটিতে আমি অতিষ্ট হয়ে যাচ্ছি

📮 মনচিঠি টেক্সট-৪৫ (প্রেরকের সম্মতিতে প্রকাশিত)

১. আমি যখন খুব ছোট, ৫-৬ বছর বয়স হবে একদিন বাবা আমাকে কোলে করে দিদা আর দাদুভাইয়ার রুমে রেখে আসে, তারপর বাথরুমের জন্য উঠে শুনি অনেক চিল্লাচিল্লি, চিৎকার, অনেক বাজে অবস্থা, সেইদিন বুঝি মা-বাবার ঝগড়া হচ্ছে।

২. আস্তে আস্তে বড় হতে থাকি, মা-বাবার ঝগড়া বাড়তে থাকে। মা তেমন কিছুই বলে না কিন্তু বাবা এতো বেশী উত্তেজিত হয়ে যায় আর এতো বাজে ব্যবহার করে যে একটা ভয়ংকর পরিস্থিতি হয়ে যায়।

৩. সবসময় ঝামেলা হয় না তাই আর কথা বাড়াই না কিন্তু কেনো যেনো মনের ভিতর একটা ভয় ঢুকে যায়, সবসময় মনে হয় কিছু একটা হবে, কিছু একটা হবে, কিছু একটা হয়ে যাবে।

৪. কিছুদিন আগে এক আপু সুইসাইড করে মারা যায়। আমার অনেক কাছের বোন। আপু সারা রাত গল্প করার পরে আপুর রুমে ঘুমাতে যায় আমি আমার রুমে। সকালে উঠে শুনি আপু নাকি সুইসাইড করেছে। আপন না মামাতো বোন আর কি।

৫. তার কিছুদিন পরেই মেডিকেলের পরীক্ষা ছিলো, সারাজীবনের স্বপ্ন। আপু মারা যাওয়ার পর থেকেই অনেক ভয় পেতাম কান্না আসতো অনেক বাজে লাগতো। হলে যেয়ে সব গুলিয়ে যাচ্ছিলো, গা হাত পা কাপছিলো। চান্স পাই না আমি, অনেক খারাপ করি, এতো খারাপ যে, পাস মার্কসটাও আসে না অথচ আমি স্টুডেন্ট হিসেবে বেশ পরিচিত উদ্ভাস, রেটিনাতে। যাইহোক আবার খারাপ লাগলো।

৬. আমার কাউকে ভালো লাগে না, কোনো মানুষকে না, কোনো প্রাণীকে না, কিচ্ছু না। আমি মেডিকেলে চান্স পাইনাই এই কষ্টটা আমি কোনোভাবেই মানতে পারি না। আমার অনেক খারাপ লাগে অনেক বাজে অবস্থার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি আর বারবার-ই আল্লাহকে ডাকছি।

৭. এই সময়েই বাবা মায়ের ঝগড়া আরো এত বেড়ে গিয়েছে যে বলার বাইরে। ২৭ বছরের সংসার মায়ের উচিত ছিলো আরো আগে এখান থেকে সরে আসা কিন্তু মা আসে নাই। এখন অনেক কিছু জড়িত এটার সাথে, চাইলেই ছাড়া যায় না। কিন্তু দিনের পর দিন ওনাদের চিল্লাচিল্লি, মারামারি, ঝগড়াঝাটিতে আমি অনেক অতিষ্ট হয়ে যাচ্ছি, বেচে থাকাটা একটা কষ্ট মনেহয় আমার কাছে। সমাজে আমার বাবার স্ট্যাটাস অনেক হাই! এজন্য কথাগুলা সেভাবে কাওকে বলতেও পারিনা। আবার বাবার টাকা দিয়েই পড়াশোনা, খাওয়া-দাওয়া সবকিছু অনেক অসহ্য লাগে আমার কাছে।

💌 মনচিঠি টেক্সট-৪৫ এর উত্তর

প্রথমত আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ আপনার বিষয়গুলো তুলে ধরার জন্য এবং মনচিঠি’তে যোগাযোগ ও শেয়ার করার জন্য।

