📮 আমি সবার সাথে মিশতে পারি না তাই আমার বন্ধু কম

💌 মনচিঠি টেক্সট-১৮

ছোট থেকেই আমি চুপচাপ স্বভাবের। মা নেই। আমার যখন ১১ মাস বয়স ছিল তখন তিনি আত্মহত্যা করে মারা যান। তবে এখন সৎ মা আছে। মা মারা যাবার পর থেকে দাদির কাছে বড় হয়েছি। সব সময় আব্বুর থেকে দূরে থাকতাম। তিনি একটু রগচটা ছিলেন। খালি বকাবকি করতেন আমাকে নিয়ে। অনেক ভয় পেতাম তাকে। এখন আর তেমন পাই না।

★ আমার প্রাইমারি ও হাই স্কুলে থাকাকালীন সময়ে ২জন স্যার ছিল। যারা খুব মেরেছে আমাকে। এখনও স্বপ্নও দেখি তাদের নিয়ে। স্বপ্নের ভিতরে আমার ক্লাস নিচ্ছে আর মারছে। স্বপ্নগুলো অনেক দিন ধরে দেখি।
★ আমি অল্পতে রেগে যাই। বাট যার প্রতি রাগি তাকে কিছু বলতে পারিনা।
★ আমি অল্প কথা বলি বাট বলতে শুরু করলে অনেক দ্রুত বলি।
★ আমি সহজেই মানুষ বিশ্বাস করি আর প্রতারিত হই বেশি।
★ আমি আমার ব্যর্থতাকে মেনে নিতে পারিনা।
★ আমি সবার সাথে মিশতে পারি না। তাই আমার বন্ধু কম।
★ নেপোটিজমের স্বীকার হয়েছি অনেকবার।

📮 মনচিঠি টেক্সট-১৮ এর উত্তর

আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি, আপনি আপনার কষ্টগুলো আমাদের সম্মানিত কাউন্সিলর ও পিয়ার কাউন্সিলরদের সাথে শেয়ার করেছেন।

আপনি আপনার পরিবারের সবার বড়। আমি খুবই আনন্দিত যে, আপনি অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন, আপনার বিভিন্ন পরীক্ষার রেজাল্টে আমি দেখতে পেলাম যা অনেকেরই আজও সাধনা।

বিভিন্ন উদ্দীপনামূলক কাজের আগ্রহ দেখে আমি অভীভূত যে, আপনি অনেক সৃষ্টিশীল যা ভবিষ্যতে আপনাকে অনেক ভালো যায়গায় স্থান পাওয়ার সুযোগ বয়ে আনতে সাহায্য করবে। আল্লাহ আপনাকে অনেক সাহায্য করেছেন এবং আপনি অনেক উৎসাহী যার ফলশ্রুতিতে আপনার বিভিন্ন প্রাপ্তিগুলো।

আপনি উল্লেখ করেছেন ছোটবেলা থেকেই আপনি চুপচাপ। আপনার মা আত্মহত্যা করে মারা গিয়েছেন, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। আপনি আপনার দাদীর কাছে বড় হয়েছেন, যা পরম আদরের। আপনি যদি আপনার সৎ মায়ের ভূমিকাগুলো উল্লেখ করতেন তাহলে আমার জন্য কিছু বিষয় স্পষ্ট হতো আপনাকে সহায়তা করার জন্য।

ছোটবেলা হলো শিশুদের মেধা বিকাশের গুরুত্বপূর্ণ সময়, তাই প্রত্যেক বাবা-মা ই চায় তার সন্তান সুন্দর একটি পরিবেশে সাবলীলভাবে বেড়ে উঠুক। তাই স্নেহের সাথে শাসনটা ও অতি জরুরি, যা আপনার বাবার আচরণের বহিঃপ্রকাশ। এখন তো আপনি অনেক বড় হয়েছেন, বাস্তবতা শিখেছেন তাহলে এখন আর কেন ভয় পাবেন, আলহামদুলিল্লাহ আপনার ভয় দূর হয়েছে।

আসলে কী জানেন, আমাদের সকল কল্পনাই আমাদের স্বপ্ন। কারণ যখন আমরা সবাই ঘুমিয়ে যাই তখন আমাদের স্নায়ু কোষগুলো সকল গুরুত্বপূর্ণ তথ্য লিপিবদ্ধ করে রাখে। আপনার উপরোক্ত ঘটনায় বর্নিত হয়েছে আপনি আপনার অতীতের স্মৃতিগুলো বিভিন্ন সময়ে বিভিন্নভাবে মনে করেন, তাই আপনার অতীত আপনাকে এখনো নাড়া দেয়।

আপনি বলেছেন যে, আপনি অল্পতেই রেগে যান তবে আপনার ভালো গুণ হলো যার সাথে রেগে যান তাকে কিছু বলেন না অর্থাৎ তর্কে জড়ান না, যা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। মনোবিজ্ঞানীরা যদিও বলছেন রাগ একটি স্বাভাবিক আবেগ। কিন্তু এই রাগ ক্ষতির কারণ হয়েও দেখা দিতে পারে। তার প্রভাব পড়তে পারে ব্যক্তি জীবন, সামাজিক ও পেশাগত জীবনে। এমনকি স্বাস্থ্যের ওপরও রাগের নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

তাই ওই মূহুর্তে আপনি কিছু কাজ করতে পারেন যেমন, যে জায়গাটিতে রেগে যাওয়ার মতো কিছু ঘটেছে সেখান থেকে সরে যাওয়া। যার ওপরে রাগ হয়েছে তার কাছ থেকে সরে যাওয়া। তার সাথে তখনই নয়, বরং খানিক পরে কথা বলা। হাতের কাছে যদি বরফ থাকে তাহলে তা হাত দিয়ে ধরে থাকা। বরফ মেজাজ শীতল করতেও সহায়তা করে।”যদি সম্ভব হয় যে কাপড়ে আছেন তাতেই গোসল করে ফেলুন। নিশ্বাসের একটি ব্যায়াম করে দেখতে পারেন। সেটি করার পদ্ধতি হল, রাগ থেকে মনটাকে সরিয়ে নিশ্বাসের দিকে মনোযোগ দেয়া। বুক ভরে গভীর নিশ্বাস নেয়া, সেটাকে কিছুক্ষণ ধরে থাকা, কিছুক্ষণ পর বাতাস ছেড়ে দেয়া। সেটি রাগ কমাতে সাহায্য করে।”

অল্প কথা বলা ভালো যা আপনার কথাবার্তায় বিচক্ষণতার পরিচয় বহন করে তবে দ্রুত কথা বলা বর্জন করা উচিত কেননা তাতে অনেক কথা গোপন থেকে যায় মনের অজান্তেই। আর আপনি প্রথমেই বলেছেন আপনি চুপচাপ স্বভাবের তাই অল্প কথা বলা আপনার জন্য অত্যন্ত স্বাভাবিক।

‘বিশ্বাসে মিলায় বস্তু আর তর্কে বহুদূর’ এ কথাটি আমরা সবাই জানি। তাই বিশ্বাস করা দরকার তবে একজন পরিনত বয়সের পুরুষ হিসেবে অবশ্যই ভালো/মন্দ যাচাই করার পরে যে কোনো বিষয়ে আস্থা রাখতে পারেন, যাতে করে প্রতারিত হবার সম্ভাবনা অনেকাংশে কমে যায়।

দেখুন, এত সুন্দর ও রঙিন পৃথিবীতে আমরা সবাই চাই সফল হতে। তাই সফল হতে হলে যে ব্রত ও পরিশ্রম নিয়ে কাজ করা উচিত আপনাকে সেভাবেই এগিয়ে যেতে হবে। তবে সকল ক্ষেত্রে আপনি সফল হবেন এই ধারনা ভুল, কারন আপনি যদি ব্যর্থই না হন তবে সফলতা কী করে ছিনিয়ে আনবেন! তাই ভালো কাজের দিকে মনোনিবেশ করুন এবং নিজের চেষ্টা অব্যাহত রাখুন, অবশ্যই সফল হবেন।

আপনি ছিলেন পরিবারের সবার বড়, তবে উল্লেখ করেননি আপনার আরো দুই ভাই/বোনের সাথে আপনার সম্পর্ক কেমন? আপনার বর্ণনা থেকে বোঝা যায়, যেহেতু আপনার মা মারা গিয়েছিলো এবং আপনার বাবার সাথেও একটি সমৃদ্ধ সম্পর্ক গড়ে উঠেনি এবং আপনি বড় হয়েছেন আপনার দাদীর কাছে তাই একটি বন্ধুসুলভ পরিবেশ আপনার কাছে অপরিচিত। কারন আপনার মেধা বিকাশের পুরো সময়টা কেটেছে আপনার দাদীর সাথে এবং একাকী। এখন আপনি যেহেতু হলে অবস্থান করছেন তাই মুক্ত মন নিয়ে সবার সাথে মিশুন এবং নিজের কষ্টগুলো শেয়ার করুন। নিজের ইতিবাচক দিকগুলো নিয়ে সজাগ দৃষ্টি রাখুন।

সর্বশেষে আপনি উল্লেখ করেছেন যে, আপনি নেপোটিজমের শিকার হয়েছেন অনেকবার, আমি অত্যন্ত দুঃখিত কারন আপনি উল্লেখ করেননি কী ধরনের নেপোটিজমের শিকার হয়েছেন আপনি? নেপোটিজম বলতে সাধারনত আত্মীয়দের প্রভাব খাটিয়ে কোন কাজ করা বুঝায়। তার স্বাধীনতাকে খর্ব করে অন্যের মতে চাপিয়ে দেওয়া। আবার এটাও হতে পারে ভালো স্কুলে আত্মীয় কারো প্রভাবে ভর্তি হওয়া। যেখানে মেধার মূল্যায়ন কম।

আপনার সর্বোচ্চ সফলতা কামনা করছি। ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন এবং নিরাপদে বাসায় থাকুন।

তানজিলা রহমান তমা
০৯, পিয়ার কাউন্সেলর, মনচিঠি, ডিইউওএস
tanzilarahman95t@gmail.com

💌 অনলাইন চিঠি ও উত্তরের (টেক্সট) মাধ্যমে মানসিক স্বাস্থ্য পরামর্শ পেতে এখানে ক্লিক করে ‘মনচিঠি’তে লিখতে হবে।

📞 ভয়েস কলে কাউন্সেলিং/মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা পেতে এখানে ক্লিক করে ফরমটি পূরণ করতে হবে।

☎️ হটলাইন নম্বরে ফোনকলের মাধ্যমে মানসিক স্বাস্থ্য পরামর্শ পাওয়ার নম্বরগুলো জানতে এই লিঙ্কে ক্লিক করতে হবে।

👩‍⚕️ এ ছাড়াও ইমেইল আইডি, ফেসবুক পেজ এবং সেলফোন নম্বরে যোগাযোগ করে মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা পাওয়া যাবেঃ

👍 ফেসবুক পেজ (ক্লিক করুন)
💬 ফেসবুক মেসেঞ্জার (ক্লিক করুন)
📞 সেলফোন নম্বর : 01841 21 52 71
📧 ইমেইল আইডি : monchithi.duos@gmail.com

🌐 বিস্তারিতঃ www.duos.org.bd/monchithi

সংগঠনে কেন যুক্ত হব?

প্রতিটি কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়েই আছে সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। অনেকে নিশ্চয়ই যুক্ত আছেন এমন বিভিন্ন দলের সঙ্গে। আবার অনেক শিক্ষার্থী মনে করেন, ক্লাব বা সংগঠনে কাজ করা মানে সময় নষ্ট, পড়ালেখার ক্ষতি। সত্যিই কি তাই?

