তখন কাউকে পাশে না পেয়ে আরও বেশি খারাপ লাগে

📮 মনচিঠি টেক্সট-৩৪

I need help expressing myself. Sometimes I feel suffocated for not being able to share my thoughts. It’s not that I’m an introvert. I’d say I’m an extrovert. I love to talk with people, make people laugh and stay jolly. But I can’t share my feelings when I need to. It has taken a lot of courage to send this to you.

(1) I’m experiencing a lot of stress lately. Academic, career life, and relationship – these are the primary sources of my anxiety. I need help tackling that.
(2) I’m currently working on a part-time basis at an organization. The work pressure there is getting bigger day by day. It’s not that I’m not hardworking or don’t want to work. I can’t handle the stress.
(3) The academic pressure, too, is troubling me much. I’m very much ambitious with my academics. I want to do my Master’s abroad. I feel the constant pressure to bring good grades.
(4) I’ve had a breakup recently, and that’s bothering me too much. I miss her but don’t know if I should get back to her or not. I’ve put so much effort into this relationship. And I fear all my efforts going in vain.
(5) I also feel very lonely sometimes. অনেক খারাপ লাগে তখন। কান্না করতে ইচ্ছা করে। কিন্তু তখন কাউকে পাশে না পেয়ে আরও বেশি খারাপ লাগে।

Thank you for taking the time to help me out. I really appreciate it.

💌  মনচিঠি টেক্সট-৩৪ এর উত্তর

‘মনচিঠি’তে আপনার সমস্যা তুলে ধরেছেন, আপনাকে ধন্যবাদ।

১.  আপনার লেখা পড়ে জানতে পারলাম, আপনি লাইফের নানান ইস্যুকে কেন্দ্র করে মানসিকভাবে স্ট্রেসে আছেন এবং সেই স্ট্রেস থেকে বের হতে পারছেন না। আপনি এই স্ট্রেস থেকে বের হতে চান। আপনার আন্তরিক ইচ্ছের কথা জানতে পেরে আমিও আশাবাদী আপনি বের হতে পারবেন।

২.  আপনি আরো জানিয়েছে যে, বর্তমানে আপনি পার্ট টাইম জব করছেন। এবং যেহেতু আপনি আপনার ব্যক্তিগত নানান বিষয়গুলো রিল্যাক্স ফিল করছেন না সুতরাং কর্মক্ষেত্রের কাজগুলোতেও ভীষণ প্রেসার ফিল করছেন। আসলে আমরা তো শরীর ও মন এই দুই একসাথে কর্মরত মানুষ। মনের কাজ সম্পূর্ণ মস্তিষ্কে সুতরাং নানান রকম মানসিক চাপ, অস্থিরতা এবং সমস্যা আমাদের দৈনন্দিন সকল কাজেই প্রভাব ফেলে।

আপনাকে বিশেষ ধন্যবাদ জানাচ্ছি আবারও কারণ আপনি আপনার মানসিক স্বাস্থ্যের ব্যাপারে দারুণ সচেতন। আপনি বুঝতে পারছেন আপনি সমস্যা ফেস করছেন এবং আপনি এজন্য সহযোগিতা চান।

আমি যদি কিছু বিষয় বলি,
সর্বপ্রথম আপনি খুঁজে বের করুন কবে থেকে মানসিকভাবে অসুস্থতা অনুভব করছেন। সময়কাল কত দিন বা মাস বা বছর। কারণ আপনি যতদিন ধরে এই সমস্যাটি বয়ে বেড়াবেন সমস্যা ততই বিশাল আকৃতি ধারণ করবে।

প্রথম ধাপঃ
যেকোন ধরনের কষ্টকর অনুভূতি হবে, আপনি কি একা একা রিল্যাক্স হতে পারছেন? রিল্যাক্স হতে আপনার কত সময় লাগছে। এই সময়টি অতিরিক্ত লাগার ফলে আপনার কোন ক্ষতি হচ্ছে কিনা।

দ্বিতীয় ধাপঃ
গভীরভাবে কয়েকটি বিষয়, আগের মতো পড়াশুনা এবং স্বাভাবিক কাজ কর্ম করতে পারছেন? আপনি কি ঠিকভাবে ঘুমাতে পারছেন?

তৃতীয় ধাপঃ
আপনার ভেতর যে ভয়, উদ্বেগ বা অস্থিরতার মাত্রা কিছুটা হলেও কমে আসে তখন আপনার মাথায় নানান রকম নেতিবাচক চিন্তা ভীড় করে কিনা।

কেমন বোধ করছেন খেয়াল করুন। এই মুহুর্তে আপনার চাহিদা কি খেয়াল করুন। এবার ভাবুন নিজেকে ও পরিবার এই সম্পর্কটিকে সুরক্ষিত রাখতে আপনি কি কি পদক্ষেপ নিতে পারেন। নিজের ও পরিবারের সদস্যদের ব্যাপারে যত্নশীল হওয়ার কি কি পদক্ষেপ আছে।

সবশেষে বলতে চাই, অবশ্যই একজন প্রফেশনাল মনোবিজ্ঞানীর সাহায্য নিন। কারণ সমস্যাগুলো একদিনে তৈরি হয়নি সমাধানও একদিনে বা একটি চিঠিতে পাওয়া কঠিন। আপনার সামগ্রিক দিক বিবেচনা করে বলছি যতদ্রুত সম্ভব একজন কাউন্সিলরের সাথে যোগাযোগ করুন এবং নিয়মিত সেশন নিন। মানসিকভাবে সুস্থ থাকার পথ আপনার জন্য উন্মুক্ত হোক। ভালো থাকবেন।

ধন্যবাদ আপনাকে।

দুঃখিত রিপ্লে করতে দেরি হওয়ায়।

ফাতেমা শাহরিন
২০-০২-১৮, পিয়ার কাউন্সেলর, মনচিঠি by DUOS
zummi093824@gmail.com

📞 ভয়েস কলে কাউন্সেলিং/মানসিক স্বাস্থ্য পরামর্শ পেতে এখানে ক্লিক করে ফরমটি পূরণ করতে হবে।

👩‍⚕️ এ ছাড়াও ইমেইল আইডি, ফেসবুক পেজ এবং সেলফোন নম্বরে যোগাযোগ করে মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা পাওয়া যাবেঃ

👍 ফেসবুক পেজ (ক্লিক করুন)
💬 ফেসবুক মেসেঞ্জার (ক্লিক করুন)
📞 সেলফোন নম্বর : 01841 21 52 71
📧 ইমেইল আইডি : monchithi.duos@gmail.com

🌐 বিস্তারিতঃ www.duos.org.bd/monchithi

এরপর থেকেই মনে হতে লাগলো ঐ মেয়েটা আমার চেয়ে বেশি ইম্পোর্টেন্স পাচ্ছে

📮 মনচিঠি টেক্সট-৩৯ (প্রেরকের সম্মতিতে প্রকাশিত)

আমি আমার ব্যাপারে সবরকম ইনফর্মেশন দেয়ার চেস্টা করেছি আপনাদের ফরম এ। আমি আসলে অনেক বেশি ডিপ্রেসড। অনেক দিন থেকেই এই প্রব্লেম ফেস করছি। ফার্স্ট থেকেই শুরু করছি।

১. আমি আমার ১ম রিলেশন ৩ বছরের মাথায় ব্রেকাপ করার পর থেকেই পাগলের মত হয়ে যাই। আমার ব্রেকাপের কারণ হলো আমার বিএফ তার কাজিনের সাথে লুকিয়ে রিলেশন চালিয়ে যাচ্ছিলো। আমি এটা জানার পর থেকেই তাকে অনেকবার বুঝাই। হাতে-পায়ে ধরে চেয়েছি ঐ মেয়ের সাথে রিলেশন ব্রেকাপ করুক। কিন্তু সে করেনি। আমায় ফেলে চলে যায়। দেন শুরু হয় আমার পাগলামি, চুপচাপ থাকা, অল্পতে রেগে যাওয়া, কান্নাকাটি করা, সবার সাথে বিশেষ করে ফ্যামিলি মেম্বারদের সাথে অতিরিক্ত মিসবিহেভ করা।