আপনার বিষয়গুলো আমি বোঝার চেষ্টা করবো এবং সেই অনুযায়ী পরামর্শ দেয়ার চেষ্টা করব।

ছোটবেলা থেকে আপনি পারিবারিক কলহ বিশেষ করে আপনার মা ও বাবার ঝগড়ার পরিস্থিতির শিকার হয়ে আসছেন যা আপনার জন্য একটি নেতিবাচক পরিবেশ এবং আপনাকে মানসিকভাবে অনেকভাবে প্রভাবিত করেছে এবং করছে।

তাছাড়া আপনার সাথে কিছু অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটেছে যেমন আপনার কাছের বোনের সুইসাইড, মেডিকেলে চান্স না পাওয়া, সব মিলিয়ে আপনি মানসিকভাবে হতাশ এবং নিজের উপর খুব কম আত্নবিশ্বাস অনুভব করছেন ও ভয় পাচ্ছেন।

আমাদের জীবনে মা-বাবার ভূমিকা অপরিসীম যা আমাদের পরবর্তী সময়ে আমাদের ব্যক্তিত্ব ও কোনো পরিস্থিতিতে আমরা কতটুকু আত্নবিশ্বাসী ও ঐ পরিস্থিতিতে নিজেকে মানসিক ও আবেগীয়ভাবে ঠিক রেখে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে পারি তা নির্ভর করে।

আপনার কোর একটি ইস্যু হচ্ছে আপনার মা-বাবার সম্পর্ক আপনাকে যে ভাবে প্রভাবিত করেছে এর জন্য আপনি আপনার মা-বাবার সাথে এসারটিভলি কথা বলতে পারেন এবং আপনি সিস্টেমেটিক ফ্যামিলি থেরাপি নিতে পারেন।

বতর্মানে আপনি নেতিবাচক অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন এর ফলে আপনার হতাশা, আত্নবিশ্বাসের ঘাটতি ও ভয় কাজ করছে।
আপনি এই ইস্যুগুলোর জন্য যা যা করতে পারেন-

প্রথমত আপনার অনুভূতিগুলো গ্রহন করে নিন, আপনি যে পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন তাতে এমন অনুভূতি/চিন্তা আসাটাই স্বাভাবিক।

দ্বিতীয়ত, আপনার পজিটিভ গুনগুলো, আপনার জীবের ছোট থেকে বড় সাফল্যগুলো লিখে ফেলুন।

তৃতীয়ত, নিজের ইতিবাচক দিকগুলো নিয়ে ভাবুন।

চতুর্থত, Deep breathing exercises, Mindfulness relaxation meditation (ইন্টারনেট থেকে এই বিষয়ে আরও জানতে পারবেন) , physical exercise, একটা daily routine মেন্টেন করতে পারেন।

তাছাড়া আপনি আপনার কথাগুলো আপনার সবচেয়ে কাছের মানুষের কাছে শেয়ার করতে পারেন, যদি সম্ভব না হয় নিজের অনুভূতি ও চিন্তার একটি journal /dairy লিখে রাখতে পারেন।

সবশেষে আপনার যদি মনে হয় আপনার বতর্মান পরিস্থিতির জন্য বিশেষজ্ঞের সাহায্য প্রয়োজন তাহলে আপনি তাদের সাথে কথা বলতে পারেন।

আপনার জন্য আন্তরিক শুভকামনা রইলো।

ধন্যবাদান্তে,
মারিয়া জামান (২১-০৫-৪৭)
পিয়ার কাউন্সেলর, মনচিঠি by DUOS
mariazaman58@gmail.com

📞 ভয়েস কলে কাউন্সেলিং/মানসিক স্বাস্থ্য পরামর্শ পেতে এখানে ক্লিক করে ফরমটি পূরণ করতে হবে।

☎️ হটলাইন নম্বরে ফোনকলের মাধ্যমে মানসিক স্বাস্থ্য পরামর্শ পাওয়ার নম্বরগুলো জানতে এই লিঙ্কে ক্লিক করতে হবে।