অন্যদের চেয়ে আলাদা

বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা কেন সংগঠনে যুক্ত হবেন? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কালচারাল সোসাইটির মডারেটর সাবরিনা সুলতানা চৌধুরীর মতে, ‘সুস্থ সংগঠনগুলোতে চর্চার মাধ্যমে ইতিবাচক গুণাবলি তৈরি হয়। দায়িত্বশীলতা বাড়ে। নেতৃত্বগুণ তৈরি হয়। ধরুন, একটা সাংস্কৃতিক সংগঠনের কর্মী হয়তো নাচ-গান-আবৃত্তি কিছুই জানে না, দেখবেন তবু সে একজন “সংগঠন না করা” মানুষের চেয়ে আলাদা।’

বিভিন্ন সংগঠনে কাজ করেন রাজধানীর আপডেট ডেন্টাল কলেজের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ওসামা বিন নূর। কিছুদিন আগে যুক্তরাজ্যের রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের হাত থেকে ‘কুইন্স ইয়াং লিডারস অ্যাওয়ার্ড’ পাওয়া এই তরুণ বলেন, ‘নেতৃত্বের পুরো ব্যাপারটা আমি সংগঠন থেকে পেয়েছি।’ ওসামা মাদ্রাসায় পড়েছেন। তবে নেতৃত্বের জায়গায় নিজেকে তৈরি করেছেন জাগো, বিওয়াইএলসিসহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থেকে। তাঁর মতে, ‘মতামত জানানো, প্রোগ্রামের বাজেট তৈরি, স্পনসর জোগাড় করা—এসব করতে করতে অবচেতনে একটা প্রশিক্ষণ হয়ে যায়, যেটা পেশাজীবনে কাজে আসে।’

‘সংগঠনে জড়িত থাকার ফলে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাস-দূত হিসেবেও কাজ করার সুযোগ মেলে।’ এমন যুক্তি তুলে ধরে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) বিতর্ক ক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক তানসিফ আনজার বলেন, ‘পড়াশোনা ও সহশিক্ষা কার্যক্রম একে অপরের সহায়ক।’

প্রতিটি ক্লাব বা সংগঠনের মৌলিক বিষয় একই। যেমন সবার মতকে শ্রদ্ধা করা, সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করা। এমনটাই বিশ্বাস করেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটারবিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও রোবটিকস ক্লাবের উপদেষ্টা মো. খলিলুর রহমান। তিনি বলেন, ‘যারা কম্পিউটার বা রোবট ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত, তারা নতুন কিছু সৃষ্টির আনন্দ উপভোগের সুযোগ পায়।’

উচ্চশিক্ষায় বাড়তি সুবিধা

উচ্চশিক্ষায় সংগঠন বা সহশিক্ষা কার্যক্রমে যুক্ত শিক্ষার্থীরা অগ্রাধিকার পান। এর বড় প্রমাণ হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র তারিক আদনান মুন। ফেসবুক মেসেঞ্জারে তাঁর সঙ্গে কথা হলো। বললেন, ‘আমার ভর্তির ক্ষেত্রে গণিত অলিম্পিয়াডের সাফল্য খুব সাহায্য করেছে। এ ছাড়া বিতর্ক সংগঠনসহ বিভিন্ন দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। সেগুলোকেও ভর্তির সময় বিবেচনায় নেওয়া হয়েছিল।’

তাঁর কাছে জানা গেল, যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলো খুব গুরুত্বের সঙ্গে শ্রেণি–বহির্ভূত কার্যক্রমের বিষয়টি আমলে নেয়, বিশেষ করে স্নাতক পর্যায়ে ভর্তির সময়। কারণ স্নাতক পর্যায়ে যাঁরা ভর্তির জন্য আবেদন করেন, তাঁদের ফলাফলসহ আইইএলটিএস বা টোয়েফল কোর্সের স্কোর প্রায় সমান থাকে। তখন নেতৃত্বগুণ আছে কি না, পাঠ্যবইয়ের বাইরে সামাজিক অন্য কোনো কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত ছিলেন কি না, এসব গুরুত্ব দেওয়া হয়।

নির্ভয়ে সবার সামনে

সাব্বির আহমেদের কথাই ধরা যাক। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ছাত্র একটি প্রতিষ্ঠানে ইন্টার্নি হিসেবে যোগ দিতে আবেদনপত্র জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি তাঁর জীবনবৃত্তান্ত দেখে জানাল, ‘ইন্টার্নি নয়। আমরা তোমাকে চাকরি দিতে চাই!’

কেন? শোনা যাক সাব্বিরের কাছেই, ‘আমি বিভিন্ন সংগঠনে নেতৃত্বের জায়গায় ছিলাম। যোগাযোগ, মানুষকে বোঝানোর দক্ষতা—এসব তো আগে থেকেই শেখা আছে। তাই চাকরি পেতে সমস্যা হয়নি।’ শুধু সাব্বির নন, এমন উদাহরণ আছে আরও। যেমন বিতর্ক সংগঠনসহ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনে কাজের অভিজ্ঞতা ছিল ৩১তম বিসিএস পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকারী ফারহানা জাহানের। সংগঠনে জড়িত থাকার ফলও পেয়েছেন তিনি বিসিএস মৌখিক পরীক্ষার সময়। বলছিলেন, ‘ভাইভা বোর্ডে নার্ভাসনেস দূর করতে এটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কারণ, সংগঠন করলে সব সময় মানুষের সঙ্গেই কাজ করতে হয়, কথা বলতে হয়, বোঝাতে হয়।’

মানতে হবে সময়ের ভারসাম্য

প্রতিটি সংগঠনের নিয়মিত কার্যক্রম থাকে। সংগঠনের কাজে সময় দিতে গিয়ে কি পড়াশোনার ক্ষতি হয়? নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী মেহজাবিন হাই, ‘আমার হয় না। কারণ আমি ভারসাম্য রক্ষা করে চলি। নিজের মতো করে সময় ভাগ করে নিই।’

কেমন সংগঠনে যুক্ত হব?

কে কী ধরনের সংগঠনে যুক্ত হবে, বিষয়টি নিজের পছন্দের ওপর নির্ভর করে। কেউ বিতর্ক করবে, কেউ আলোকচিত্রী হবে, কেউ আবার মূকাভিনয় কিংবা রোবটিকস ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত হবে। আবৃত্তির সংগঠন, নাটকের দল…নানা দিকেই মানুষের আকর্ষণ থাকতে পারে। বলছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সাবরিনা সুলতানা চৌধুরী। তিনি যোগ করেন, ‘যে সংগঠন আমাদের পরিবার, ধর্ম, সমাজ—সর্বোপরি দেশের জন্য সাংঘর্ষিক নয়, নিশ্চয়ই এমন সংগঠনেই জড়াতে হবে।’

সংগঠনগুলোকে অনুদান দেওয়া হচ্ছে

আসাদুজ্জামান নূর, সংস্কৃতিমন্ত্রী

বিশ্ববিদ্যালয়ে কিংবা স্থানীয়ভাবে গড়ে ওঠা সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোকে আমরা সব সময় উৎসাহিত করি। সারা দেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা সংগঠনগুলোকে আমরা একটা নেটওয়ার্কের মধ্যে নিয়ে আসতে চাই। সবাই যেন গুছিয়ে কাজ করতে পারে।
এখন সংগঠনগুলোকে অনুদান দেওয়া হচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আমরা অনুদান দিয়েছি, যেন তারা তাদের কার্যক্রম আরও এগিয়ে নিতে পারে। যেহেতু অনুদান দেওয়া হচ্ছে, আমরা চাই সংগঠনগুলোর মধ্যে জবাবদিহির জায়গা তৈরি হোক। আশা করছি, সামনের দিনে তারা আরও ভালো ভালো কাজ করবে।

সংগঠনের ছায়ায় ব্যক্তি নিজেকে বিকশিত করতে পারে

সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
লেখক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক

সংগঠন মানুষকে সহনশীলতা শেখায়, একসঙ্গে কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করে। গত শতকের ষাট-সত্তরের দশক অবধি আমাদের দেশের সাংস্কৃতিক পরিসর ছিল একরকম—পড়ার সংস্কৃতি ছিল, খেলাধুলার সংস্কৃতি ছিল। পাড়ায় পাড়ায় ছিল গ্রন্থাগার। তখনকার সংগঠন বা সংঘগুলো আবর্তিত হতো এ বিষয়গুলো ঘিরে। সুনির্দিষ্ট কিছু মূল্যবোধের ভিত্তিতে তারা তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করত। পরে স্বাধীনতা-উত্তরকালে নব্য ধনবাদের উত্থান আমাদের মূল্যবোধগুলোকে প্রচণ্ডভাবে ঝাঁকুনি দিল। সেই সঙ্গে বিনষ্ট রাজনীতি, নগরায়ণ—এই প্রপঞ্চসমূহ সংগঠনের ভিত্তিকে দিনে দিনে ভোঁতা করে তুলল। আজ মানুষের মধ্যে যে অসহিষ্ণুতা, অস্থিরতা—এগুলো দূর হতে পারে সুস্থ সংস্কৃতির বিকাশের মাধ্যমে, শুভময় সংগঠনে নিজেকে নিয়োজিত করার মাধ্যমে। ভালো কোনো সংগঠন—সে সাংস্কৃতিক, ক্রীড়াকেন্দ্রিক—যা-ই হোক না কেন, তার নির্দিষ্ট মূল্যবোধ বা আদর্শ থাকে। সেই সংগঠনের ছায়ায় দাঁড়িয়ে ব্যক্তি যেমন নিজেকে বিকশিত করতে পারে, তেমনি সামাজিক সুস্থতাও আসতে পারে এই উপায়ে।

লেখক : সজীব মিয়া
সূত্র : প্রথম আলো

📮 আমার যোগ্যতা নিয়ে হীনমন্যতায় থাকি

💌 মনচিঠি-১১ (টেক্সট)

প্রথমেই বলে রাখি আমার যোগ্যতা নিয়ে হীনমন্যতায় থাকি।

৫ বছরের প্রেমের আকস্মিক সমাপ্তি, পারিবারিক অনটন, মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়া কাজে খেই হারিয়ে ফেলা কিংবা প্রতিদিন অন্তত দুই-তিন বার হস্তমৈথুন সবমিলিয়ে সামগ্রিকভাবে ডিপ্রেশন ভর করেছে।

আর্থিক অনটন কিংবা মেজাজ হারানো যার ফলে মনোযোগ হারাচ্ছি৷ কোন কাজে মন বসছেনা।

যা পড়ছি তা মনে রাখা সম্ভব হচ্ছেনা, যা দেখছি তাও স্মরণে থাকছেনা। নিজের ক্যারিয়ার, পরিবারের হাল ধরার বিষয়গুলো মাথায় এলে কিছুই করতে পারিনা।

আমি ইদানীং লোকচক্ষুর আড়ালে থাকার চেষ্টা করছি। আমি জানিনা কিসে শান্তি পাবো।

ইনসমনিয়ার ফলে দিনকে দিন সবকিছুতে মনযোগ হারাচ্ছি। ১০ মিনিট ইংরেজি/বাংলা পত্রিকা পড়া, গানশুনা কিছুতেই গাঢ়োভাবে মনযোগ রাখা যাচ্ছেনা।