২. এরপর প্রায় ১ বছর পর আমার প্রেজেন্ট বিএফ এর সাথে আমার আস্তে আস্তে রিলেশন হয়। যদিও এখন পর্যন্ত কেউ কাউকে প্রপোজ করিনি। আমাদের এত্ত ভালো আন্ডারস্ট্যান্ডিং যে বলার বাইরে। আমি পুরো চেঞ্জ হয়ে যাই। আবার নতুন করে লাইফ স্টার্ট করি। কিন্তু রিলেশনের ১০ মাসের মাথায় আমি আস্তে আস্তে আবার চেঞ্জ হতে শুরু করি। আবার অতিরিক্ত রাগ, মিসবিহেভ, কান্নার পরিমাণ বাড়তে লাগলো। উনি সব সময় মানিয়ে চলেছেন। কারণ উনার রাগ হলে আমি ঠাণ্ডা মাথায় সব মেনে নিয়ে উনার কথা শুনি অল টাইম। আর আমার রাগের সময় উনিও সেমটাই করতেন। রাগটা বেশি তখনই আমার বেড়ে যেতো যখন উনার একজন মেয়ে বেস্ট ফ্রেন্ডের সাথে উনাকে দেখতাম। যাক উনি বোন বলেই দেখতেন কারণ ওনার বোন নেই তাই। আমি শুরুতে সেটা মেনে নিয়ে থাকতেও পারতাম। কিন্তু এরপর থেকেই মনে হতে লাগলো ঐ মেয়েটা আমার চেয়ে বেশি ইম্পোর্টেন্স পাচ্ছে। আর উনিও আমার এই বিহেভ মেনে নিতে পারেন নি। কারণ উনি শুরু থেকেই বলেছেন, উনার এই ফ্রেন্ডকে নিয়ে যেনো কখনোই সন্দেহ না করি। কিন্তু আমি তো সন্দেহ করিনি। জাস্ট খারাপ লাগে উনার এত ফ্রি হওয়াতে।

৩. ইদানিং এসব নিয়ে ঝগড়া হতে হতে প্রব্লেম এতই বেড়ে গেছে যে, যেখানে আমরা রাগ করে ১৮ ঘন্টার বেশি থাকতে পারতাম না সেখানে আমরা মাসের পর মাস কথা না বলেই থাকছি। এখন প্রব্লেম হলো উনি উনার বার্থডের দিন উনি বলে দিছে যে উনি আর আমার সাথে রিলেশন রাখবেন না। আমি উনাকে গিফট দিবো বলে ১৫ দিন আগে থেকেই উনার জন্য গিফট কিনে রাখার পর এই কথা ঐ দিনই শোনার পর আমি চরমভাবে শক পাই। কোনোভাবেই এটা মেনে নিতে পারছিনা। দেন উনি বললেন উনি আর কোনো রিলেশনই করবেন না কোনো মেয়ের সাথে। আল্লাহর হুকুম হলে যেখানে বিয়ে হয় সেখানেই বিয়ে করবেন। এতে আমি প্রচুর পরিমাণে ভেঙে পড়ি। খাওয়া, ঘুম, জব সব কেমনে চলে নিজেও জনিনা। দেন উনাকে অনেক রিকোয়েস্ট করার পর উনি বললেন যে, আগামী ১ বছর এর মধ্যে আমি চেঞ্জ হতে পারলে উনি ওনার ফ্যামিলিতে আমার কথা বলবেন। কিন্তু এই ১ বছর উনার সাথে কোনো রকম কন্টাক্ট রাখতে পারবোনা। আমি এতেও রাজি হই। এখন আমি সব মেনে নিলেও উনাকে ছাড়া থাকতে পারছিনা।

নোটঃ
আমি গত ৫ বছর হলো সাইকোলজিস্টের ট্রিটমেন্টে আছি। আমার ফার্স্ট বিএফ এর মেন্টালি টর্চারের জন্য। ইদানিং আমি কী করছি নিজেই জানিনা। ওয়ার্কপ্লেসে কারো সাথে অ্যাডজাস্ট করতে পারছিনা। আমি এখন কীভাবে নর্মাল লাইফে ব্যাক করবো?
আমার প্রেজেন্ট বিএফ সেম এজ এর।

💌 মনচিঠি টেক্সট-৩৯ এর উত্তর

DUOS এর ‘মনচিঠি’তে সাহায্য চাওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি । আপনার চিঠিটি আমি মনোযোগ দিয়ে ও ধৈর্য সহকারে পড়েছি এবং আপনাকে উত্তর দিতে পেরে আনন্দবোধ করছি।

আপনি অনেক সুন্দর করে পয়েন্ট আকারে আপনার মনের কথাগুলো লিখেছেন। তাই আমার বুঝতে অনেক সুবিধা হয়েছে। সে জন্য আপনাকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

যেহেতু আপনি গত ৫ বছর ধরে সাইকোলজিস্ট এর সাথে আছেন, তাই আমি ধরে নিলাম উনার সাথে আপনি সব কিছু শেয়ার করেছেন এবং সেশন থেকে যা পাচ্ছেন/শিখছেন সে অনুযায়ী আপনার জীবন পরিচালনা করছেন। হয়তোবা এতো দিনে মানসিকভাবে সুস্থ থাকার জন্য আপনি অনেকগুলো এক্সারসাইজ/টেকনিক শিখে থাকবেন।

আপনার চিঠি পড়ে যেটা বুঝতে পারলাম তা হলো, আপনি প্রথম ব্রেকআপের পরে মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েন, তখন থেকেই অল্পতে রেগে যাওয়া, কান্না করাসহ পরিবারের সদস্যদের সাথে মিসবিহেভও করেছেন। এক বছর পর নতুন রিলেশনে যান, তখন আবার স্বাভাবিক ছিলেন এবং আপনাদের মধ্যে ভালো আন্ডার্স্ট্যান্ডিং ছিলো।

প্রায় ১০ মাসের মাথায় আপনি আবার চেঞ্জ হতে শুরু করেন, অতিরিক্ত রাগ করা, কান্না করা, মিসবিহেভ করা ইত্যাদি আচরণ করতে শুরু করেন। আপনার বয়ফ্রেন্ডের সাথে তার মেয়ে বেস্ট ফ্রেন্ডের অতিরিক্ত ঘনিষ্ঠতা বা যোগাযোগ আপনি পছন্দ করতেন না বা মেনে নিতে পারতেন না। সেই সাথে আপনার মনে হত যে আপনার বয়ফ্রেন্ড আপনার থেকে সে মেয়ে বেস্ট ফ্রেন্ডকে বেশি ইম্পোর্টেন্স দিচ্ছে এবং সেটা আপনার খারাপ লাগে। এটাকে রাগের একটা কারণ হিসেবে দেখছেন।

যেখানে আগে আপনি উনার সাথে কথা না বলে থাকতে পারতেন না, এখন দীর্ঘ সময় কথা না বলেই থাকছেন। উনার জন্মদিনে আপনার অনেক প্লান ছিলো যেটা বাস্তবায়ন করতে পারেন নি। উনি আপনার সাথে রিলেশন রাখবেন না যেটা আপনি মেনে নিতে পারছেন না। উনার সব ধরনের শর্ত মেনে নিয়ে হলেও আপনি উনার সাথে থাকতে চাচ্ছেন।

প্রথম বিএফ এর মানসিক অত্যাচারের জন্য আপনি পাঁচ বছর ধরে সাইকোলজিস্টের পরামর্শ নিচ্ছেন। নিজে কী করছেন না করছেন সে ব্যাপারে সচেতন না। এতে আপনার দৈনন্দিন জীবন ও কাজ ব্যাহত হচ্ছে। কাজে মনযোগ দিতে পারছেন না। এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে চাচ্ছেন।