👩‍⚕️ এ ছাড়াও ইমেইল আইডি, ফেসবুক পেজ এবং সেলফোন নম্বরে যোগাযোগ করে মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা পাওয়া যাবেঃ

👍 ফেসবুক পেজ (ক্লিক করুন)
💬 ফেসবুক মেসেঞ্জার (ক্লিক করুন)
📞 সেলফোন নম্বর : 01841 21 52 71
📧 ইমেইল আইডি : monchithi.duos@gmail.com

🌐 বিস্তারিতঃ www.duos.org.bd/monchithi

শত্রুর জন্য ভালোবাসা : মার্টিন লুথার কিং

‘আই হ্যাভ আ ড্রিম।’ ১৯৬৩ সালে আড়াই লাখেরও বেশি শ্রোতার সামনে দাঁড়িয়ে জোরালো গলায় বলেছিলেন মার্টিন লুথার কিং। তাঁর সেই বক্তৃতা কাঁপিয়ে দিয়েছিল পুরো বিশ্বকে। আজ অবধি পৃথিবীর সেরা বক্তাদের তালিকা করলে অবধারিতভাবেই জায়গা করে নেন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক অধিকার আন্দোলনের এই অবিসংবাদিত নেতা। সে সময় মনটোগমেরির ডেক্সটার অ্যাভিনিউ ব্যাপটিস্ট চার্চ ছিল তাঁর সব আন্দোলনের কেন্দ্রস্থল। এই উপাসনালয়ে ১৯৫৭ সালের ১৭ নভেম্বর ‘শত্রুর জন্য ভালোবাসা’ শিরোনামে বক্তব্য দিয়েছিলেন তিনি। আজও ফুরায়নি সেই বক্তৃতার আবেদন।

‘শত্রুর জন্য ভালোবাসা’— এই বিষয়ে আজ আমি তোমাদের মনোযোগ আকর্ষণ করতে চাই।

প্রথমে খুবই বাস্তবিক একটা প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড়ানো যাক। কীভাবে তুমি তোমার শত্রুকে ভালোবাসবে? আমি মনে করি, শত্রুকে ভালোবাসতে হলে আগে নিজেকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে হবে। আমি জানি, এটা তোমাদের অবাক করবে যে, আজ সকালে হুট করে আমি কেন শত্রুকে ভালোবাসার কথা বলতে শুরু করলাম। আর বললাম, শুরুতেই নিজের দিকে তাকাও। কিন্তু আমার মনে হয়, শত্রুকে ভালোবাসার প্রক্রিয়ায় এটাই প্রথম এবং সর্বোত্তম উপায়।

আমি জানি, কিছু মানুষ তোমাকে পছন্দ করে না। ব্যাপারটা এমন নয় যে তুমি তাঁর কোনো ক্ষতি করেছ। তবু, তুমি তাঁর কাছে স্রেফ অপছন্দের মানুষ। তোমার হাঁটা-চলা, কথাবার্তা অনেকের কাছেই ভালো লাগবে না। কেউ হয়তো তোমাকে অপছন্দ করে, কারণ তুমি তাঁর চেয়ে ভালো কাজ জানো। তুমি জনপ্রিয়, তোমাকে লোকে পছন্দ করে, সেটাও অপছন্দনীয় হওয়ার কারণ হতে পারে। তোমার চুল তাঁর চেয়ে সামান্য বড় বা ছোট, তোমার গায়ের রং তাঁর চেয়ে খানিকটা উজ্জ্বল কিংবা অনুজ্জ্বল—হয়তো কারণটা এমন! কেবল কারও কোনো ক্ষতি করলেই তুমি তাঁর অপছন্দের পাত্র হবে, তা নয়। অপছন্দ-ব্যাপারটা আসে ঈর্ষাকাতরতা থেকে। মানুষের সহজাত চরিত্রেই এই অনুভূতির প্রভাব আছে।