আমি একটা পজিটিভ লাইফ লিড করতে চাই কিন্তু দেখা যাচ্ছে এটা সম্ভব হচ্ছেনা আমার ব্যর্থতার জন্য।

খাদ্যাভাস, চরিত্র, পার্সোনালিটি সব বদলাতে চাই, ইতিবাচকভাবে বাচতে চাই। নিজের যোগ্যতার অবমূল্যায়ন থেকে নিস্তার চাই।

📮 মনচিঠি টেক্সট-১১ এর উত্তর

প্রথমে আপনাকে অনেক ধন্যবাদ যে আপনি আমাদের কাছে চিঠি লিখেছেন এবং আপনি প্রডাক্টিভ জীবন যাপন করতে চাচ্ছেন।

আমাদের জীবনে যেকোন সম্পর্কের বিচ্ছেদই অনেক কষ্টের। আপনার ৫ বছরের সম্পক হঠাৎ বিচ্ছেদ হয়ে গেসে, আমি আপনার কষ্টটা অনুভব করতে পারছি। আপনার চিঠি থেকে বুঝতে পারলাম আপনার এই সম্পর্কটা আপনার কলেজ জীবনের। আপনি আপনার আশে-পাশে একটু লক্ষ্য করলে দেখবেন আপনার মত অনেকেই আছে, কলেজ জীবনের সম্পর্কগুলোর সফলতার হার খুবই কম।

আমি বুঝতে পারছি আপনার তার সাথে আবেগীয় ব্যাপার জড়িত, আমাদের সুখ-দুঃখগুলো আমাদের নিজের। আপনার শরীরের কোথাও কেটে গেলে আপনারই রক্ত বের হবে, তেমনি আপনি আপনার জিফের কথা মনে করে কষ্ট আপনারই ক্ষতি হবে, আপনার প্রডাকটিভিটি নষ্ট হবে।

আপনি Masturbation এ আসক্ত, মানুষ যখন হতাশায় থাকে তখন Masturbation করে, যখন আপনি Masturbation করেন তখন আপনার ব্রেনে ডোপামিন নামক এক ধরনের Chemical Release হয়, ডোপামিনের কাজ হলো আমাদের ভাল একটা অনুভূতি দেয়া। অতিরিক্ত Masttbation ফলে মনোযোগের ঘাটতি (যা আপনার আছে) দেখা দেয়, শারীরিক দূর্বলতা, কোন কাজে আনন্দ না পাওয়াসহ আরও সমস্যা দেখা দেয়। আপনি নিচের ভিডিওটা দেখতে পারেন।

আমাদের যখন Parasympathetic Nervous System Activity বেশি থাকে তখন আমাদের মধ্য একটা অস্থিরতা কাজ করে, তখন আমাদের মাঝে খারাপ লাগা কাজ করে, সেই অস্থিরতা দূর করার জন্য আমাদের মাঝে Masturbation করার আগ্রহ আসতে পারে, তাই নিচের লিংকের Exercise টা অবশ্যই অবশ্যই করবেন। যা কিনা আপনার ভালো ঘুমের জন্যও ঔষধ হিসেবে কাজ করবে। তাই ঘুমানের আগে Exercise টা করবেন।

আপনি বলেছেন আপনার জীবনে পজিটিভ কিছু নাই। আপনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছেন যা কি না অনেকের স্বপ্ন থাকে, আপনি আপনার স্বপ্ন পুরনের একটা ধাপ পুরন করেছেন, এখন আপনি আপনার বাকি স্বপ্নগুলোও পুরন করতে পারবেন, আপনার মাঝে সেই যোগ্যতা আছে। আপনার দৃঢ় মনোবলই পারে আপনার সেই লক্ষ্য পৌঁছে দিতে।

আপনি প্রতিদিন আপনার ব্যক্তিগত ডায়েরিতে আপনার জীবনে ঘটে যাওয়া ৩ টি পজিটিভ দিক লিখে রাখবেন। যেমন- আমি যোগ্য, আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যাবিদ্যালয়ে পড়াশুনা করছি।


উপরের Indfulness Exercise-গুলো করবেন, যা আপনার মনোযোগের ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করবে।

ঘুমের জন্য PMR Exercise (Progressive Muscular Relaxation) করবেন।


দেরিতে চিঠির উওর দেয়ার জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখিত, আশা করি আমার লিখাগুলো কিছুটা হলেও আপনার উপকারে আসবে। আপনি একজন মনোবিজ্ঞানীর সাথে যোগাযোগ করতে পারেন, যিনি আপনার সমস্যা শুনে কিভাবে আপনার জীবনকে আরও সুন্দর করা যায় সে ব্যাপারে আপনাকে সাহায্য করবে।

Dhaka University Optimistic Society always beside you, Thank you. Just believe yourself you will lead a better life. Best of luck.

ওয়াহিদ আরিফ
২৭, পিয়ার কাউন্সেলর, মনচিঠি, ডিইউওএস
wahid4arif@gmail.com

💌 অনলাইন চিঠি ও উত্তরের (টেক্সট) মাধ্যমে মানসিক স্বাস্থ্য পরামর্শ পেতে এখানে ক্লিক করে ‘মনচিঠি’তে লিখতে হবে।

📞 ভয়েস কলে কাউন্সেলিং/মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা পেতে এখানে ক্লিক করে ফরমটি পূরণ করতে হবে।

☎️ হটলাইন নম্বরে ফোনকলের মাধ্যমে মানসিক স্বাস্থ্য পরামর্শ পাওয়ার নম্বরগুলো জানতে এই লিঙ্কে ক্লিক করতে হবে।

👩‍⚕️ এ ছাড়াও ইমেইল আইডি, ফেসবুক পেজ এবং সেলফোন নম্বরে যোগাযোগ করে মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা পাওয়া যাবেঃ

👍 ফেসবুক পেজ (ক্লিক করুন)
💬 ফেসবুক মেসেঞ্জার (ক্লিক করুন)
📞 সেলফোন নম্বর : 01841 21 52 71
📧 ইমেইল আইডি : monchithi.duos@gmail.com

🌐 বিস্তারিতঃ www.duos.org.bd/monchithi

কাউকে সুইসাইডাল মনে হলে আমাদের করনীয়

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী সুইসাইড করার আগে তার টাইমলাইনে পোস্টগুলো দিয়ে গিয়েছে। খেয়াল করে দেখুন, মৃত্যুর আগে প্রতিটা মুহুর্তে সে জানান দিয়ে গেছে যে, সে চরম ডিপ্রেশানে আছে। আত্মহত্যা করতে চলেছে। কেউ-কেউ হয়তো তাকে ফালতু এটেনশান সিকার ভেবে উড়িয়ে দিয়েছেন। আর কেউ-কেউ হয়তো বিষয়টাকে গুরুত্ব দিয়েছিলেন। কিন্তু বুঝে উঠতে পারেন নি যে কিভাবে তাকে সাহায্য করবেন। অনেকে হয়তো তাকে উপদেশ, পরামর্শ, নানা ধরণের ধর্মীয় ব্যাখ্যা দিয়ে বোঝানোর চেষ্টা করেছেন।

কিন্তু সবার আগে আমাদেরকে বোঝার দরকার ‘ডিপ্রেশান’ একটি মারাত্বক সাইকোলজিক্যাল ডিসঅর্ডার। যেটা শুধু মানসিক না শারীরিকভাবেও আপনাকে দুর্বল করে দেবে৷ এটার বিভিন্ন স্টেজ রয়েছে। সাধারণ খারাপ লাগা বা প্রাথমিক স্টেজের ডিপ্রেশান অনেকের আপনা-আপনি ঠিক হয়ে যায়। কারণ, শরীরের রোগ প্রতিরোধ করতে আমাদের যেমন নিজস্ব ইমিউনিটি সিস্টেম আছে। মানসিক অসুখ থেকে সুস্থ হতেও আমাদের আছে মানসিক শক্তি। অনেকেই স্ট্রং পার্সোনালিটির জোরে কিংবা প্রাইমারি স্টেজ থেকে আপনা-আপনি সুস্থ হয়ে উঠতে পারে৷ অথবা বন্ধু-পরিবারের সাপোর্ট, ধর্মীয় আচার অনুসরণ করে ঠিক হয়ে যায়।

কিন্তু আমাদের মনে রাখতে হবে সবাই মানসিকভাবে স্ট্রং না। আর কেউ যদি ডিপ্রেশানের সিরিয়াস স্টেজে পৌঁছে যায় তখন এসব সাধারণ উপদেশ-পরামর্শে তার জন্যে সেরে ওটা অনেক দুরূহ হয়ে ওঠে। আর সে সময়ে একজন এক্সপার্টের হেল্প তার জন্য অবধারিত হয়ে ওঠে। তখনও যদি তাকে হেল্প করা না যায় তাহলে সেটার শেষ পরিণতিই হলো আজকের এই ঘটনা৷

মানসিক অসুখের উপরে বিশেষজ্ঞ সাধারণত ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট এবং কাউন্সেলিং সাইকোলজিস্ট। কিংবা সাইকিয়াট্রিস্ট। তারা সাইন্টিফিক ওয়েতে মানুষের মানসিক অবস্থা মেজার করেন। আর সে অনুযায়ী চিকিৎসা প্রদান করেন। শরীর যেমন একটি সত্ত্বা মনও একটি সত্ত্বা। শরীরের যেমন অসুখ হয় মনেরও ঠিক তেমনি অসুখ হয়৷ সেটাকে কোনোভাবেই অবজ্ঞা করার সুযোগ নেই।

হ্যাঁ, সবাই যে মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞের কাছে গেলেই সুস্থ হয়ে উঠবে এমনটা বলা একদমই টিক হবে না। মনে রাখবেন ডাক্তাররাও কিন্তু সব রোগীকে সেইভ করতে পারেন না। কিন্তু চেষ্টা তো করেন। এর মানে তো এই না যে আপনি সুস্থ হবেন কিনা সেই দ্বন্দ্বে ডাক্তারের কাছেই যাবেন না।

অনেকেই আপনাকে যুক্তি দেবে এসব মানসিক অসুখ-টসুখ ফালতু কথা। সাইকোলজি-টাইকোলজি সব ভাঁওতাবাজি। এসব করে কিচ্ছু হবে না।

এখন ধরুন বাজারে আপনি একটি পণ্য কিনতে গিয়েছেন। রাস্তায় একজন পরিচিত লোকের সাথে দেখা হলো। সে আপনাকে বললো, এইসব জিনিস কিনো না। এইগুলাতে কাজ হবে না। আবার অন্য আর একজন বললো, ওমুকের দোকান থেকে নিও না। জিনিস ভালো না। এখন দোকানে গিয়ে দেখলেন হয়তো আসলেই জিনিসটা খুব কাজের না, মানও হয়তো মোটামুটি। কিন্তু যা আছে তাতে আপনার কাজ বেশ ভালো মতোই হবে৷ তাহলে আপনি যদি মানুষের কথা শুনে বাজারে না যেতেন তাহলে কী বুঝতে পারতেন?