আমি যদি আপনার চিঠিটি পড়ে ঠিকঠাক মতো বুঝতে পারি তাহলে পরবর্তী ধাপে যাওয়া যাক।

যেহেতু দীর্ঘ সময় ধরে আপনি সাইকোলজিস্টের পরামর্শ নিচ্ছেন, আপনাদের সেশন কোন অবস্থানে আছে সেটা জানতে পারলে উত্তর দিতে সুবিধা হত। চলমান সেশনে আছেন নাকি ফলো আপ সেশনে আছেন সেটা উল্লেখ করেন নি। এছাড়া আপনি এজন্য কোনও ঔষধ সেবন করছেন কি না সেটা জানা প্রয়োজন ছিলো।

যাই হোক আপনি চিঠিতে অনেকগুলো সমস্যার কথা বলেছেন। তার মধ্যে একটি হলো আপনি কী করছেন নিজেই যানেন না। অর্থাৎ আপনি কাজে মনযোগী হতে পারছেন না। এক্ষেত্রে আপনার জন্য মেডিটেশন অনেক উপকারে আসতে পারে। সঠিক নিয়মে আপনাকে এটা করতে হবে। এবং প্রতিদিনের অভ্যাসে পরিণত করতে হবে। আপনি যদি আগে থেকেই এর সম্পর্কে জেনে থাকেন তাহলে সেই অনুযায়ী এটা করতে পারেন। এছাড়াও আমি আপনাকে বলে দিচ্ছি কিভাবে আপনি এটা করবেন।

তার আগে বলে নিই মাইন্ডফুলনেস মেডিটেশন কি?

আমরা যখন কোন কিছু নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা করি, তখন আমাদের সমস্যাটি সমাধানের জন্য ঠিক কী প্রয়োজন, সেই ব্যাপার থেকে আমাদের ফোকাসটি সরে যায় ৷ আর আমরা আরও বেশি করে সমস্যায় জড়িয়ে পড়ি। ওই সময় সর্বপ্রথম আপনাকে যা করতে হবে তা হলো মনকে শান্ত করা। সেজন্য আপনি নিয়মিত মেডিটেশন বা ধ্যান করতে পারেন। এগুলো আমাদের মনকে শান্ত রেখে আমাদের মনোযোগ বাড়াতে সাহায্য করে।

মনোবিজ্ঞানে একটা শব্দ রয়েছে- মাইন্ডফুলনেস। মাইন্ডফুলনেস হলো দেহের এমন একটা পর্যায়, যেখানে আমাদের দেহ মস্তিষ্কের সাথে সামঞ্জস্য রক্ষা করে দেহকে একটা সুস্থির অনুভব দান করে। এই মাইন্ডফুলনেসই মূলত মেডিটেশনের সংজ্ঞা উপস্থাপন করে। সহজ করে বললে, মেডিটেশন হলো মানবদেহ, মন ও মস্তিষ্ককে শান্ত ও শিথিল করার একটি চর্চাসরূপ। এটিকে একধরনের ব্যায়ামও বলা যায়। তবে এটি আর ১০টি ব্যায়ামের মত দেহের মাংসপেশির বিকাশ ঘটায় না, বরং এই ব্যায়াম অল্প সময়ের জন্য হলেও ব্যক্তির মনস্তাত্ত্বিক অবস্থাকে সবকিছু থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে ও শূন্য মস্তিষ্ককে আরও বেশি একাগ্র হওয়ার পথে ধাবিত করে।

কম্পিউটার চালানোর সময় উইন্ডোজ ধীরগতি হয়ে গেলে আমরা যেমন মাউসের রাইট ক্লিক করে উইন্ডোজকে রিফ্রেশ করে নিই, ঠিক তেমনি মেডিটেশন আমাদের দেহের জন্য কম্পিউটারে রিফ্রেশ বাটনের মত কাজ করে।

ইউটিউব বা গুগলে অসংখ্য মেডিটেশনের টিউটোরিয়াল রয়েছে। সেখান থেকে আপনি আপনার পছন্দ ও স্বাচ্ছন্দ্য অনুযায়ী এক বা একাধিক অনুশীলন বেছে নিয়ে সেগুলো চর্চা করতে পারেন।

মানসিকভাবে স্থির থাকার জন্য আমরা সব সময় Breathing Exercise করার কথা বলে থাকি। এজন্য আপনাকে প্রথমে লম্বা করে মুখ দিয়ে শ্বাস নিতে হবে, কিছুটা সময় তা ধরে রাখতে হবে (৪/৫ সেকেন্ড), তারপর ধীরে ধীরে মুখ দিয়ে প্রশ্বাস ছাড়তে হবে। এভাবে আপনি ৩/৫ বার এই ব্যায়াম করবেন। এই ব্যায়াম আপনার বুক ধড়ফড় ও অস্বস্তি ভাব কমাতে সাহায্য করবে।
এছাড়াও আরো ভালোভাবে বোঝার জন্য আপনি একটা ভিডিও দেখতে পারেন – “https://youtu.be/u6zGTgrO90Y”

রাগ নিয়ন্ত্রণ করার জন্য নিচের ধাপ গুলো অনুসরণ করতে পারেনঃ

প্রথম ধাপঃ

আপনি যে রাগ করেছেন সেটা সম্পর্কে অবগত হন, আনন্দ, দুঃখ বা ভয়ের মত রাগও হচ্ছে একটি আবেগ। তাই এটাকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য এর পেছনের কারণ খতিয়ে দেখুন, কেন এটি ঘটছে সেটা খুজে বের করুন।

অনেকেই ভয়, দুর্বলতা বা বিব্রতবোধের মতো অন্যান্য আবেগকে প্রকাশ না করার জন্য রাগকে ব্যবহার করেন। এটি বিশেষত তাদের ক্ষেত্রে সত্য, যারা শিশু হিসাবে তাদের আবেগ প্রকাশ করতে উত্সাহিত হন নি তবে এটি যে কারো জন্য প্রযোজ্য হতে পারে।

আপনি যখন রাগ বোধ করবেন, তখন নিজের ক্রোধের পেছনের কারণ অনুসন্ধান করুন যা আপনি সত্যই অনুভব করছেন। আপনি রাগের পেছনের কারণ সনাক্ত করতে পারছেন কিনা তা দেখুন।

আপনি রাগের কারণ খুজে পেলে আরো যথাযথ ভাবে আপনার অনুভূতি প্রকাশ করতে পারবেন।

দ্বিতীয় ধাপঃ

আপনার রাগ করার পেছনে যে বিষয়গুলো ট্রিগার হিসেবে কাজ করে সেগুলো এবং এর লক্ষণগুলো সম্পর্কে জানুন।

আমাদের সকলের জীবনে কিছু নির্দিষ্ট ব্যাপার থাকে যা আমাদের ক্রুদ্ধ করে এবং এতে আমরা সহজেই রেগে যাই। আমাদের রেগে যাওয়ার পেছনে ট্রিগার এবং লক্ষণগুলো সম্পর্কে সচেতন হলে আমাদের রাগ নিয়ন্ত্রণ করা অনেক সহজ হয় । রাগের লক্ষণগুলো সনাক্ত করা প্রায়শই সহজ। উদাহরণস্বরূপ, লোকেরা প্রায়ই বলে যে, তারা রেগে গেলে তাদের হার্টবিট বৃদ্ধি পায়, নিশ্বাসের গতি বৃদ্ধি পায় ইত্যাদি।

ট্রিগারগুলো প্রায়শই খুব ব্যক্তিগত হয় তবে বেশ কয়েকটি সাধারণ বিষয় রয়েছে যা ট্রিগারগুলো সনাক্ত করতে আপনাকে সহায়তা করতে পারে। যেমন- নেতিবাচক চিন্তার নিদর্শনগুলো প্রায়শই রেগে যাওয়ার সাথে জড়িত।
১. আপনি অতিরিক্ত-জেনারেলাইজিং করা শুরু করলে (যেমন- “তিনি আমাকে কখনোই সাহায্য করেন না!” ” সে আগের মত আমাকে ইম্পোর্টেন্স দেয় না”, “আমার প্রতি তার টান বা আকর্ষণ কমে গেছে” ইত্যাদি) বা
২. লোকেরা কী ভাবছে সে সম্পর্কে নিজে নিজে নেগেটিভ সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলে আমরা সেগুলোকে ট্রিগার বলতে পারি।