বহুদিন আগে তোমার আচরণে হয়তো এমন একটা কিছু প্রকাশ পেয়েছিল, যার কারণে কেউ তোমাকে ঘৃণা করতে শুরু করেছে। তোমার হয়তো সেই আচরণের কথা মনেও নেই। তাই বলছি, আগে নিজেকে দিয়ে শুরু করো। হয়তো তোমার মধ্যে এমন কিছু আছে, যা অপরদিকের মানুষটার মধ্যে এই দুর্ভাগ্যজনক ঘৃণার জন্ম দিয়েছে।

দ্বিতীয়ত, তোমার যা করা উচিত তা হলো, শত্রুর ভালো দিক খুঁজে বের করা। যখনই মানুষটার প্রতি প্রচণ্ড ঘৃণা তৈরি হবে, তাঁর ভালো দিকগুলো দেখো, যা তাঁর খারাপ দিকগুলোকেও ছাপিয়ে যাবে।

আমি বহুবার বলেছি, আমাদের প্রত্যেকের মধ্যেই একধরনের সিজোফ্রেনিক চরিত্র আছে। আমরা নিজেরাই নিজেদের মধ্যে বিভক্ত হয়ে আছি। আমাদের সবার মধ্যেই এমন কিছু আছে, যার কারণে আমরা লাতিন কবি ওভিদের সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়ে বলি, ‘আমি দেখি এবং সমর্থন করি ভালো কাজ, কিন্তু করি খারাপ কাজ।’ আমাদের সবার মধ্যেই এমন কিছু আছে, যার কারণে আমরা প্লেটোর সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়ে বলি, ‘মানুষের চরিত্র হলো একটা রথের মতো। রথটা টেনে নেয় দুটো শক্তিশালী ঘোড়া। দুটোই একে অপরের বিপরীত দিকে যেতে চায়।’ আমরা গ্যেটের সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়ে বলি, ‘আমার মধ্যে ভদ্র এবং অভদ্র—দুটো হওয়ার মতোই যথেষ্ট রসদ আছে।’

শত্রুকে ভালোবাসার আরও একটা উপায় হচ্ছে, যখন তাকে পরাজিত করার মোক্ষম সুযোগ আসবে, তুমি সেটা কোরো না। হ্যাঁ, সে তোমার কাছে হারবে, কিন্তু একটু ভিন্নভাবে। যে মানুষটা তোমাকে সবচেয়ে বেশি ঘৃণা করে, যে মানুষটা তোমার সঙ্গে সবচেয়ে বেশি দুর্ব্যবহার করে, যে পেছনে তোমার সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি খারাপ কথা বলে, যে তোমার নামে মিথ্যে গুজব ছড়ায়; একদিন সে-ই হয়তো কোনো প্রয়োজনে তোমার সামনে দাঁড়াবে।হতে পারে চাকরির জন্য তাঁর কোনো সুপারিশ প্রয়োজন, হতে পারে তোমার কাছে তাঁর এমন একটা সাহায্য দরকার, যেটা তাঁর জীবন বদলে দেবে। এটাই হলো তোমার জয়লাভ করার মোক্ষম সময়! তুমি অবশ্যই তাঁকে সাহায্য করো। ভালোবাসার অর্থ এটাই।

দিন শেষে ভালোবাসা কিন্তু কোনো ভাবপ্রবণ বিষয় নয়, যেটা নিয়ে আমরা কথা বলতে পারি। ভালোবাসা হলো কারও মঙ্গল কামনা করার একটা সৃজনশীল উপায়।

চলো, এখন ‘কীভাবে’ প্রশ্নের উত্তর খোঁজা শেষে আমরা বরং ‘কেন’ প্রশ্নের উত্তরটা জানতে চেষ্টা করি। শত্রুকে কীভাবে ভালোবাসব, সেটা জানাই যথেষ্ট নয়। বরং কেন ভালোবাসব, সেটাও জানা জরুরি। আমার মনে হয়, প্রধান কারণটা যিশুখ্রিষ্টই বলে গেছেন। ঘৃণার বিনিময়ে ঘৃণা কেবল ঘৃণাই বাড়াবে। পৃথিবীতে মন্দের পাল্লা ভারী হবে। সে-ই শক্তিশালী, যে ঘৃণার শিকল ছিঁড়ে ফেলতে পারে।