মনে রাখবেন বেশিরভাগ মানুষ যারা সাইকোলজিস্টের কাছে যেতে নিরুৎসাহিত করে তারা নিজেরাই কখনো সেখানে যায়নি। বা সঠিক স্থানে যায়নি। এটা কোনোভাবে অস্বীকার করা যাবে না যে, আমাদের দেশে অনেক অদক্ষ মানুষও এই প্রফেশনে ঢুকে মানুষকে প্রতারিত করছে৷ কারণ, আমাদের দেশে এই বিষয়ে সরকারের কোনো সুনির্দিষ্ট নীতিমালা নেই।

তারপরেও বলবো আমাদের দেশে ও অনেক যোগ্য ব্যক্তি এই প্রফেশনে অবদান রাখছেন। আপনারা তাদের কাছে সেবা গ্রহণ করুন। এর জন্য অনেক বেশি প্রচারণা আর গণসচেতনতা গড়ে তোলা প্রয়োজন। আর আশে-পাশে এই ছেলের মতো যাদের সিভিয়ার মানসিক সমস্যা তাদেরকে সাইকোলজিক্যাল হেল্প নিতে উৎসাহিত করুন। দয়া করে সিরিয়াস কান্ডিশানের পেশেন্টকে নিজেরা কাউন্সেলিং করবেন না। এতে হিতের বিপরীত হতে পারে।

ফাহিম পারভেজ দীপ্ত
বিএসসি (অনার্স)
মনোবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
fahim.dipto@gmail.com

👩‍⚕️ মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা পেতে নিম্নের লিঙ্কে ক্লিক করতে পারেনঃ
www.duos.org.bd/monchithi

📮 Sometimes when i share my problems they make fun of myself

💌 12th Letter of Monchithi (Text)

My problems are given below:

1. As the pandemic has been lasting for 5 months my family is in financial crisis. And thats why we borrow some money from some people. My father earn little so he can’t bear our (3 siblings) educational expenditure sometime. But as i’m studying in DU i have some tuition so i can bear my bear my all expenditure. And sometimes i take money from my father. But right now my father is debt to other people so he can’t help me anymore as he told me. So right now i have to earn my own to feed myself. I can’t even think whether i will be able to bear my expenditure if i have no tuition.

2. I’m introvert in nature so i can’t easily make friends. Sometimes i think i’ve a best friend but then i realize that she/he doesn’t think that i’m his/her best friend. Sometimes when i share my problems they make fun of myself. So i feel alone for this…

So those 2 are my problems. I can’t sleep well when i start to think about those. It wIll be better if you give me some solution so that i can get rid of those 2 problems.

📮 Reply of 12th Monchithi (Text)

First of all, you are most welcome for sharing your issues to us. “Sharing and seeking for help” is the most important and vital steps to solve or deal with problems.

And, You did it successfully. As you have mentioned, your family is suffering from financial crisis due to covid-19 situation. And you are feeling uncertainty about your family and your educational costs. Actually, it’s a bitter truth that a lot of people around us are going through this situation at this moment.

I have noticed a good thing you said, you have some tuitions and from these you can bear your expenditure. And i see, you are in tensed as your father said, he won’t be able to help you due to his short income. I can understand that you are worried about your future expenditure if you lose your tuitions.

I want to tell you, many people are going through this critical situation and you are one of them. This type of situation becomes more oppressive when we give excessive focus on our past or future rather than present. Only thinking about uncertain future Won’t give any solution rather anxiety.

As you said, you are educated, you have tuitions, you are doing your job perfectly this time, you and your family are still cured from covid-19. And I see, you are a careful person about yourself and your family.

You also defined yourself as an introvert person. Introvert is just a personality type. You said, you have limited friends and you can’t share your problems with them. I understand, this make you feel lonely. You might not find someone trustworthy and friendly enough, Does it mean, you will never find someone friendly and trustworthy? when I see, you are an honest person to trust others. Sometimes it takes time to make good friendship. Before that, Can you be your friend first? Can you acknowledge your own feelings and thoughts? Which all are yours. You can share your feelings and thoughts to the trusted person you found in your life or may be with your family members.

You have achieved a glorious academic qualification carrying with this introvert nature. Perhaps you may lose something in your life. Besides this, you have achieved a lot of things. Can you just take a look back to your life to see which side is more heavier. Your achievement or loss? And finally to make an effective communication focus on yourself, how you are feeling, what you want, express it with a positive appealing way.

You can make some mistakes. Keep in mind, How much time you spend in a day to think about others? Calculate the time. And this least period of time others spend to think about you.

Hope, you may find something helpful from this. Wish you a better future. Thank you.

Mr. Shariful Islam
28, Peer Counselor, Monchithi, DUOS
sharifulislam199599@gmail.com

💌 অনলাইন চিঠি ও উত্তরের (টেক্সট) মাধ্যমে মানসিক স্বাস্থ্য পরামর্শ পেতে এখানে ক্লিক করে ‘মনচিঠি’তে লিখতে হবে।

📞 ভয়েস কলে কাউন্সেলিং/মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা পেতে এখানে ক্লিক করে ফরমটি পূরণ করতে হবে।

☎️ হটলাইন নম্বরে ফোনকলের মাধ্যমে মানসিক স্বাস্থ্য পরামর্শ পাওয়ার নম্বরগুলো জানতে এই লিঙ্কে ক্লিক করতে হবে।

👩‍⚕️ এ ছাড়াও ইমেইল আইডি, ফেসবুক পেজ এবং সেলফোন নম্বরে যোগাযোগ করে মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা পাওয়া যাবেঃ

👍 ফেসবুক পেজ (ক্লিক করুন)
💬 ফেসবুক মেসেঞ্জার (ক্লিক করুন)
📞 সেলফোন নম্বর : 01841 21 52 71
📧 ইমেইল আইডি : monchithi.duos@gmail.com

🌐 বিস্তারিতঃ www.duos.org.bd/monchithi

বিনামূল্যে অনলাইনে মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা দিচ্ছে ঢাবি অপটিমিসটিক সোসাইটির ‘মনচিঠি’

করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে বাসাবন্দি সময়ে মানসিক চাপ, উদ্বেগ, হতাশা, ভীতি ও আতঙ্কের মাঝে অনলাইনে বিনামূল্যে মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা দিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অপটিমিসটিক সোসাইটি ‘মনচিঠি’ শিরোনামে ২০২০ সালের মে মাসে এই বিভাগটি চালু করেছে।

অনলাইনে মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তার সেকশন ‘মনচিঠি’র সুপারভাইজর হিসেবে আছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এডুকেশনাল & কাউন্সেলিং সাইকোলজি বিভাগের চেয়ারপার্সন এবং টিএসসির ছাত্র নির্দেশনা ও পরামর্শদান দপ্তরের পরিচালক, একই সাথে ক্লাবটির মডারেটর প্রফেসর ড. মেহজাবীন হক।

ঢাবি অপটিমিসটিক সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা এবং ‘মনচিঠি’র সমন্বয়কারী মুখলিসুর রহমান মাহিন জানান, লকডাউনে অনেকদিন ঘরবন্দি থাকা বা সামাজিক দূরত্বের নিয়ম মানতে গিয়ে অনেকের মাঝেই মানসিক চাপ তৈরি হচ্ছে। নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ হারানো এমনকি মৃত্যু আতঙ্কও তৈরি হচ্ছে। অনেকেই আবার পড়ালেখায় পিছিয়ে পড়া, চাকরি হারানো, ব্যবসায়িক মন্দা বা উপার্জন হারানোর দুশ্চিন্তায় ভুগছেন। ‘মনচিঠি’ তাদের মানসিকভাবে উজ্জীবিত করে প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবেলার সক্ষমতা বৃদ্ধির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

ক্লাবটির সভাপতি ইমতিয়াজ খান আসিফ বলেন, আমরা আশা রাখি; যারা আমাদের ‘মনচিঠিপ্ল্যাটফর্ম থেকে মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা নিচ্ছেন তারা সামান্য হলেও মানসিক চাপ কাটিয়ে উঠে ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী হয়ে উঠছেন।

সাধারণ সম্পাদক ফারহানা খান রিতু জানান, অনলাইনে মানসিক সহায়তার জন্য তৈরি গুগল ফরম পূরণ করে ভয়েস কল এবং লিখিত উত্তরের মাধ্যমে আমরা মানসিক সহায়তা দিচ্ছি। এছাড়া ক্লাবের ইমেইল আইডি, ফেসবুক পেইজ এবং সেলফোন নম্বরসহ যেকোনভাবে মানসিক চাপ/দুশ্চিন্তা/সমস্যার কথা জানালে ‘মনচিঠি’র দক্ষ কাউন্সেলর টিম আন্তরিকতার সাথে শোনেন এবং যত্নের সাথে পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইকোলজি, এডুকেশনাল & কাউন্সেলিং সাইকোলজি এবং ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীরা ‘মনচিঠির কাউন্সেলর এবং পিয়ার কাউন্সেলর হিসেবে কাজ করছেন।

করোনাভাইরাস পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও অনলাইনে বিনামূল্যে মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা বিষয়ক ‘মনচিঠি’ বিভাগটি বছরব্যাপী চালু থাকবে।

সহায়তা প্রত্যাশীরা নিজেদের সকল তথ্য গোপন রেখেও ‘মনচিঠি’তে তাদের সমস্যার কথা জানাতে পারবেন।

‘মনচিঠি’তে দেয়া মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা প্রত্যাশী সকলের তথ্যই নিরাপদ।

💌 অনলাইন চিঠি ও উত্তরের (টেক্সট) মাধ্যমে মানসিক স্বাস্থ্য পরামর্শ পেতে এখানে ক্লিক করে ‘মনচিঠি’তে লিখতে হবে।

📞 ভয়েস কলে কাউন্সেলিং/মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা পেতে এখানে ক্লিক করে ফরমটি পূরণ করতে হবে।

☎️ হটলাইন নম্বরে ফোনকলের মাধ্যমে মানসিক স্বাস্থ্য পরামর্শ পেতে এই লিঙ্কে ক্লিক করতে হবে।

👩‍⚕️ এ ছাড়াও ইমেইল আইডি, ফেসবুক পেজ এবং সেলফোন নম্বরে যোগাযোগ করে মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা পাওয়া যাবেঃ

👍 ফেসবুক পেজ (ক্লিক করুন)
💬 ফেসবুক মেসেঞ্জার (ক্লিক করুন)
📞 সেলফোন নম্বর : 01841 21 52 71
📧 ইমেইল আইডি : monchithi.duos@gmail.com

🌐 বিস্তারিতঃ www.duos.org.bd/monchithi

‘ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্সের’ চর্চা করে আবেগ নিয়ন্ত্রণ

শিক্ষা, দক্ষতা, বুদ্ধিমত্তা এ সবকিছু থাকার পরও একটি মানুষ নেতৃস্থানীয় পদে আসীন হয়ে অসফল হতে পারে, যদি না তার নিজের আবেগ, চাপ ও আশেপাশের মানুষের আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করে ইতিবাচক শক্তিতে পরিচালিত করতে না পারে। ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্সের এই নতুন ধারনাটি আমাদের মাঝে ১৯৯০ সালে নিয়ে আসেন আমেরিকার দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞানের দুই অধ্যাপক, জন ডি মায়ের ও পিটার সালোভে।

তবে এ নিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনা শুরু হয় তারও বছর দশেক পরে। বাংলাদেশে বিভিন্ন পর্যায়ে নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন এমন অনেকে আছেন যারা তাদের আবেগ, চাপ সবকিছু নানা প্রতিকূলতার মাঝেও নিয়ন্ত্রণ করে দলবল সঙ্গী করে বিশ্বের কাছে নিজেদের তুলে ধরেছেন।

বাংলাদেশ এই মুহূর্তে যে কটি দুর্যোগের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হচ্ছে তার একটি হলো, কোন রোল মডেল না থাকা। কিন্তু সার্বিকভাবে বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের কাছে কেউ যদি থেকে থাকে তবে তিনি সাকিব আল হাসান।