আপনি যে জায়গায় বা মানুষের কাছে মানসিকভাবে বিপর্যস্থ হয়েছেন তাদের কাছে বা সেই যায়গাতে আপনার আবেগগুলো নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়। যদি আপনার ক্রোধ অন্য কোন আবেগের বহিঃপ্রকাশ হয় তাহলে সেটা চিহ্নিত করুন। ঠিক কী কারণে আপনি মানসিক চাপ অনুভব করছেন সে ব্যাপারে সচেতন হন।

তৃতীয় ধাপঃ

আপনার মেজাজ শান্ত করার উপায়গুলো শিখুন। আমরা যেমন রাগের জন্য ট্রিগার পেয়েছি, ঠিক তেমনি আমাদের এমন কিছু উপায় রয়েছে যাতে আমরা ‘শীতল হই’ বা রাগ নিয়ন্ত্রন করতে পারি। রাগ নিয়ন্ত্রণ করার জন্য কিছু কৌশল শিখে রাখতে পারেন। যাতে করে আপনি যখন আপনার রাগের লক্ষণগুলো লক্ষ্য করেবেন তখন আপনি সে কৌশলগুলো ব্যবহার করতে পারেন।

কৌশলঃ

১. এজন্য প্রথমে আপনাকে সচেতনভাবে ও ধীরে ধীরে শ্বাস নিতে হবে , যেভাবে আপনি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। লম্বা করে মুখ দিয়ে শ্বাস নিতে হবে, কিছুটা সময় তা ধরে রাখতে হবে (৪/৫ সেকেন্ড), তারপর ধীরে ধীরে মুখ দিয়ে প্রশ্বাস ছাড়তে হবে। এভাবে আপনি ৩/৫ বার এই ব্যায়াম করবেন। এই ব্যায়াম আপনার বুক ধড়ফড় ও অস্বস্তি ভাব কমাতে সাহায্য করবে।
এছাড়াও আরো ভালো ভাবে বুঝার জন্য আপনি একটা ভিডিও দেখতে পারেন – “https://youtu.be/u6zGTgrO90Y”

২. শারীরিকভাবে আপনি কেমন অনুভব করুন সেদিকে মনোনিবেশ করুন। আপনার দেহের প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করার জন্য কিছুক্ষণ সময় নিন। আপনার শ্বাসের কী হয়েছে? আপনার হার্ট রেট? আর কি বদলেছে? এগুলোর প্রতি মননিবেশ করুন। কখনো কখনো কেবল আপনার শরীরে শারীরিক পরিবর্তনগুলোর প্রতি লক্ষ্য করা আপনাকে শান্ত হতে সহায়তা করতে পারে, কারণ এটি আপনার মনকে তাৎক্ষনিক সমস্যা থেকে সরিয়ে নেয় ও সম্পূর্ণ মনযোগ আপনার দেহের পরিবর্তনের দিকে নিয়ে আসে।

৩. ধীরে ধীরে দশ বা তার বেশি সংখ্যক গননা করুন। রাগের সময় যার উপর রাগ হয়েছে তাকে কিছু বলার আগে ধীরে ধীরে দশ পর্যন্ত গননা করুন। এটি আপনাকে পরবর্তীতে আফসোস করতে হতে পারে এমন কিছু বলা থেকে বিরত থাকতে সহায়তা করবে।

৪. আমরা যখন রাগান্বিত হই তখন উত্তেজনার দিকে ঝুকি বা অতিমাত্রায় উত্তেজিত হয়ে যাই। আস্তে আস্তে শরীরকে প্রসারিত করা বা হাত পা ছুড়াছুড়ি করা (ব্যায়ামের মত) যা আমাদেরকে কিছুটা শিথিল হতে সহায়তা করতে পারে। এগুলো আবার ক্রোধের কিছু শারীরিক লক্ষণকে প্রতিহত করে দেয় এবং তাই আমরা স্বস্থি বোধ করি। আপনি এটা করে দেখতে পারেন।

✪ চতুর্থ ধাপঃ

আপনার ক্রোধ প্রকাশের অন্যান্য উপায়গুলো সন্ধান করুন। এমন কিছু সময় রয়েছে যখন রাগ করা যথাযথ হয় বা করার দরকার হয়। তবে সেটা ধংসাত্মকভাবে না।

১. আপনার রাগ শান্তভাবে প্রকাশ করার জন্য আপনাকে একটি স্বাস্থ্যকর উপায় খুঁজে বের করতে হবে, যাতে আপনার মনের কথা বা চাওয়া পাওয়াগুলো আরেকজনকে ভালোভাবে বুঝিয়ে বলতে পারেন ।

২. সমস্যার নয় সমাধানগুলোতে মনোনিবেশ করুন। আপনাকে কী ক্ষুব্ধ করেছে তা নিয়ে চিন্তা করার পরিবর্তে কীভাবে সমস্যাগুলো সমাধান করবেন সেদিকে মনোনিবেশ করার চেষ্টা করুন, যাতে ভবিষ্যতে সেগুলো আবার দেখা না দেয়।

৩. নিজেকে সময় দিন। আপনি নিজের ক্রোধ থেকে শান্ত না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন এবং তারপরে নিজেকে শান্তভাবে প্রকাশ করুন। ঐ মুহুর্তে আক্রমণাত্মক না হয়ে আপনার ইতিবাচক হওয়া জরুরী ।

৪. সম্পর্কের দিকে মনোনিবেশ করুন, এবং ক্ষোভগুলো ধরে রাখবেন না। আমাদের সকলকে মেনে নিতে হবে যে প্রত্যেকেই ব্যক্তিত্বের দিক থেকে আলাদা এবং আমরা অন্যের অনুভূতি, বিশ্বাস বা আচরণ নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না। তাই তাৎক্ষনিক বিষয়ে মনোনিবেশ করার পরিবর্তে নিজেদের মধ্যকার সম্পর্কের দিকে মনোনিবেশ করুন।

৫. পরিস্থিতি হ্রাস করতে হিউমার (কৌতুক/রসবোধ) ব্যবহার করুন ।

✪ পঞ্চম ধাপঃ

১. নিজের যত্ন নিন। আপনি যদি শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ হন তবে যেকোন ধরণের সংবেদনশীলতা বা আবেগিয় মুহুর্তগুলো পরিচালনা করা আপরার জন্য সহজ হবে ।

২. নিয়মিত ব্যায়াম করুন ও সুস্থ থাকুন। রাগ করার সময় আমাদের শরীর থেকে যে হরমোনগুলো নিঃস্বরণ হয়— প্রধানত করটিসোল এবং অ্যাড্রেনালাইন। আমরা স্ট্রেস ফিল করলে বা ব্যয়াম করলেও এগুলো উৎপন্ন হয়। আপনি যখন নিয়মিত ব্যায়াম অনুশীলন করবেন, তখন আপনার শরীর শিখবে কীভাবে আপনার অ্যাড্রেনালিন এবং কর্টিসল স্তরগুলো আরও কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হয়। শারীরিকভাবে সুস্থ ব্যক্তিদের এন্ডোরফিনগুলোর সর্বোত্তম মাত্রায় থাকে, এ হরমোনগুলো আপনাকে ভাল বোধ করায় তাই রাগ অনুভব করার সম্ভাবনা কমে যায়।

৩. পর্যাপ্ত পরিমানে ঘুমানোর অভ্যাস করুন। ঘুম জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ভাল মানের ঘুম রাগসহ অনেক শারীরিক এবং মানসিক সমস্যার সাথে লড়াই করতে সহায়তা করে।