একবার আমি আর আমার ভাই গাড়িতে করে আটলান্টা যাচ্ছিলাম। কোনো এক অজানা কারণে, সব অবিনয়ী গাড়িচালকই সেই রাতে ওই রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিল। তারা কিছুতেই তাদের গাড়ির হেডলাইটের আলো কমাতে রাজি হচ্ছিল না। আমার ভাই খেপে গিয়ে বলেছিল, ‘আমি জানি আমি কী করতে যাচ্ছি। এরপর যে গাড়িটা আলো কমাবে না, আমিও তার সামনে আমার গাড়ির সর্বোচ্চ আলো ছুড়ে দেব।’ আমি তৎক্ষণাৎ বলেছিলাম, ‘না না! এমনটা কোরো না। তাহলে এই হাইওয়েতে আলোর পরিমাণ এত বেশি হবে যে সবাই দুর্ঘটনায় পড়বে। কোনো একজনকে তো বুদ্ধি-বিবেচনার পরিচয় দিতে হবে!’ পৃথিবীর সব জাতিই ইতিহাসের হাইওয়ে ধরে ছুটছে আর একে অন্যের দিকে তাকিয়ে নিজের গাড়ির আলো কমাতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে।

কেন শত্রুকে ভালোবাসবো? আরও একটা কারণ হলো, তুমি যখন কাউকে ঘৃণা করো, তখন তোমার চরিত্রটাও বিকৃত হয়ে যায়। তুমি অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত নিতে শুরু করো। ঘৃণা তোমার চোখে লেগে থাকলে তুমি সোজা তাকাতে পারো না। সোজা হাঁটতে পারো না। একজন মানুষের হৃদয় ভরা ঘৃণা, এর চেয়ে দুঃখজনক আর কিছুই হতে পারে না! (সংক্ষেপিত)

• ইংরেজি থেকে অনুবাদ : মো. সাইফুল্লাহ
• সূত্র : প্রথম আলো

এতো কিছু করার পরেও আমি ঐ ছেলেকে ঘৃণা করতে পারিনা | মনচিঠি টেক্সট-৪১ 💌

💌 মনচিঠি টেক্সট-৪১ (প্রেরকের সম্মতিতে প্রকাশিত)

একটা ছেলের সাথে আমার সম্পর্ক ছিলো এক বছরের বেশি। ছেলেটা আমাকে ভবিষ্যতের অজুহাত দেখিয়ে ছেড়ে দেয়। ওর ছেড়ে দেয়া আমি মেনে নিয়েছিলাম। কিন্তু কয়েদিন পরে দেখলাম ও অন্য কারো সাথে সম্পর্ক করে।

ওর নতুন সম্পর্ক আমি মেনে নিতে পারছিনা, না কোন ভাবেই না। মাথা কাজ করেনা। আমি মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ছি। ওদের একসাথে সহ্য করতে পারিনা। ওরা অনেক কিছু শো-অফ করে শুধু আমাকে কষ্ট দেয়ার জন্য।

ছেলে এতো কিছু করার পরেও আমি ঐ ছেলেকে ঘৃণা করতে পারিনা। এতো কিছুর পরেও আমি ঐ ছেলেকে খুঁজি।

আমি কী করবো এখন? ছেলের পায়েও ধরেছি শুধু সম্পর্কটা রাখার জন্য।

আমার কিচ্ছু ভালো লাগেনা এখন। খেতে পারিনা, ঘুমাতে পারিনা। কী করবো আমি? আমার পড়াশোনাও শেষ।

সব শেষে আমি ওকেই চাই। আমাকে যদি একটু হেল্প করেন আমি অনেক উপকৃত হতাম।

📮 মনচিঠি টেক্সট-৪১ এর উত্তর

আপনি বর্তমানে খুব কঠিন একটি পরিস্থিতিতে যাচ্ছেন। আপনার এই মুহূর্তে এই ধরনের চিন্তা আসাটাই স্বাভাবিক।