সাকিবই বিশ্বের প্রথম যিনি তিন ধরনের ক্রিকেটেই অলরাউন্ডার হিসেবে ঘোষিত হন, যা একটি বিরল দৃষ্টান্ত। সম্প্রতি ক্রিকেট বিষয়ক মাসিক পত্রিকা উইজডেন তাকে এক দিনের ক্রিকেটে শতাব্দীর দ্বিতীয় সেরা ক্রিকেটার হিসেবে ঘোষণা করেছে।

সাকিব আল-হাসান

আন্তর্জাতিক ক্রীড়া জগতে সাকিব দেশের জন্য যে পরিমাণ সম্মান নিয়ে এসেছেন তা আজ পর্যন্ত কেউ করেনি বললে ভুল হবে না। কিন্তু কীভাবে সমস্ত চাপ, দুশ্চিন্তা প্রতিকূলতাকে পাড়ি দিয়ে নিজের পারফরমেন্স দেখানোর পাশাপাশি সতীর্থদেরকেও সঙ্গে করে এই পর্যায়ে আসা- প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, তার জন্য যে কোন চাপ একধরনের উৎসাহ হিসেবে কাজ করে।

”আমাকে চ্যালেঞ্জ করা হলে আমি আরো উদ্দীপনা অনুভব করি। আর এর থেকে উতরে আসার একমাত্র উপায় নিজের পারফরম্যান্স দেখানো। আমি জানি আমার উদ্দেশ্য কী। আর সেই লক্ষ্যে আমি কাজ করে যাই,” তিনি বলেন।

মাত্র সতের বছর বয়সে তার জীবনের মোড় ঘুরে যায় যখন একদিন তার কোচ তাকে বলে, কাল থেকে আর হাত খরচের টাকা বাসা থেকে নিও না! সেদিন থেকে আজ পর্যন্ত সাকিব বাসা থেকে কোন আর্থিক সাহায্য নেন নি।

বরং ওই কিশোর বয়সেই বুঝে গিয়েছিলেন- তাকে তার ও তার পরিবারের দায়িত্ব নিতে হবে। এরপর বাকিটা ইতিহাস!

তার পরিবার, বন্ধুরা তার জন্য একটি নি:শ্বাস নেয়ার জায়গা, যেখানে কেউ তার সঙ্গে ক্রিকেট নিয়ে কথা বলে না। তিনি পত্রিকা পড়েন না। পাবলিক ফিগার হিসেবে অনলাইন ট্রোলিং বা বুলিং তাকে প্রভাবিত করে কিনা প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ”মানুষ কী ভাবে তাও যদি আমি ভাবি তাহলে মানুষ কী ভাববে!”

ঠাণ্ডা মাথায় কঠিন সিদ্ধান্ত

সাকিবকে সবসময় শুধু ঠাণ্ডা মাথায় কঠিন সব সিদ্ধান্ত নিতে দেখা যায় তাই নয়, নিজেকে, দলকে এবং দেশকে প্রতিনিধিত্ব করার ক্ষেত্রে তিনি সম্ভবত সবচেয়ে বেশি সুশীল। এই গুণ তিনি কীভাবে রপ্ত করছেন জানাতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ”আন্তর্জাতিক অঙ্গনে খেলার সুযোগ সবচেয়ে বেশি আমারই হয়েছে যেমন কাউন্টি বা আইপিএলে খেলা। এই পরিবেশ আমাকে অনেক কিছু শিখিয়েছে।”

সবসময় ইতিবাচক চিন্তা করা সাকিব যেন এক জীবনে সবকিছু পেয়েছেন। সেই তিনি কিছুদিন আগে তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় ধাক্কাটিও পেয়েছেন। ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল তাকে এক বছরের জন্য ক্রিকেট থেকে সাময়িক বরখাস্ত করে।

”আমার মনের জোর অনেক বেশি। এই ঘটনার পর আমাকে দেখে আমার আশেপাশের মানুষের বোঝার ক্ষমতা নেই আমার সঙ্গে কী হয়েছে। আমি যেকোনো সময় আমার জীবনকে শূন্য থেকে শুরু করার সাহস রাখি,” তিনি বলেন।

”আমি বিশ্বাস করি যতক্ষণ পর্যন্ত শারীরিকভাবে সুস্থ আছি, আমার আবার সবকিছু নতুন করে শুরু করতে পারবো। আগে হয়ত ভাবনা ছিল আর তিন বছর খেলবো। কিন্তু এই ঘটনা আমাকে সাহস যুগিয়েছে, এখন আমি আরো পাঁচ বছর খেলবো,” বলেন সাকিব আল-হাসান।

ইয়াসির আজমান

এই বছরের শুরুতে প্রথমবারের মতো একজন বাংলাদেশিকে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ করলো গ্রামীণফোন, যা কিনা পৃথিবীর অন্যতম সফল টেলিকম সংস্থা টেলেনর এর অঙ্গ সংগঠন। কোন বাংলাদেশির প্রধান নির্বাহী হওয়া নিয়ে এতোটা হইচই আগে কখনো হয়নি, যতোটা হয়েছে ইয়াসির আজমানকে নিয়ে।

টেলিকমিউনিকেশনের মতো প্রযুক্তি নির্ভর, তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা পূর্ণ, প্রতিনিয়ত পরিবর্তনের মুখোমুখি একটি বৈদেশিক সংস্থার প্রধান-এর পদ তিনি নিজেকে কী কী গুণের কারণে জয় করেছেন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ”আমি সবসময় মানুষের ব্যাপারে আগ্রহী, নতুন কিছু শেখার ব্যাপারে আগ্রহী, সেই সঙ্গে চেষ্টা করি উদ্দেশ্য ঠিক করে মানুষের সঙ্গে সমষ্টিগত মেলবন্ধন তৈরি করতে যা আমাকে সবসময় সাহায্য করেছে।”

ডিস্ট্রিবিউশন মডেল পুনর্বিন্যাস প্রকল্প

ইয়াসির আজমান জীবনে অনেকটা সময় ব্যয় করেছেন পৃথিবীর বিভিন্ন নেতাদের জীবনী পড়ে। তিনি চেষ্টা করেন তার আশেপাশের ছোট হোক বড় হোক সবাইকে সমান গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে। যা তাকে সাহায্য করে প্রতিটি মানুষকে দৃষ্টিসীমানার মাঝে তাদের দেখতে – যেখানে কেউ ছোট-বড় নয়।

পারস্পরিক সেই শ্রদ্ধাবোধ তখন কাজের গুণগত মানকে আরো অনেক বেশি বাড়তে সাহায্য করে তার জন্য।

দু’হাজার সাত-আট সালের দিকে প্রায় ৫০০-৬০০ সহকর্মীকে সঙ্গে নিয়ে গ্রামীনফোনের ডিস্ট্রিবিউশন মডেলের পুনর্বিন্যাস প্রকল্পের নেতৃত্ব দেন তিনি। প্রকল্পটি এতোটাই গুরুত্বপূর্ণ ছিল যে তা সফল না হলে গ্রামীনফোন প্রতিদ্বন্দ্বীদের থেকে পিছিয়ে যেত। মাত্র ছ’সাত মাসে সবাইকে নিয়ে এক অসাধ্য সাধান করেন তিনি।

তৎকালীন প্রধান নির্বাহী তাকে ব্যক্তিগতভাবে পুরস্কৃত করতে চাইলেন। কিন্তু তিনি তা নিলেন না। তিনি মনে করেছিলেন এটি প্রজেক্টের সঙ্গে জড়িত প্রতিটি কর্মীর জয়।

তবে তার সেই নেতৃত্বই হয়ত আজ তাকে প্রতিষ্ঠানের প্রধান হতে সাহায্য করেছে। আর তার জন্য পরিশ্রমের পাশাপাশি প্রস্তুতির কোন বিকল্প নেই বলে তিনি মনে করেন। সেই ক্ষেত্রে ওয়ার্ক লাইফ ব্যালেন্স করা জানাতে পারাও অনেক জরুরি।

মানুষের ক্ষমতা অপরিসীম বলে মনে করেন ইয়াসির আজমান। তিনি নিজেও এখনো প্রতিদিন নতুন কিছু শেখার চেষ্টা করেন। নতুনদের সঙ্গে কথা বলতে, কাজ করতে তা খুবই জরুরি। বিশেষ করে এই করোনার সময়ে যখন বইয়ের ভাণ্ডার পুরনো কথা বলে, অনলাইনে তখন প্রতিদিন অন্তত দু’টো লেখা পড়েন বর্তমান সময়ের পৃথিবীকে নিয়ে।

হাসিন জাহান

প্রায় ত০ বছর ধরে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিয়ে আসছে নারীরা। এটি পৃথিবীর একমাত্র দেশ যেখানে সরকার, বিরোধী দল এবং সংসদের স্পিকার একজন নারী। তা সত্ত্বেও সামগ্রিকভাবে নারী নেতৃত্ব এখনও অনেক দূরের বিষয় বাংলাদেশে।

বাংলাদেশে খুব কম নারীই কর্পোরেট বা সামাজিক উন্নয়ন জগতে নেতৃত্বে উঠে এসেছেন। তাদেরই একজন আন্তর্জাতিক এনজিও ওয়াটার এইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর হাসিন জাহান।

ব্যক্তিগত আর পেশাগত জীবন আলাদা

পারিবারিক দিক থেকে কোন সহযোগিতা ছাড়াই যিনি নিজেকে নিয়ে এসেছেন এ পর্যায়ে। কিন্তু তা তিনি কীভাবে পেরে উঠছেন জানতে চাওয়া হলে বলেন, যদিও মানুষের আবেগ থাকাই স্বাভাবিক, তিনি তার ব্যক্তিগত জীবনকে বা তার কোন সমস্যাকে পেশাগত জীবনে কোন প্রভাব ফেলতে দেন নাই।

”বরং অনেক পুরুষের চাইতেও অনেক কঠিন সিদ্ধান্ত আমি নিতে পারি,” তিনি বলেন।

হাসিন জাহান যেকোনো বিষয়েই প্রচুর প্রস্তুতি নেয়ার প্রয়োজন মনে করেন। তিনি মনে করেন পরবর্তী প্রজন্ম জ্ঞানের দিক থেকে আরো বেশি অগ্রসর হয়ে থাকবে। মনোযোগ, উপস্থিত বুদ্ধি এইসব কিছুর সঙ্গে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি যদি থাকে তবেই সাফল্য সম্ভব।

”জীবনে সবকিছুতে জিততে হবে এমন মানসিকতা না থাকাই ভালো। মাঝে মাঝে ব্যর্থতারও দরকার আছে। বরং না পাওয়ার কথা ভেবে যা পেয়েছে তাই নিয়ে কৃতজ্ঞ হলে প্রাপ্তির আনন্দ উপভোগ করা সম্ভব,” বলেন হাসিন জাহান।

শেহজাদ মুনিম

কর্পোরেট জগতে যদি কোন প্রতিষ্ঠানের নাম নিতে হয়, তবে সবার আগে নাম আসে ব্রিটিশ আমেরিকান টোবাকোর। ইম্পেরিয়াল টোবাকো নামে পূর্বপরিচিত এ প্রতিষ্ঠানটি গত ১১০ বছর ধরে এই অঞ্চলে শুধু ব্যবসা করে আসছে তাই নয়, কর্মক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি দক্ষ কর্মী উপহার দেয়ার কৃতিত্বও তাদের।