৪. আপনার মানসিন চাপ ম্যানেজ করতে শিখুন। মানসিক চাপের মধ্যে থাকা আবেগগুলো পরিচালনা করা অনেক কঠিন কাজ। আপনার স্ট্রেসের স্তরগুলো সম্পর্কে সচেতন হন এবং আপনি এগুলো হ্রাস করতে পারেন কিনা তা দেখুন।

আপনি চিঠিতে বলেছেন যে, তাকে ছাড়া থাকতে পারবেন না। আবার আপনি নরমাল লাইফে ব্যাক করতে চাচ্ছেন। পুরো বিষয়টা কন্ট্রাডিক্টরি। আপনি আপনার লাইফের সবকিছু পরিবর্তন বা ম্যানেজ করতে পারবেন কিন্তু অন্য কারোর লাইফ বা মন মানসিকতা পরিবর্তন করতে পারবেন না।

তাই আপনি নিজেকে পরিবর্তনের মাধ্যমে, নিজের লাইফস্টাইল পরিবর্তনের মাধ্যমে নিজের দৈনন্দিন অভ্যাস পরিবর্তন বা পরিবর্ধনের মাধ্যমে আপনি স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারেন। আজ কেউ আপনাকে যদি বলে “তুমি এইরকম এইরকম হলে আমি তোমার সাথে থাকবো,” আগামীতে সে অন্য কথাও বলতে পারে। কারণ তার মনের উপর শুধু মাত্র তার কন্ট্রোল আছে। যেমনটা আপনার মনের উপর আপনার থাকার দরকার।

তাই তিনটি পয়েন্ট বলি, সেগুলো বিবেচনা করে দেখবেন-
১. আপনি যা পরিবর্তন করতে পারবেন না কেবল তা নিয়ে চিন্তা করা কতটা যুক্তিযুক্ত বলে মনে করেন। বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে আপনি যা করতে পারবেন তাতে মনোনিবেশ করুন। আপনি যদি কোনকিছু পরিবর্তন করতে না পারেন, তবে এই বাস্তবতাটি গ্রহণ করুন।
২. আপনার যা কিছু আছে, যেমন- অনেকগুলো অর্জনের কথা বলেছেন, অনেক রিসোর্স রয়েছে, পরিবার-বন্ধুবান্ধব, এগুলো সহ এই পর্যন্ত যত অর্জন আছে তার জন্য নিজেকে গর্বিত মনে করুন।
৩. আপনার লক্ষ্য ও স্বপ্ন পুরনের দিকে অগ্রসর হন এবং সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহন করুন ।

আপনি আপনার আয়নার সামনে নিচের কথাগুলো লিখে রাখতে পারেন। এবং প্রতিদিন পড়ে নিজে সেই অনুযায়ী অভ্যাস গড়ে তুলতে পারেন। আপনার এই ছোট ছোট অভ্যাসগুলোই আপনার জীবনকে পরিবর্তন করবে।

The Serenity Prayer:
“God, grant me the serenity to accept the things I cannot change;
the courage to change the things I can;
and the wisdom to know the difference.”

রাতে পরিমিত ঘুম ও দৈনিক কিছু শারীরিক ব্যায়ামের অভ্যাস তৈরি করতে পারেন, এগুলো আমাদের মন ও শরীর উভয় শান্ত ও ভালো রাখতে সহায়তা করে। আপনার লিখা অনেক গোছানো, তাই নিয়মিত ডায়েরি লেখার অভ্যাস তৈরি করতে পারেন। প্রতিদিন লিখার অভ্যাস থাকলে আপনার মন হালকা হবে এবং ভালো বোধ করবেন।

এছাড়াও আপনি প্রতিদিন Self-Love Book লিখতে পারেন, এজন্য আপনাকে ছোট একটা পকেট ডায়েরি/নোট বুক নিতে হবে। প্রতিদিন আপনি সেটাতে আপনার সম্পর্কে পাঁচটি করে ইতিবাচক শব্দ/বাক্য লিখবেন। যেমন, আমি চাকরি করি , ফ্যামিলিকে সাপোর্ট করি, ভালো লিখতে পারি ইত্যাদি ইত্যাদি।

যেহেতু আপনি একজন মনোবিজ্ঞানীর কাছ থেকে দীর্ঘদিন ধরে পরামর্শ নিচ্ছেন নতুন কোনও কিছু জানার প্রয়োজন হলে বা কোনও সমস্যা পরিলক্ষিত হলে উনার বা যে কোন সাইকোলজিস্ট এর পরামর্শ নিতে পারেন। যিনি আপনার সমস্যা শুনে কিভাবে আপনার জীবনকে আরও সুন্দর করা যায় সে ব্যাপারে আপনাকে সাহায্য করবে। এছাড়াও আমাদের ‘মনচিঠি’ টিম সব সময় আপনার পাশে আছে। যেকোন প্রয়োজনে আমাদেরকে লিখতে পারেন।

মোঃ মোজাম্মেল হক তায়েফ
২০-০২-৩১, পিয়ার কাউন্সেলর, মনচিঠি by DUOS
mmh.decp8.du@gmail.com

📞 ভয়েস কলে কাউন্সেলিং/মানসিক স্বাস্থ্য পরামর্শ পেতে এখানে ক্লিক করে ফরমটি পূরণ করতে হবে।

👩‍⚕️ এ ছাড়াও ইমেইল আইডি, ফেসবুক পেজ এবং সেলফোন নম্বরে যোগাযোগ করে মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা পাওয়া যাবেঃ

👍 ফেসবুক পেজ (ক্লিক করুন)
💬 ফেসবুক মেসেঞ্জার (ক্লিক করুন)
📞 সেলফোন নম্বর : 01841 21 52 71
📧 ইমেইল আইডি : monchithi.duos@gmail.com

🌐 বিস্তারিতঃ www.duos.org.bd/monchithi

আমার কিছুই মনে থাকে না, এমনভাবে থাকে না যেন ওই জিনিস আমার সাথে হয়ই নাই

📮 মনচিঠি টেক্সট-২১ (প্রেরকের সম্মতিতে প্রকাশিত)

আমার আসলে মনে নাই শেষ কবে আমি একটু শান্তি নিয়ে ছিলাম। আমি জানি না কেনো কিন্তু এখন আমি আর নিতে পারছি না কারন আমার খালি বুকে ধড়ফড় করে আর শরীর কাপে। আমি ডক্টরও দেখিয়েছি কিন্তু আমার কোনো সমস্যা নেই বলেছেন। আমার কিছুই ভালো লাগে না আর আমি কোনো কিছুই ঠিক মত করতে পারি না।

১. আমি অনেক দিন যাবত খুব মানসিক যন্ত্রনায় আছি আর এখন এত বছর পরে আমার কাছে এই যন্ত্রনা নরমাল হয়ে গেছে।
২. আমার কিছুই মনে থাকে না, এমনভাবে থাকে না যেন ওই জিনিস আমার সাথে হয়ই নাই।
৩. আমি যেখানেই যাই, পলিটিক্সের স্বীকার হই।
৪. কম বয়স থেকে অনেক দায়িত্ব নিয়ে ফেলসি এখন আমি আর কিছু সহ্য করতে পারি না, তাও করতে হয়, দম বন্ধ লাগে, why me?
৫. আমার মন কখনই শান্ত হয় না, আমি অনেক বিক্ষিপ্ত অবিস্থায় থাকি।
৬. কিছুতেই মনোযোগ দিতে পারি না।
৭. আমি সুইসাইড করার চেষ্টা করছিলাম কিন্তু পারি নাই।
৮. আমার মাঝে মাঝে খুবই ভয় লাগত কারণ আমি উল্টাপাল্টা গন্ধ পাই যেটা আশেপাশের কেউই পায় না, এখন আর লাগে না।
৯. আমার চাইল্ডহুড খুবই বাজে, আমার ফ্যামিলির সব সদস্য এক একটা ফাজিলের বাচ্চা বিশেষ করে আমার চাচা, মামা টাইপ এই পাব্লিকগুলা আমাকে সারাক্ষন মানসিকভাবে হেয় করে।