আপনার এই পরিস্থিতিতে যে চিন্তাগুলো আসছে সেগুলো আপনার জন্য কতটুকু উপকারী বা ক্ষতিকর সে বিষয় নিয়ে আপনি cost benefit analysis করতে পারেন। এক্ষেত্রে আপনি যার কথা ভাবছেন বা যে সম্পর্কটিতে আবার যেতে চাচ্ছেন সেটার advantage বা disadvantage chart করতে পারেন।

যেহেতু আপনি একজনের সাথে একটি সম্পর্কে attached ছিলেন সেহেতু আপনি খুব কষ্টে আছেন যা আপনাকে মানসিকভাবে বির্পযস্ত করে তুলছে, যা আপনার দৈনন্দিন কাজগুলোকে ব্যাহত করছে।

নিজেকে ভালো রাখার জন্য আপনার নিজের সম্পর্কে ইতিবাচক কথা বলতে পারেন। যেমন- আমি একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, আমি একজন সাহসী মানুষ ইত্যাদি।

আপনার জীবনের accomplishment-গুলোর তালিকা করতে পারেন। আপনার গুণাবলী ও দক্ষতার তালিকা তৈরি করতে পারেন।

নিজের বিষয়ে mindful, now and here এ মনোযোগ দিতে পারেন।

ঘুমের সমস্যার জন্য sleep hygiene মেইন্টেন করতে পারেন। নিজের সাথে self care এর মাধ্যমে সময় দিতে পারেন।

সর্বপরি, আপনি যদি মনে করনে আপনার মানসিকভাবে ভাল থাকাটা গুরুত্বপূর্ণ আপনি mental health professional, psychologist এর সহায়তা নিতে পারেন।

ধন্যবাদান্তে,
মারিয়া জামান (২১-০৫-৪৭)
পিয়ার কাউন্সেলর, মনচিঠি by DUOS
mariazaman58@gmail.com

📞 ভয়েস কলে কাউন্সেলিং/মানসিক স্বাস্থ্য পরামর্শ পেতে এখানে ক্লিক করে ফরমটি পূরণ করতে হবে।

☎️ হটলাইন নম্বরে ফোনকলের মাধ্যমে মানসিক স্বাস্থ্য পরামর্শ পাওয়ার নম্বরগুলো জানতে এই লিঙ্কে ক্লিক করতে হবে।

👩‍⚕️ এ ছাড়াও ইমেইল আইডি, ফেসবুক পেজ এবং সেলফোন নম্বরে যোগাযোগ করে মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা পাওয়া যাবেঃ

👍 ফেসবুক পেজ (ক্লিক করুন)
💬 ফেসবুক মেসেঞ্জার (ক্লিক করুন)
📞 সেলফোন নম্বর : 01841 21 52 71
📧 ইমেইল আইডি : monchithi.duos@gmail.com

🌐 বিস্তারিতঃ www.duos.org.bd/monchithi

বিশেষ করে ওদের কাপল ছবি দেখতে দেখতে

📮 মনচিঠি টেক্সট ৪০ (প্রেরকের সম্মতিতে প্রকাশিত)

আমার একটা রিলেশনশিপ ছিলো ৩ বছরের উপরে, গত নভেম্বরে ভেঙে গিয়েছে। চিট করেছে বহুবার তারপরও মাফ করে দিছি কিন্তু এবার আর পারিনাই।

ও অন্য একটা মেয়ের সাথে রিলেশন এ গেছে। আমার মেনে নিতে একটু কঠিন হচ্ছে। বিশেষ করে ওদের কাপল ছবি দেখতে দেখতে।

আমার কারো সাথেও শেয়ার করতেও ভালো লাগেনা। কেউ আমার সাথে এ ব্যাপারে কথা বলতে আসলেও কষ্ট হয়।