এই প্রতিষ্ঠানটি শুরু থেকে বিদেশীদের নেতৃত্বেই চলে আসছিল। তবে মাত্র ৩৮ বছর বয়সে এই চিত্রটি পাল্টে দেন শেহজাদ মুনিম ২০১৩ সালে।

এই রোল মডেল হীন এমনি একটি সময় সম্প্রতি তিনি অতিবাহিত করে চলেছেন। লক-ডাউনের সময় তার কারখানা খোলা রেখেছেন সমস্ত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে। নিজে দাঁড়িয়ে থেকেছেন কারাখানায় শ্রমিকদের মাঝে।

এমনকি ঈদের দিনের রাতের খাবারও তিনি খেয়েছেন কারাখানায় শ্রমিকদের সঙ্গে বসে অন্যান্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে। কাউকেই তার চাকরি থেকে ছাঁটাই করতে হয়নি।

ফজর থেকে দিন শুরু

ভালো মানুষদের সবসময় নিজের চারপাশে ধরে রাখা, উদ্দেশ্য ঠিক রাখা এবং মন মানসিকতাকে সংকীর্ণ না রাখা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন ব্রিটিশ আমেরিকান টোবাকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক শেহজাদ মুনিম।

”জীবনে রোল মডেল থাকা অনেক প্রয়োজনীয়। যাকে অনুসরণ করা যায়। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের জীবনে রোল মডেলের পরিবর্তন ঘটে। আবার এমন এক সময় আসে যখন সেক্ষেত্রে কোন রোল মডেল খুঁজে পাওয়া যায় না যাকে অনুসরণ করে সিদ্ধান্ত নেয়া যায়। সেক্ষেত্রে উদ্দেশ্য খুব পরিষ্কার থাকা উচিত.” মি. মুনিম বলেন।

নিজের আবেগ, অনুভূতি, মনোযোগকে নিয়ন্ত্রণের মূলমন্ত্র জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন তার ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রয়োগের কথা। পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়তে গিয়ে তিনি উপলব্ধি করেন এর ভিন্ন একটি দিক।

”একটু লক্ষ্য করলে দেখা যাবে ফজর থেকে যোহর অনেক লম্বা সময়। এই সময়টায় দেরী করে ঘুম থেকে না উঠে ফজর থেকেই দিন শুরু করা উচিত,” তিনি বলেন।

”আমাদের মস্তিষ্কও তখন সর্ব্বোচ্চ পর্যায়ে সক্রিয় থাকে। যা জরুরি সকল কাজে মনোযোগ দিতে সাহায্য করে।

”বিকেলে আসরের পর সহকর্মীদের সঙ্গে কিছুটা সময় কাটানো, যা সামাজিক নৈকট্য তৈরি করে। মাগরিবের পর কোনভাবেই অফিসে না থাকা। বরং পরিবারকে সময় দেয়া, বলেন শেহজাদ মুনিম।

এ কে এম আব্দুল কাইয়ুম

পৃথিবীতে অন্যতম বিপদজনক ও চাপ প্রয়োগকারী পেশা হলো বিমানের পাইলট। শুনতে যতটা আকর্ষণীয় মনে হয় এই পেশা ততটাই সতর্কতা গ্রহণের চাহিদা নিয়ে আসে। আর তার জন্য চাই প্রতিটি মুহূর্তের শতভাগ মনোযোগ।

কারণ এখানে শুধু নিজের নয়, বহ মানুষের জীবন জড়িত একজন পাইলটের হতে। আর তাই নিরবিচ্ছিন্নভাবে বহু ঘণ্টা ধরে মনোযোগ ধরে রেখে বিভিন্ন প্রতিকূলতাকে পাড়ি দেয়া এতো সহজ নয়।

”এই পেশায় সফল হতে গেলে কাউকে অবশ্যই কিছুটা বেশি বুদ্ধিমান, পরিপক্ব ও জ্ঞানী হওয়া প্রয়োজন যেকোনো সমস্যার গভীরতা বোঝার জন্য। তবে কে কীভাবে একটি সমস্যাকে সমাধান করবে তা ব্যক্তি নির্ভর,” বলেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের অবসরপ্রাপ্ত বৈমানিক এ কে এম আব্দুল কাইয়ুম।

স্ত্রীর ক্যান্সার

মানুষের ব্যক্তি বা পারিবারিক জীবনে অনেক সমস্যাই থাকে। কিন্তু তার মাঝেও বিমান নিয়ে উড়াল দিতে হয় একজন পাইলটকে।

”আমার স্ত্রী ক্যান্সারের রোগী ছিল। যেহেতু এটি দীর্ঘমেয়াদী রোগ তাই আমার পক্ষে সম্ভব ছিল না বারবার স্ত্রীর জন্য ছুটি নেয়া। এমনও হয়েছে স্ত্রীকে হাসপাতালে কেমো দিতে বা অপারেশন করতে পাঠিয়ে আমি অন্যদিকে বিমান নিয়ে রওয়ানা দিয়েছি। সমস্ত দুশ্চিন্তাকে সামাল দিয়েই তা করতে হয়েছে,” তিনি বলেন।

”বেশি দুশ্চিন্তা ফ্যাটিগ তৈরি করে। যা একবার হয়ে গেলে আর বিমান চালানো সম্ভব না। তাই যেকোনো পরিস্থিতিতেই মাথা ঠাণ্ডা রাখাই একমাত্র উপায়,” তিনি বলেন।

বৈমানিকদের এই মানসিক দক্ষতা বাড়ানোর জন্যই বিশ্বজুড়ে ‘ক্রু রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট’ বলে একটি কোর্স রয়েছে যা প্রতি দু’এক বছরেই করতে হয়। এছাড়াও আরো কিছু কোর্স রয়েছে যা প্রতি ছ’মাসে করতে হয়।

মি. কাইয়ুম বলেন, এই কোর্স শুরু করার এক সপ্তাহ আগে থেকেই তিনি পড়াশোনা শুরু করেন যাতে সবার সঙ্গে এগিয়ে থাকতে পারেন।

আমাদের দেশে হয়ত একজন শেহজাদ মুনিম, এ কে এম আব্দুল কাইয়ুম, হাসিন জাহান, ইয়াসির আজমান এবং সাকিব আল হাসানের মতো মানুষের সংখ্যা খুবই কম। কিন্তু কেউ যদি তাদের মতো করে নিজেদের ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্সকে চর্চা করে – তবে এই সংখ্যাটি বাড়তে অবশ্যই বেশি দিন লাগবে না, এইটুকু আশা আমরা করতেই পারি।

নওরীণ সুলতানা
লেখক, টরন্টো
সূত্রঃ বিবিসি বাংলা

📮 সারারাত না ঘুমিয়ে চলে যায়

💌 মনচিঠি-০৮ (টেক্সট)

আমার রাতে ঘুম হয় না। সারারাত না ঘুমিয়ে চলে যায়। বিকেলে যদি না ঘুমিয়ে খেলাধুলা করে ক্লান্ত হয়ে যাই তারপর সন্ধ্যায় ৩০/৪০ মিনিটের জন্য ঘুমাতে পারি। তার বেশি ঘুম হয় না। এই সমস্যা বিগত ২ বছর ধরে হচ্ছে। যদি সমাধান দেওয়া যায়, উপকৃত হবো।

📮 মনচিঠি টেক্সট-০৮ এর উত্তর

প্রথমেই আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি এখানে আপনার মতবাদ ব্যক্ত করার জন্য এবং খুব সংক্ষেপে স্পষ্ট করে নিজের বর্তমান পরিস্থিতি উল্লেখ করার জন্য।

আপনার লেখা থেকে যতটুকু বুঝতে পারছি যে আপনার মধ্যে কিছু ইনসমনিয়ার লক্ষণ আছে এবং আপনি প্রায় ২ বছর ধরে ভুগছেন। একজন মানুষের দৈনিক কত ঘন্টা ঘুমের প্রয়োজন হয় এর কোন সুনির্দিষ্ট উত্তর নেই, যেমন অনেকে রাতে অনেক কম ঘুমিয়েই পরের দিন বেশ সতেজ অনুভব করেন আবার কার কারো বেশি ঘুমের প্রয়োজন হয়।

ইনসমনিয়ার কিছু সাধারণ কারণঃ

১. স্ট্রেস
২. লম্বা সফর বা ট্রাভেল, অতিরিক্ত কাজের সময় কিংবা ওয়ার্ক শিডিউল
৩. ঘুমের অভ্যাস এবং এর ঘন ঘন পরিবর্তন হওয়া (টিভি দেখা, ভিডিও গেম, রাত জেগে ফোনে ব্যস্ত থাকা, পড়াশোনা করা ইত্যাদি।)

আপনার সুবিধার জন্য আমি স্লিপ হাইজিনের কিছু তথ্য শেয়ার করে সাহয্য করতে পারি।

ঘুম সহায়কঃ

১. প্রতিদিন কিছু শরীরচর্চা করা যেতে পারে (আপনি বিকালে খেলাধুলা করেন যা শরীরচর্চার অন্তর্ভুক্ত) কিন্তু তা অবশ্যই বিকালের দিকে করলে ভাল হয়। ঘুমানোর ২-৪ ঘণ্টা আগের সময়টাতে শারীরিক এক্সারসাইজ করলে ঘুম আসতে সমস্যা হতে পারে।
২. ঘুমাতে যাওয়ার প্রথম ১৫-২০ মিনিটের মধ্যে ঘুম না আসলে বিছানা থেকে উঠে গিয়ে রিলাক্সিং কোন কাজ করা যেতে পারে, পরে ঘুমভাব চলে এলে বিছানায় ফেরত যাওয়া যেতে পারে।
৩. প্রতিদিন ঘুমানোর জন্য একই সময়ে বিছানায় যাওয়া এবং ঘুম থেকে একই সময়ে জেগে ওঠা, এই অভ্যাসটি গড়ে তুললে ঘুমের যে নিয়মিত চক্র কিংবা স্লিপ সাইকেল রয়েছে তা নিয়মিত হয়ে যাবে।
৪. বিকাল কিংবা সন্ধ্যাবেলা ১-১.৫ ঘণ্টা ঘুমালে ( যা চিঠিতে উল্লেখ করেছিলেন যে আপনি প্রায় সন্ধ্যায় ৩০-৪০ মিনিট ঘুমান) রাতে শোয়ামাত্র ঘুম আসাটা একটু কঠিন হয়ে পড়ে।
৫. বিকালে কিংবা সন্ধ্যার নাস্তায় যদি ক্যাফেইন জাতীয় পানীয় পান করা হয় তবে রাতের ঘুমে তা বাধা প্রদান করতে পারে।
৬. যদি কেউ রেগুলার ঘুমের ওষুধ খায় তবে তা সাধারন ঘুমের সাইকেল ব্যাহত করে, ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ঘুমের ওষুধ খাওয়া নিরুৎসাহিত করা হল।
৭. ঘুমানোর ১-২ ঘন্টা আগে ভারী খাবার গ্রহণ করলে ঘুমে সমস্যা হতে পারে, বিছানায় যাওয়ার আগে হালকা স্ন্যাকস যেমন হালকা গরম দুধ পান করলে ঘুম আসতে সাহায্য করে।
৮. বিছানা শুধুমাত্র শোবার কাজে ব্যাবহার করুন এবং ঘুমাতে যাওয়ার এক ঘণ্টা আগে প্রয়োজনীয় সমস্ত হাতের কাজ সেরে ফেলুন।
৯. ব্রেদিং এক্সারসাইজ কিংবা শ্বাস প্রশ্বাস এর ব্যায়াম যাকে বলি, তা ঘুমানোর আগে ৩-৪ মিনিট সময় নিয়ে করলে আমাদের শরীর অনেকটা রিল্যাক্স হয়, ফুসফুসের কার্যকারিতা বাড়ে এবং মন মাইন্ডফুল থাকে যা আমাদের দুশ্চিন্তাগুলো থেকে ওই সময়টায় অনেকটা মুক্তি দেয়। ব্যায়ামটি করার পূর্বে নিজের শরীর কে শিথিল করুন, এরপর নাক দিয়ে ৪ সেকেন্ড ধরে লম্বা করে শ্বাস নিন (এমনভাবে শ্বাস নিন যেন কোনো ফুল থেকে নাক দিয়ে সুঘ্রাণ নিচ্ছেন) এবং ২-৩ সেকেন্ড যাবত শ্বাস আটকে রাখুন। এরপর মুখ দিয়ে ধীরে ধীরে ৩-৪ সেকেন্ড ধরে শ্বাস ত্যাগ করন (এমনভাবে শ্বাস ছাড়ুন যেন মোমবাতিতে ফু দিয়ে আগুন নেভাচ্ছেন)। আপনার এজমার সমস্যা থাকলে শ্বাস নেয়া এবং ছাড়ার সময়টুকু কমিয়ে আনতে পারেন আপনার সুবিধা মত। এই ব্যায়ামটি আপনার ব্যস্ত মস্তিস্কে আরাম দেবে এবং ধীরে ধীরে ঘুমের অতল রাজ্যে হারিয়ে যাবেন।