💌 মনচিঠি টেক্সট-২১ এর উত্তর

প্রথমেই আপনাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি DUOS এর ‘মনচিঠি’তে চিঠি লিখে সাহায্য চাওয়ার জন্য।

আপনার লিখা থেকে বুঝতে পেরেছি আপনি খুব অশান্তির ভেতর দিয়ে যাচ্ছেন দীর্ঘ সময় ধরে। যেহেতু আপনার বাবা নেই এবং কোন ভাই-বোনও নেই তাই আপনাকে একাই সব দায়িত্ব নিতে হয়। একই সাথে আপনি আরো জানিয়েছেন আপনার আত্মীয়স্বজনরাও আপনাদেরকে তেমন সাহায্য করেন না।

আসলে এমন পরিস্থিতে খুব অসহায় অনুভব করাটাই স্বাভাবিক। আপনার এই অনুভূতির ফলে আপনার বুক ধড়ফড় করে এবং আরো কিছু শারীরিক সমস্যা হচ্ছে যার আসলেই শারীরবৃত্তীয় কোন কারণ নেই।

আপনি বলেছেন আপনি ডাক্তারও দেখিয়েছেন। আসলে আপনার এই সমস্যাগুলো এংজাইটি এর কারণে হচ্ছে। কারণ আসলে না পারছেন আপনি সহ্য করতে, না পারছেন সব কিছু থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখতে।

আপনি আরো বলেছেন আপনি আত্মহত্যার চেষ্টাও করেছেন। আমি বুঝতে পারছি আপনি আসলে কতটা কষ্টের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। আমরা আসলে কখনোই মরতে চাইনা, মারতে চাই কষ্টগুলোকে।

আপনি প্লিজ আপনার যে কাজগুলো করতে ভালো লাগে সেগুলো করবেন। সিথিলতার জন্য শ্বাস-প্রশ্বাস এর ব্যায়াম করবেন, ঠিকমত খাওয়া-দাওয়া করবেন। বিশ্বস্ত বন্ধুর সাথে অনুভূতিগুলো শেয়ার করবেন এবং ধর্মীয় কাজও করতে পারেন। আসলে বর্তমানে আমরা সবাই একটা অনিশ্চিত সময় পার করছি এবং এই পরিস্থিতিতে ভালো থাকাও একটু কষ্টকর।

আপনার এই আত্মহত্যাপ্রবনতা এবং শারীরিক সমস্যাগুলো যদি তীব্র হয় তাহলে আপনি প্লিজ ঢাকা মেডিকেল, বঙ্গবন্ধু মেডিকেল এর মানসিক রোগ বিভাগ অথবা জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউট এ একজন সাইকিয়াট্রিস্ট এর শরণাপন্ন হতে পারেন এবং একজন প্রফেশনাল সাইকেলজিস্ট এর কাছে যেতে পারেন।

মনে রাখবেন, মানসিক সেবা নেয়া মানেই আপনি পাগল হয়ে যাওয়া না। আমাদের সবারই দায়িত্ব মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি যত্নবান হওয়া।

আপনাকে আবারও অনেক ধন্যবাদ।

ফাতেমা আক্তার কেয়া
২০-০২-২০, পিয়ার কাউন্সেলর, মনচিঠি by DUOS
fatema00027@gmail.com

📞 ভয়েস কলে কাউন্সেলিং/মানসিক স্বাস্থ্য পরামর্শ পেতে এখানে ক্লিক করে ফরমটি পূরণ করতে হবে।

👩‍⚕️ এ ছাড়াও ইমেইল আইডি, ফেসবুক পেজ এবং সেলফোন নম্বরে যোগাযোগ করে মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা পাওয়া যাবেঃ

👍 ফেসবুক পেজ (ক্লিক করুন)
💬 ফেসবুক মেসেঞ্জার (ক্লিক করুন)
📞 সেলফোন নম্বর : 01841 21 52 71
📧 ইমেইল আইডি : monchithi.duos@gmail.com

🌐 বিস্তারিতঃ www.duos.org.bd/monchithi

আমরা দুজনেই ছোট ছিলাম তাই তখন ধর্মের ব্যাপারটা নিয়ে অতো ভাবিনি

📮 মনচিঠি টেক্সট-২৬ (প্রেরকের সম্মতিতে প্রকাশিত)

নমস্কার। আমার নাম……। বর্তমানে আমি বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। কিন্তু আমার মানসিক অবস্থার জন্য ঠিকমতো প্রস্তুতি নিতে পারছি না আমি। ক্লাস টেন এ আমি একটি সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ি। আর কাল প্রায় তিন বছরের এই সম্পর্কটা শেষ করি। আর সেটা শুধুমাত্র ধর্মের কারণে।

যদিও পরিবারে জানাজানি হয়নি। তবুও পরিবার মেনে নিবে না ভেবেই আমরা আমাদের সম্পর্কের ইতি টানি। তার সাথে বর্তমানে আমার কোনো যোগাযোগই নেই। কিন্তু কিছুতেই মনকে বুঝাতে পারছি না।

অনেকেই বলবে এতো ছোট বয়সে প্রেম তার উপর অন্য ধর্মের। পরিবার যে মানবে না এটা আগে জানতে না? তাই কাওকে বলতেও পারছি না। আমরা দুইজনেই ছোট ছিলাম তাই তখন ধর্মের ব্যাপারটা নিয়ে অতো ভাবিনি। আস্তে আস্তে যখন বুঝতে শুরু করলাম তখন ছাড়াছাড়িটা খুব কঠিন হয়ে পড়ে আমাদের জন্য। তা সত্ত্বেও, বাধ্য হয়েছি ব্রেক আপ করতে।

আমাদের মধ্যে কোনো ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল না যদিও, তবুও খুব ভালোবেসেছিলাম একে অপরকে। যাইহোক, ছাড়াছাড়ি তো হয়েই গেলো। কিন্তু আমি কিছুতেই পড়াতে মন বসাতে পারছি না। সামনে আমার পরীক্ষা এবং বরাবরের মতই আমার মা-বাবা আমার কাছ থেকে ভালো কিছুই আশা করেন। কিন্তু আমি নিজেকে ঠিক রাখতে পারছি না। এক্ষেত্রে আমার কী করণীয়?

💌 মনচিঠি টেক্সট-২৬ এর উত্তর

অনেক ধন্যবাদ আমাদের কাছে চিঠি লিখে আপনার বর্তমান অবস্থা এবং মনঃকষ্ট শেয়ার করার জন্য।

আপনার লেখা পড়ে বুঝতে পারছি, আপনাদের যে সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল তা বেশ সময়ে মজবুত বন্ধুত্বে রূপ নেয়, যা ভেঙ্গে যাওয়ায় আপনার মনে বেশ শূন্যতা এবং মন খারাপ অনুভূতি কাজ করছে। এ নিয়ে আপনি প্রচন্ড কষ্টও পাচ্ছেন। কিন্তু কারো সাথেই শেয়ার করতে পারছেন না। আপনার চারপাশে পৃথিবীকে ধূসর লাগছে।

পড়াশুনা, জীবনের গল্প পাল্টে গেছে বলে মনে হচ্ছে। সব কিছু থেকে বেরিয়ে আবার স্বাভাবিক জীবনে আসার ইচ্ছায় আপনি ‘মনচিঠি’র কাছে আপনার কথা বলেছেন।

এই কথাগুলো শেয়ার করেছেন, মানসিক স্বাস্থ্যের ব্যাপারে আপনি সচেতন একজন ব্যক্তি। আবারও আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ ও অফুরন্ত শুভেচ্ছা জানাচ্ছি আপনাকে।

আপনার প্রশ্নগুলোর উত্তর দেবার আগে আমি বলব যে, একজন পেশাজীবী মনোবিজ্ঞানী হিসেবে আমার কাজের কিছুটা সীমাবদ্ধতা আছে। একজন ব্যক্তি বা ক্লায়েন্ট যখন কোন মাধ্যমে তার মানসিক সমস্যা তুলে ধরেন এবং সাহায্য কামনা করেন, সাধারনত পরামর্শ আশা করেন, সেক্ষেত্রে আমরা পেশাজীবী মনোবিজ্ঞানী হিসেবে সেই সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে প্রত্যক্ষ কোন নির্দেশনা বা উপদেশসহ পরামর্শ দিতে পারি না। কারণ প্রত্যক্ষ নির্দেশনা দেয়া আমাদের পেশাগত সীমার বাইরে।