কী করবো আমি? ঘুমাতেও পারিনা ঠিকভাবে, পড়তেও পারিনা।

💌  মনচিঠি টেক্সট ৪০ এর উত্তরঃ

ধন্যবাদ আপনাকে আপনার ইস্যুটি ‘মনচিঠি’র সাথে শেয়ার করার জন্য এবং মনচিঠি পরিবারে সাহায্য চাওয়ার জন্য।

আপনি যদি আরেকটু বিস্তারিতভাবে ইস্যুটি বলতেন, তাহলে আমার বুঝতে এবং আপনাকে সাহায্য করতে একটু সুবিধা হতো। তবে এই মুহূর্তে আমি আপনার পাশে থেকে আপনাকে সাহায্য করার চেষ্টা করছি।

আপনার সাথে আপনার ভালোবাসার মানুষটির তিন বছরের সম্পর্ক ছিল। বেশ কয়েকবার প্রতারিত হয়েছিলেন। তারপরও আবেগ এবং ভালোবাসার টানে মাফ করেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি আরেকজন মেয়ের সাথে সম্পর্ক করেছেন।

এরকম অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাওয়াটা বেশ কষ্টকর। আপনি যাকে ভালোবেসেছিলেন, বিশ্বাস করেছিলেন এবং তার সাথে আবেগীয় সম্পর্ক ছিল, সেই মানুষটিই যদি আপনার অগোচরে, আপনার অবর্তমানে বা আপনার পেছনে বিশ্বাসঘাতকতার কাজ করেন ব্যাপারটি মেনে নেওয়া এবং এর সাথে খাপ খাওয়ানো বেশ কষ্টকর এবং কঠিন হয়ে পড়ে।

আমি বুঝতে পারছি, আপনি তাকে ভীষণ ভালোবাসতেন। তবে একজন শুভাকাঙ্ক্ষী হিসেবে আমি আপনাকে বলবো, আপনি কি এখন নিজেকে ভালোবাসতে শুরু করতে পারেন? নিজের প্রতি কি প্রেমময়, মমতাবান হতে পারেন? আমরা সবার জন্য নিজেকে উজাড় করি, স্যাক্রিফাইস করি, কিন্তু নিজের জন্য কিছু সময় বা কিছু জায়গা যা শুধুই আমার, সেখানে একান্তভাবে আমিই থাকবো, এমন কিছু কাজও নিজের জন্য করা দরকার। নিজের ভেতরে নিজেকে কিছু ভালোবাসা দিয়ে রাখলে দেখবেন অন্যকেও ভালোবাসতে শুরু করেছেন যাকে বলা হয় empathy (empathy for self and others).  

ভালোবাসার মানুষটি যদি না ও থাকে, বা সে আপনাকে জড়িয়ে ধরে নাইবা ভালোবাসে আপনি কিন্তু দুহাত দিয়ে জড়িয়ে ধরে আপনাকে কিছুটা ভালোবাসতে বা আদর, মায়া করতে পারেন। এটি মানসিকভাবে ভালো থাকার এক্সারসাইজ। বড় বড় নিঃশ্বাস কিছুক্ষণ ধরে রেখে তারপর ছেড়ে দেবার পর প্রতিদিন এই এক্সারসাইজ করলে দেখবেন মন থেকে ফুরফুরে এবং আনন্দ লাগছে। ভালোবাসা শুধু একজনের জন্য নয়। এই অনুভূতিটি অনুপম এবং বিস্তৃত। তাই নিজেকে ভালোবাসতে শিখুন।

নিজের শরীর এবং মনের যত্ন নিন। পুস্টিকর খাবার এবং নিয়মিত পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করুন। শারীরিকভাবে ভালো থাকলে কিন্তু তার প্রতিফলন মানসিকভাবেও পড়ে। মেজাজ ফুরফুরে রাখতে, একটু ফ্রিহ্যান্ড এক্সারসাইজ এবং হাটাচলাও করতে পারেন।