উপরের ঘুম সহায়ক নিয়মাবলী মেনে চলার পরেও যদি আপনি কোন উন্নতি দেখতে না পান তাহলে সম্ভবত আপনার ভেতরে এমন কোন জটিলতা তৈরী হয়েছে যা আপনি একা সমাধামন করতে পারছেন না। সেক্ষেত্রে আপনি কাউন্সেলর বা সাইকলজিস্ট কিংবা সাইকিয়াট্রিস্ট অথবা ঘুম বিশেষজ্ঞের কাছে পরামর্শ নিন। আপনার সমস্যার জট খুলে একে একে সমাধান করুন এবং আরাম করে ঘুমান।

মেহরিন মুস্তফা মুমু
৩১, পিয়ার কাউন্সেলর, মনচিঠি, ডিইউওএস
mehrinmostafa@gmail.com

💌 অনলাইন চিঠি ও উত্তরের মাধ্যমে বিনামূল্যে মানসিক স্বাস্থ্য পরামর্শ পেতে এখানে ক্লিক করে ‘মনচিঠি’তে লিখতে হবে।

📞 ভয়েস কলে বিনামূল্যে কাউন্সেলিং/মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা পেতে এখানে ক্লিক করে ফরমটি পূরণ করতে হবে।

☎️ হটলাইন নম্বরে ফোন করে বিনামূল্যে মানসিক স্বাস্থ্য পরামর্শ পেতে এই লিঙ্কে ক্লিক করতে হবে।

👩‍⚕️ এ ছাড়াও ইমেইল, ফেসবুক পেজ, সেলফোন নম্বরে যোগাযোগ করে বিনামূল্যে মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা নেয়া যাবেঃ

👍 ফেসবুক পেজ (ক্লিক করুন)
💬 ফেসবুক মেসেঞ্জার (ক্লিক করুন)
📞 সেলফোন নম্বর : 01841 21 52 71
📧 ইমেইল আইডি : monchithi.duos@gmail.com

🌐 বিস্তারিতঃ www.duos.org.bd/monchithi

📮 বারবার মনে হয় আমি মারা যাচ্ছি

💌 মনচিঠি-০৭ (টেক্সট)

২০১০ সাল। আমি তখন চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ি। আমার খুব কাছের বন্ধুর মা হঠাৎ করে মারা গেলেন। আন্টিকে আমি প্রায়শই স্কুলে দেখতাম, কথাও হতো। তার এরকম হঠাৎ মৃত্যুর ব্যাপারটা আমাকে বেশ নাড়া দিলো। আমি তখন ই প্রথমবারের মতো মৃত্যু নিয়ে গভীর চিন্তাভাবনা করতে শুরু করলাম। আর একটা জিনিস খুব শক্ত করে মাথায় গেঁথে গেলো- ‘আমাকেও একদিন মরে যেতে হবে!’

মাসখানেকের ব্যবধানে আমার মনের অবস্থার আকাশ-পাতাল পরিবর্তন হয়ে গেল। আমার সারাদিন ই মনে হতে থাকতো আমি মারা যাব। প্রত্যেকটা মুহূর্ত আমার এভাবে কাটতো। আমার আচরণে অনেক পরিবর্তনও আসে। আমি যেহেতু মুসলিম পরিবারের সন্তান, তাই আমি ধর্মীয় বিষয়টাকে কেন্দ্র করে ভাবতাম। আমি ভাবতাম- ‘পৃথিবীতে এই ১০ বছরে তো আমি অনেক পাপ করে ফেলেছি। এই পাপের শাস্তি তো অনেক! আর তাছাড়া আমাকে তো মরতে হবেই।’

একপর্যায়ে এমন মনে হতো যে- ‘আমি এখনই মারা যাবো! আমি কালই মারা যাবো!’ এই ভেবে প্রায় সব ছেড়ে দিয়েছিলাম প্রায়। মৃত্যুচিন্তা আমাকে সারাক্ষণ কষ্ট দিতো।

সেবার পরিবার, আত্মীয়স্বজন, স্কুল শিক্ষকদের সহযোগিতায় আমি সেরে উঠি। তারপর আর ওই চিন্তাটা প্রকটরূপ নেয় নি।

তবে ২০২০ সালে এসে করোনার প্রভাবে দীর্ঘ ৩ মাসের বেশি লকডাউনে থেকে এবং আতঙ্কের মধ্য দিয়ে দিন পার করতে করতে আমাকে অন্য সমস্যায় ধরে বসেছে।

তার আগে আমি আমার দুশ্চিন্তার কারণগুলো বলি-
• আমার জেলায় প্রথম থেকেই আক্রান্তের সংখ্যা বেশি
• প্রতিনিয়ত দেশের পরিস্থিতি খারাপ হচ্ছে, এমন অবস্থায় ভবিষ্যতে আমি এবং আমার পরিবার কিভাবে বাঁচবো- এই নিয়ে একটা চিন্তা
• আমার বাবা মালয়েশিয়া প্রবাসী। তাকে বাইরে কাজ করতে বের হতে হয়। তাকে নিয়েও আমি বেশ চিন্তগ্রস্থ থাকি।

এই সব কিছুর প্রভাবে (শারীরিক কিছু কারণও আছে বটে যেমনঃ রাতজাগা, গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা) রমজান মাসে একদিন সেহেরির পর আমার শরীর খারাপ করে। তখনকার শারীরিক ও মানসিক অবস্থা-
• বুক ধরফর করা (খুব বেশি না)
• শরীর অবশ হয়ে আসা
• গলা শুকিয়ে যাওয়া
• আর সবচেয়ে বেশি যেটা অনুভূত হওয়া- আমি এখনই মারা যাচ্ছি!

সেদিন সুস্থ হলেও প্রায় প্রতি রাতে ঘুমাতে যাওয়ার সময়ই আমাকে অজানা আতঙ্কে ধরে বসতে শুরু করে। বুকটা ধপাস করে উঠে আর মনে হয় – এখনই মারা যাবো! খুব ভয় করে তখন।

আমি ইন্টারনেটে খোঁজ করে জানতে পারি – এটা প্যানিক এটাকের মতো কিছু। তাই মেডিটেশন আর ইতিবাচক চিন্তা ভাবনা দিয়ে পরিস্থিতিটাকে সামাল দেওয়ার চেষ্টা করি। এভাবে কিছুদিন যাওয়ার পর ধীরে ধীরে সমস্যাটা কমতে থাকে। তবে ১/২ দিন পর পর সমস্যাটা কিছুটা হয়।

গতকয়েকদিন আগে থেকে আমি শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে যাই। এবং সাথে সাথে আবার সেই পুরোনো ‘ডেথ ফিয়ার’ সমস্যাটাও প্রকাশ পায়। অর্থাৎ, আমার ছোটখাটো শারীরিক সমস্যা ট্রিগার হিসেবে কাজ করে। যখন সমস্যাটা হয়, তখনকার মানসিক অবস্থা-
• হৃদস্পন্দন খুব দ্রুত না হলেও, কেমন যেন অস্বস্থি কাজ করে। দম বন্ধ হয়ে আসবে এমন মনে হয়।
• বার বার মনে হয় আমি মারা যাচ্ছি/যাবো
• কোন প্রকার কাজে মন দিতে পারি না।

সবকিছু সংক্ষিপ্ত আকারে দাড়ায়-
১. প্যানিক অ্যাটাক
২. মৃত্যু ভয়
৩. দুশ্চিন্তা

আমি এ সমস্ত চিন্তাভাবনা থেকে মুক্তি পেতে চাই!

📮 মনচিঠি টেক্সট-০৭ এর উত্তর

প্রথমেই অনেক ধন্যবাদ ও সাধুবাদ জানাই আপনাকে DUOS মনচিঠির পাতায় সাহায্য চাইবার জন্য।

এটা খুব ইতিবাচক একটা দিক যে আপনি আপনার বর্তমান সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য ভেবেছেন, নিজে কিছুটা চেষ্টা করেছেন এবং পরবর্তিতে আরো সাহায্যের জন্য মনচিঠির পাতায় জানিয়েছেন।

আপনার লেখা থেকে যতটুকু আমি বুঝতে পেরেছি যে, আপনার শৈশবের একটি অবদমিত অনুভূতি (মৃত্যুভয়), যা ঐসময় আপনি অন্যদের সাহায্যে কাটিয়ে উঠতে পারলেও তা পুরোপুরি সমাধান হয়নি। সেই ভীতি আজ বিভিন্ন ট্রিগারের কারণে আবার আপনার মাঝে ফিরে আসছে। এই অবস্থায় আপনাকে সবচেয়ে ভালো সাহায্য দিতে পারেন একজন মনোবিজ্ঞানী যিনি Nuro Linguistic Programming বা EMDR থেরাপি চর্চা করেন। আপনি তেমন একজনের সাহায্য নিতে পারেন।

এছাড়া সাময়িক সমাধান পেতে আপনি Breathing Exercise করতে পারেন। প্রথমে লম্বা করে মুখ দিয়ে শ্বাস নিতে হবে, কিছুটা সময় তা ধরে রাখতে হবে (৪/৫ সেকেন্ড), তারপর ধীরে ধীরে মুখ দিয়ে প্রশ্বাস ছাড়তে হবে। এই ব্যায়াম আপনার বুক ধড়ফড় ও অস্বস্তি ভাব কমাতে সাহায্য করবে।

মৃত্যুভীতি আমাদের এক ধরনের দুঃশ্চিতার ফলাফল। আপনি আপনার এই দুঃশ্চিতার কারনগুলো খুঁজে বের করার চেষ্টা করবেন। সেই কারনগুলো আপনার মধ্যে কি কি চিন্তার উদ্রেক ঘটাচ্ছে তা ভেবে দেখুন।