আমি আপনাকে সহযোগিতা করব, আপনার আবেগ কিভাবে আপনার চিন্তাকে প্রভাবিত করছে এবং আপনার আচরণ কিভাবে দৈনন্দিন জীবনকে ব্যহত করছে তা আপনার কথা থেকেই আপনার কাছে একটি চিত্র তুলে ধরবো। আপনার লেখাকে একে একে বিশ্লেষণ করলে,

আপনি জানিয়েছেন, আপনার সামনে ভর্তি পরীক্ষা, কিন্তু আপনার মানসিক অবস্থার জন্য ঠিকমতো প্রস্তুতি নিতে পারছেন না। আর তাতে আপনি আপনার ভবিষ্যতে ক্যারিয়ার নিয়ে চিন্তিত।

আপনার ফলাফল ঘিরে আপনার বাবা মার প্রত্যাশার কথাও উল্লেখ করেছেন। আপনি আপনার পরিবার এবং আপনার ক্যারিয়ার নিয়েও কিছুটা চিন্তিত।

আপনি আরো লিখেছেন যে, আপনারা যখন বুঝা শুরু করেন তখন সম্পর্ক থেকে সরে আসা খুব কঠিন হয়ে পড়েছিল তবুও আপনারা দুজনের সিদ্ধান্তে সম্পর্ক থেকে দূরে আছেন। এই দূরে সরে যাওয়াটি মেনে নিতে আপনার খুব মন খারাপ এবং স্বাভাবিক কাজে ব্যাঘাত ঘটছে।

অর্থ্যাৎ যদি আমরা আমাদের হাতকে ব্রেনের কাঠামোর মতো মনে করি। এবার মুঠো করি হাত। তাহলে হাতের উপরের অংশ হলো আমাদের চিন্তা, বুদ্ধি, ভাবনা, বাস্তবতাকে বুঝা, সমস্যা সমাধানের কৌশল অর্থ্যাৎ লজিক্যাল ব্রেন। আর হাতের নিচের অংশটি হলো ইমোশনাল ব্রেন আনন্দ, দুঃখ, কষ্ট, ভয় সবকে ঘিরে।

বলা হয়, যখন আমরা কোন একটি বিষয়ে অনেক মজবুত আবেগীয় বন্ধনে জড়িয়ে পড়ি এবং ঐ বন্ধনের বিচ্ছেদে আমাদের হাতটি আস্তে করে খুলে যায়। তখন আমরা আমাদের লজিক্যাল ব্রেনকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারি না। আর আবেগীয় ব্রেন ৫গুন বেশি শক্তিশালী হয়ে মনে ঝড় তোলে। ফলে অবাস্তব চিন্তা, মেজাজ খিটখিটে আর আবেগকে অনিয়ন্ত্রিত মনে হয়। মনে হয় আমি এই কষ্টটাকে কোন ভাবেই মেনে নিতে পারব না। এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসা আমার পক্ষে সম্ভব নয়।

তবে সময় নিয়ে কাউন্সেলিং এর মাধ্যমে আপনি এই বিষয়টি সম্পর্কে আরো ক্লিয়ার ধারণা নিয়ে অবশ্যই আবেগীয় কষ্ট থেকে বেরিয়ে আসতে পারবেন। মনের ভেতরে জমে থাকা চিন্তাগুলো এবং অনুভূতির প্রকাশে সহায়তা করতে পারে আপনাকে।

এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে একজন প্রফেশনাল কাউন্সিলরের সাহায্য দরকার হয়, যাতে করে আপনি আপনার আচরণের উপর ঐ চিন্তা এবং অনুভূতির প্রভাব সম্পর্কে ধীরে ধীরে সচেতন হতে পারেন। তাছাড়া কোন সমস্যায় পড়লে আপনি নিজেই চিন্তা, অনুভূতি এবং আচরণ কিভাবে প্রভাবিত হচ্ছে তা বুঝতে পারেন এবং তার সমাধান আছে তা সম্পর্কে সঠিকভাবে জানতে পারেন।

আবার এই পরিবর্তিত চিন্তা, অনুভূতি এবং আচরণের জন্য যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে এবং তা কিভাবে সমস্যাকে আরো দীর্ঘায়িত করছে তাও আপনার বুঝতে সহজ হবে যদি আপনি সময় নিয়ে সেশন নেন।

আপনার সমস্যাটি দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলে তা আপনার পড়াশুনা, দৈনন্দিন কাজে বেশ প্রভাব ফেলবে। তাই স্বাভাবিক জীবন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আপনার কোন পেশাজীবী মনোবিজ্ঞানী থেরাপিস্টের শরণাপন্ন হওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

পুনরায় আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ আমাদের সাথে আপনার কষ্ট শেয়ার করার জন্য।

ফাতেমা শাহরিন
২০-০২-১৮, পিয়ার কাউন্সেলর, মনচিঠি by DUOS
zummi093824@gmail.com

📞 ভয়েস কলে কাউন্সেলিং/মানসিক স্বাস্থ্য পরামর্শ পেতে এখানে ক্লিক করে ফরমটি পূরণ করতে হবে।

👩‍⚕️ এ ছাড়াও ইমেইল আইডি, ফেসবুক পেজ এবং সেলফোন নম্বরে যোগাযোগ করে মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা পাওয়া যাবেঃ

👍 ফেসবুক পেজ (ক্লিক করুন)
💬 ফেসবুক মেসেঞ্জার (ক্লিক করুন)
📞 সেলফোন নম্বর : 01841 21 52 71
📧 ইমেইল আইডি : monchithi.duos@gmail.com

🌐 বিস্তারিতঃ www.duos.org.bd/monchithi

মনে হচ্ছে এই সব কিছু যা খারাপ হচ্ছে সব কিছু আমার জন্য হচ্ছে

📮 মনচিঠি টেক্সট-৩৭ (প্রেরকের সম্মতিতে প্রকাশিত)

আমি খুব ছোটবেলা থেকেই হীন্নমন্যতাই ভুগছি। আমি পরাজয়কে কোনোভাবেই মেনে নিতে পারতাম না। আমার চেয়ে কেউ ভালো রেজাল্ট করলে খুব কষ্ট পেতাম।

আমার মাও আমাকে অনেক শাসন করত। সবসময় পড়াশোনা ছাড়া অন্য কিছু করতে দিত না। ফলশ্রুতিতে আমি যখন ভালো কিছু করতে পারতাম না তখন অনেক কথা শুনতে হত।

আমি যখন HSC-তে পড়ি তখন আমার একটা রিলেশনশিপ ছিল। কিন্তু পরিবারের জানাজানির জন্য তা ভেঙে যায়। আমি মানসিকভাবে খুব ভেঙে পড়ি। তারপর অনেক কস্ট করে আবার পড়াশোনা শুরু করি।

আমার মা-বাবার স্বপ্ন ছিল আমি সরকারি মেডিক্যাল কলেজে পড়বো। কিন্তু তা আর হলো না। আমি একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসিতে চান্স পেলাম। তাও আমাকে অনেক কথা শুনতে হত।

দিনগুলো কেটে যাচ্ছিল। এর মধ্যে আমার একজনের সাথে পরিচয় হয়। আমি তাকে অনেক ভালোবাসি সেও আমাকে অনেক ভালোবাসে। আমরা পালিয়ে বিয়েও করে ফেলি। আমার পরিবার মেনেও নিয়েছে অনেকটা। কিন্তু বর্তমানে এই লকডাউন পরিস্থিতিতে আমি আবার মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছি। আমি ঠিকঠাক মতো কোনো কাজই করতে পারছি না। পড়াশোনাও করতে পারছি না। যা পড়ছি কিছুই মনে থাকছে না। সব কিছুই ভুলে যাই।