বলছিলেন, ঠিকঠাক মতো ঘুমাতে পারছেন না। প্রতিদিন এখন থেকে চেষ্টা করুন নির্দিষ্ট একই সময়ে ঘুমাতে যাবেন এবং ঘুম থেকে উঠবেন। ঘুমাতে যাবার এক বা আধঘন্টা আগে সকল ল্যাপটপ, মোবাইল বা এই জাতীয় গ্যাজেট বন্ধ করে রাখবেন। এতে আমাদের মস্তিষ্ক খুব বেশি উত্তেজিত হবে না। ঘুমানোর আগে হালকা কুসুম গরম দুধ খেতে পারেন, একটু ‘ডিপ ব্রেথিং এক্সারসাইজ ‘ করতে পারেন (উপরে  বর্ণিত)। এতে মন এবং শরীর সতেজ লাগবে।  

একটি ‘To Do list’ করবেন যে, এই মুহূর্তে কোন কাজটি করতেই হবে, এভাবে একসপ্তাহ বা ৫/৬ দিনের জন্য তালিকা করুন কাজের। সব থেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ থেকে কম গুরুত্বপূর্ণ কাজের দিকে আসবেন প্রতিটি কাজ শেষ করার পরে কাগজের পাশে সেই নামটি কেটে দিবেন এবং খেয়াল করবেন আপনার অনুভূতি কেমন হচ্ছে। ব্যাপারটি পড়াশোনার ক্ষেত্রেও ব্যবহার করুন।

আমরা যদি প্রতিদিন বেশিরভাগ সময় বর্তমানে মনোনিবেশ করতে পারি তাহলে আমাদের সময় এবং কাজের সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে পারি। ভবিষ্যৎ আমাদের হাতে নেই। আর অতীত পার হয়ে গেছে। অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে বর্তমানে তা কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যৎকে সুন্দর করতে পারি। অতীতের কষ্টগুলোকে মুছে ফেলার চেস্টা না করে একে আপনার জীবনে পাশে রাখুন এবং আপনার জীবনের কাজগুলো করতে থাকুন।

আর যখন খুব কষ্ট হবে, কিছু কাউকে বলতে পারছেন না তখন একটি সাদা কাগজে মনের ভেতরের সকল কথা খুলে লিখুন। লেখা শেষ হলে পুড়িয়ে নস্ট করে ফেলুন চিঠিটি। দেখবেন অনেক হালকা লাগছে নিজেকে। আর আপনার সাথে সেই ছেলেটির রিলেশনশিপ ব্রেকাপ হয়েছে বেশ অনেকদিন আগে। সেইসময় এবং এখনকার অনেক ফারাক। সেই আপনি আর এই আপনির মাঝেও প্রার্থক্য অনেক। তাই বর্তমানে বাঁচুন মন খুলে।

ছেলেটির প্রতি আপনার যে ভালোবাসা তা কিন্তু আপনারই অস্তিত্ব। তাই নিজের অস্তিত্বের জন্য পূর্ণাঙ্গভাবে বাঁচুন।

আপনি চাইলে ‘মনচিঠি’ তে ভয়েস কল কিংবা হটলাইনেও মানসিক সেবা নিতে পারেন। আপনার জন্য শুভকামনা রইলো।

ধন্যবাদান্তে,
তানজিনা জাকির
২১-০৫-৪৩, পিয়ার কাউন্সেলর, মনচিঠি by DUOS
24tanzina.z@gmail.com

📞 ভয়েস কলে কাউন্সেলিং/মানসিক স্বাস্থ্য পরামর্শ পেতে এখানে ক্লিক করে ফরমটি পূরণ করতে হবে।

👩‍⚕️ এ ছাড়াও ইমেইল আইডি, ফেসবুক পেজ এবং সেলফোন নম্বরে যোগাযোগ করে মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা পাওয়া যাবেঃ

👍 ফেসবুক পেজ (ক্লিক করুন)
💬 ফেসবুক মেসেঞ্জার (ক্লিক করুন)
📞 সেলফোন নম্বর : 01841 21 52 71
📧 ইমেইল আইডি : monchithi.duos@gmail.com

🌐 বিস্তারিতঃ www.duos.org.bd/monchithi