যদি ধরে নেই আপনার পরিচিত কারো মৃত্যুর খবর আপনি জানতে পারলেন এখন এর ফলে আপনার মধ্যে সেই ভীতি আবার কাজ করতে শুরু করলো আপনি ঐ মুহুর্তে ভাবতে শুরু করলেন আপনিও মারা যাবেন বা মারা যাচ্ছেন। আপনার এই ভাবনা আপনার মস্তিষ্ককে ভয়ের ম্যাসেজ পাঠাবে আর শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আপনার বুক ধড়ফড় আর অস্বস্তির বোধ হবে।

এই সময় আপনি Imagery Relaxation প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিজেকে কিছুটা আরাম দিতে পারেন। আপনি আপনার জীবনের খুব আনন্দদায়ক কোন মূহুর্তের কথা তখন ভাবতে পারেন বা কোন হলিডে বা প্রিয় কোন জায়গায় ঘুরতে যাওয়ার স্মৃতি মনে করতে পারেন যা আপনার মধ্যে অনেক ভালো লাগার অনুভূতি তৈরী করেছিল। এই ভালোলাগার অনুভূতিই আপনাকে আবার আরাম দিবে আর ধীরে ধীরে আপনার প্যানিক অবস্থার বোধকে কমিয়ে আনতে সাহায্য করবে।

কিছুটা স্ট্যাবল অবস্থায় আসার পর আপনি ইতিবাচক দিকগুলো নিয়ে ভাবতে পারেন। যেমন আপনার যখন মৃত্যুভীতি প্রবল হচ্ছিল তখনই আপনার কি কি রিসোর্স আছে তা থেকে বের হয়ে আসার বা আপনার নিজেকে সুরক্ষিত রাখার কি কি উপায় আপনার আয়ত্তে আছে আর কিভাবে আপনি তা ব্যবহার করছেন এরকম কিছু ইতিবাচক ভাবনার চর্চা করতে পারেন।

পরিশেষে আবারো বলবো প্রফেশনাল কারো সাহায্য নিন এবং আশা করছি দ্রুত এই অবস্থা থেকে মুক্তি পাবেন।

খালেদা ইয়াসমিন
সাইকোলজিক্যাল এক্সপার্ট, মায়ালোজি, ব্র্যাক
২৬, পিয়ার কাউন্সেলর, মনচিঠি, ডিইউওএস
bithikhaleda04@gmail.com

💌 অনলাইন চিঠি ও উত্তরের মাধ্যমে বিনামূল্যে মানসিক স্বাস্থ্য পরামর্শ পেতে এখানে ক্লিক করে ‘মনচিঠি’তে লিখতে হবে।

📞 ভয়েস কলে বিনামূল্যে কাউন্সেলিং/মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা পেতে এখানে ক্লিক করে ফরমটি পূরণ করতে হবে।

☎️ হটলাইন নম্বরে ফোন করে বিনামূল্যে মানসিক স্বাস্থ্য পরামর্শ পেতে এই লিঙ্কে ক্লিক করতে হবে।

👩‍⚕️ এ ছাড়াও ইমেইল, ফেসবুক পেজ, সেলফোন নম্বরে যোগাযোগ করে বিনামূল্যে মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা নেয়া যাবেঃ

👍 ফেসবুক পেজ (ক্লিক করুন)
💬 ফেসবুক মেসেঞ্জার (ক্লিক করুন)
📞 সেলফোন নম্বর : 01841 21 52 71
📧 ইমেইল আইডি : monchithi.duos@gmail.com

🌐 বিস্তারিতঃ www.duos.org.bd/monchithi

মানসিক রোগ যখন তোতলানো

পিন্টু সাহেব সারাদিন অফিস করে এসেছে। আজ আবার অফিসে কাজের প্রেশারটা একটু বেশিই ছিল। রুমে এসে বিশ্রাম নিচ্ছিলো এসময় তার স্ত্রী এসে তার সাথে কথা বলতে শুরু করেছে। এবং বিভিন্ন প্রশ্ন করা শুরু করেছে। কিন্তু তিনি কোনো কথারই উত্তর দিতে পারছিলেন না, কথা জড়িয়ে যাচ্ছে। সারাদিনের কাজের পর তিনি যেমন ক্লান্ত, তেমনি কিছুদিন যাবৎ তিনি মানসিক বিষণ্নতায় দিন কাটাচ্ছেন। শারীরিক ভাবে কিছুটা দুর্বলও লাগছে তার। এগুলো তার কথা জড়িয়ে যাওয়া বা “তোতলামির” সাথে জড়িত। তবে এই তোতলামি চিরস্থায়ী না হলেও মাঝে মাঝে দীর্ঘস্থায়ী হয়।

অনেকের মধ্যে তোতলামির কারণে কথা আটকে যাওয়ার একটি ভয় কাজ করে। এই ভয়ের কারণে কথা আরও বেশি আটকে যায়,একে “সেলিসমোফোবিয়া” বলে। এটি সম্পূর্ণ একটি মানসিক রোগ। এই রোগের কারণে কেউ কেউ সবার সামনে কথা বলতে পারে না। ভয় পায়। মনে করে, হয়তো কথা মুখ দিয়ে বের হবে না। তখন নিজেকে সবার সামনে লজ্জায় না ফেলার জন্য গুটিয়ে নেয়।

✓ Stuttering is a speech disorder characterized by repetition of sounds, syllables or words; prolongation of sounds; and interruptions in speech known as blocks. An individual who stutters exactly known what he or she would like to say but has trouble producing a normal flow of speech. These speech disruptions may be accompanied by struggle behaviors, such as rapid eyes blinks or tremors of the lips. [Source : Wikipedia]

• তোতলামি বলতে মূলত মুখের জড়তাকে বোঝায়। তোতলামি বিষয়টাকে আমাদের সমাজে অনেকটা হাসি তামাশার বিষয় হিসেবে দেখা হয়। যেমন:কেউ কথা বলতে তোতলালে বা ক্লাসে কেউ পড়া দিতে গিয়ে আটকে গেলে আমরা তা নিয়ে হাসতে থাকি। এটা কারও কাছে সাময়িক মজার বিষয় হলেও, যার তোতলামি সমস্যা আছে তার জন্য এটা খুবই পীড়াদায়ক।

কারণ

তোতলামি বিভিন্ন বয়সে বিভিন্ন কারণে হয়ে থাকে। এর পেছনে শারীরিক, মানসিক, পরিবেশগত বিভিন্ন কারণ কাজ করে। অনেক সময় পরিবার থেকেও এটি পরবর্তী বংশধরদের মধ্যে ছড়িয়ে যায়। আবার অনেক সময় দেখা যায়, শিশুদের কথা বলায় অনেক সময় দেরি হতে থাকে, তখন মা-বাবা শিশুর উপর কথা বলার জন্য প্রেশার দিতে থাকে। তখন এই তোতলামির সৃষ্টি হয়ে থাকে।

সাধারণত মেয়েদের চেয়ে ছেলেদের তোতলামির সমস্যা বেশি হয়। তোতলামির সমস্যা থাকা প্রতি পাঁচজন ছেলের বিপরীতে মেয়ে থাকে মাত্র একজন। পুরো পৃথিবীতে তোতলামি সমস্যায় ভুগছে এমন লোকসংখ্যা মাত্র ১%। [Source : Internet]

সৃষ্ট সমস্যা

•  ভাষাগত জটিলতা:
সাধারণত ২-৫ বছর বয়সের শিশুদের মধ্যে তোতলামির লক্ষণ দেখা যায়। তবে এটা হয়ে থাকে নতুন কথা বলা শেখার কারণে। নতুন নতুন শব্দ শেখা, এর সাথে পরিচয় হওয়া, নতুন শব্দ উচ্চারণের চেষ্টা করা- এগুলোর কারণে বাচ্চাদের তোতলামি দেখা যায়। নিজের ভাষার সাথে পরিচিত হয়ে গেলে কিংবা অভ্যস্ত হয়ে গেলে এই তোতলামি চলে যায়। এক্ষেত্রে তোতলামির সমস্যাটা স্থায়ী নয়।

•  শারীরিক ও মানসিক জটিলতা:
অনেকের মধ্যে তোতলামির কারণে কথা আটকে যাওয়ার একটি ভয় কাজ করে। এই ভয়ের কারণে কথা আরো বেশি জড়িয়ে যায়। কথা আটকে যাওয়ার যে ভয় কাজ করে, তার পেছনে একটি রোগ দায়ী। একে সেলিসমোফোবিয়া বলে। এই রোগটি সম্পূর্ণ মানসিক রোগ।

•  পরিবেশগত জটিলতা:
ব্যক্তি কেমন পরিবেশে বেড়ে উঠছে, তার উপর অনেকটাই তার মানসিক বিকাশ নির্ভর করে। তার বেড়ে উঠা আশেপাশের পরিবেশ যদি তার বিকাশে বাধা দেয়, তবে সে একজন ভীরু প্রকৃতির মানুষ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কোনো ব্যাপারে আত্মবিশ্বাস থাকে না। যেকোনো কাজে নিজে সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগে। পরিবারের লোকদের সাথে সুসম্পর্ক থাকে না, তাই নিজেকে একা ভাবতে থাকে। আত্মবিশ্বাসের ঘাটতির জন্য অন্যের সাথে কথা বলতে ভয় পায়,যা থেকে তোতলামির সৃষ্টি হয়। অনেক সময় এটি দীর্ঘস্থায়ী হয়ে থাকে।

অনেক সময় দেখা যায়, অনেকে ভেবে থাকে শিশুর মুখে পয়সা দিলে তোতলামি কমে। এজন্য পরিবারের সদস্যরা শিশুর মুখে পয়সা দিয়ে রাখে। কিন্তু এর কোনো বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা নেই। কিন্তু মুখে পয়সা দিয়ে রাখলে মুখের ব্যায়াম হয়, পেশি শিথিল হয়। তবে এই পদ্ধতি তোতলামি কমাতে কোনো কাজ করে না। আরও এতে দূর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা থাকে।

সমাধান

•  দ্রুত কথা বলার সমস্যা হলে ধীরে ধীরে বলার চেষ্টা করতে হবে।

•  কোনো কথা বলার আগে লম্বা শ্বাস নিয়ে নিন। দরকার হলে তিন সেকেন্ড করে বিরতি নিয়ে কথা বলুন।

•  কি কি কথা বলতে হবে, তা আগেই রেডি করে নিন, তাহলে আর ভয় কাজ করবে না। বা এক কথার মাঝে অন্য কথা হারিয়ে ফেলার ভয় থাকবে না।

•  কোনো কথা বলা শুরু করলে, চেষ্টা করবেন কথার মাঝে কোনো বিরতি না দিতে। কারণ কথা বলার গতি পেয়ে গেলে স্বাভাবিকভাবেই আর কথা আটকাবে না।

•  কোনো শব্দ উচ্চারণে সমস্যা হলে,তা বারবার বলার অভ্যাস করুন। আস্তে আস্তে তা ঠিক হয়ে যাবে।

এছাড়াও কিছু কিছু সাইকোলজিস্ট বলে থাকেন, যদি সবসময় হেসে হেসে কথা বলার অভ্যাস করা যায়, তবে আর কথা আটকানোর ভয় থাকে না। অন্যের সাথেও হাসিখুশি থাকুন। যেকোনো সমস্যা বা কথা বলতে সমস্যা হলে কথা বলার আগে কিছুক্ষণ এক্সারসাইজ করে নিন। এছাড়া মেডিটেশনও করতে পারেন।

লেখক : আনিকা তাবাসসুম, বিএসসি অনার্স, মনোবিজ্ঞান (অধ্যয়নরত)