মারাত্মক Depression এ ভুগছি। মনে হচ্ছে এই সব কিছু যা খারাপ হচ্ছে সব কিছু আমার জন্য হচ্ছে। আমি কিছু করতে পারবো না জীবনে। আমার দ্বারা কিছুই হবে না। আমি কারও স্বপ্ন পূরণ করতে পারিনি। আমার শুধু আত্মহত্যা করতে ইচ্ছে করছে। উল্লেখ্য আমার পরিবারের আর্থিক অবস্থা ও আমার স্বামীর ভবিষ্যৎ নিয়েও আমি গত দেড় বছর ধরে খুবই দুশ্চিন্তাগ্রস্ত। আমাকে করে দয়া করে একটু সাহায্য করুন।

💌 মনচিঠি টেক্সট-৩৭ এর উত্তর

অনেক ধন্যবাদ আপনাকে ‘মনচিঠি’তে আপনার সমস্যাটি তুলে ধরার জন্য। আপনার লেখা পড়ে বুঝতে পারছি আপনার সমস্যাটি আপনি খুব ছোটবেলা থেকেই ভুগছেন। ছোটবেলা থেকে আপনি আবেগপ্রবণ ছিলেন ফলে আপনার চেয়ে কেউ ভালো রেজাল্ট করলেই খুব কষ্ট পেতেন।

ছোটবেলা থেকে সবসময় আপনি Doing এর জন্য (পড়াশোনায় ভালো করলে তুমি ভালো) প্রশংসা পেতেন সবসময় Growing এর জন্য কম প্রশংসা পেয়েছেন। যার ফলে বর্তমানে একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ফার্মেসিতে চান্স পাওয়ার পরও অনেক কথা শুনতে হয়েছে আপনাকে।

আপনি বলছিলেন আপনার রিলেশনশিপের কথা, আপনি সেই সময় মানসিকভাবে খুব ভেঙে পড়া সত্ত্বেও পুনরায় পড়াশোনা শুরু করছেন তার মানে আপনার নিজের মধ্যে মানসিকভাবে নিজেকে সামলে নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার স্কিল রয়েছে।

লকডাউনে পরিস্থিতিতে আপনি আবার মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন জানিয়েছেন, ঠিকঠাক মতো কোনো কাজই করতে পারছেন না, পড়াশোনাও করতে পারছেন না। যা পড়ছেন কিছুই মনে থাকছে না আপনার। সব কিছুই ভুলে যাচ্ছেন।

বর্তমানে আপনি মনে করছেন মারাত্মক Depression-এ ভুগছেন এবং আপনার সুইসাইডাল থট আসছে। মানসিক সমস্যা গুলো একদিনে তৈরি হয় না।

আমি আন্তরিকতার সাথে আপনাকে জানাচ্ছি আপনি একা নন। আমি আপনার মানসিক কষ্ট বুঝতে পারছি এবং আপনার পাশে আছি।

বর্তমানে আপনার কষ্টের কথাগুলো আপনি একজন প্রফেশনাল সাইকোলজিস্টের কাছে শেয়ার করবেন। এমনকি সরাসরি অনলাইন সেবা নিতে পারেন। ‘মনচিঠি’তে আপনি ফ্রি কাউন্সেলিং সেবা পেতে পারেন। কারণ আপনার কথা আমি বুঝতে পেরেছি এবং আপনার প্রতিটি আবেগ আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। আপনি একজন প্রফেশনালের হেল্প নিন প্লিজ নিয়মিত কাউন্সেলিং নিন। বর্তমানে আপনার জন্য তা ভীষণ জরুরী।

অনেক সময় জীবনের নানান ইস্যু জমতে জমতেই এমন হয় তাই যদি মনে হয় আপনার কাউন্সেলিং নেয়া দরকার তাহলে তা যত দ্রুত সম্ভব নিন। দেরি করবেন না। সেটা করলে আপনি আরও বেশি উপকৃত হবেন বলে আমি মনে করছি।

নিজের যত্ন নিবেন প্লিজ। ধন্যবাদ।

ফাতেমা শাহরিন
২০-০২-১৮, পিয়ার কাউন্সেলর, মনচিঠি by DUOS
zummi093824@gmail.com

📞 ভয়েস কলে কাউন্সেলিং/মানসিক স্বাস্থ্য পরামর্শ পেতে এখানে ক্লিক করে ফরমটি পূরণ করতে হবে।

👩‍⚕️ এ ছাড়াও ইমেইল আইডি, ফেসবুক পেজ এবং সেলফোন নম্বরে যোগাযোগ করে মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা পাওয়া যাবেঃ

👍 ফেসবুক পেজ (ক্লিক করুন)
💬 ফেসবুক মেসেঞ্জার (ক্লিক করুন)
📞 সেলফোন নম্বর : 01841 21 52 71
📧 ইমেইল আইডি : monchithi.duos@gmail.com

🌐 বিস্তারিতঃ www.duos.org.bd/monchithi

ওই মেয়েটার সাথে আর কখনোই রিলেশনে যেতে চাইনা

📮 মনচিঠি টেক্সট-৩৬ (প্রেরকের সম্মতিতে প্রকাশিত)

১. গার্লফ্রেন্ড ছিলো। প্রায় ১০ মাসের মতো আমাদের সম্পর্ক ছিলো। আমি তাকে পাগলের মতো ভালোবাসতাম। কিন্তু একদিন যেকোনোভাবে ওর পাসওয়ার্ড নেই এবং দেখি আমি ছাড়াও তার আরও ২/৩ জন বয়ফ্রেন্ড আছে। এবং তাদের মধ্যে অনেক এডাল্ট কথাবার্তা ছিলো। যেটার জন্য ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে আমাদের ব্রেকাপ হয়। ব্রেকাপের পর ও আমার কাছে ক্ষমা চেয়ে ফিরে আসতে চায় কিন্তু আমি আর ওগুলো নিতে পারিনি। ব্রেকাপ ছিল ফাইনাল ডিসিশন। তবুও আমাদের প্রায় ৩/৪ মাস ধরে কথা হতো। সপ্তাহে একদিন দুদিন। এখন আর হয়না। আমি তখন থেকে খুবই অসহায় বোধ করি। আমি ছেলে হওয়া স্বত্তেও প্রচুর কান্না করি প্রতিনিয়ত। ব্রেকাপের ৭/৮ মাস পরে এসেও নিজেকে খুব অসহায় আবিষ্কার করি।

২. ঠিক এই মুহূর্তে আমার সবকিছুই আছে। বাবা মা পরিবার পরিজন আত্মীয় স্বজন। টিউশনি করার জন্য পর্যাপ্ত টাকাও আছে। সকলের অফুরান ভালোবাসাও আছে। তবুও কী যেন নেই। প্রতিটি দিন আমাকে কুড়ে কুড়ে খায়। রাত হলেই এসব ধরা দেয়।

৩. ক্যাম্পাস বন্ধ থাকাটাও একটা সমস্যা। বাসায় থাকার জন্য খুবই বোরিং লাগে।

৪. একজন পরামর্শ দিয়েছিল এখন নতুন করে রিলেশনে যেতে। গত কয়েক মাসে ৭/৮ টা প্রোপোজাল পেয়েছি। কিন্তু কেনো যেনো কারো প্রতিই আমার ফিলিংস নেই। আমি আবার সবকিছু শুরু করতে পারি এটা আমি ঠিক কল্পনাও করতে পারছি না।

বি.দ্রঃ ওই মেয়েটার সাথে আর কখনোই রিলেশনে যেতে চাইনা।

💌 মনচিঠি টেক্সট-৩৬ এর উত্তর

DUOS-এর ‘মনচিঠি’তে সাহায্য চাওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি । আপনার চিঠিটি আমি মনোযোগ দিয়ে ও ধৈর্য সহকারে পড়েছি এবং আপনাকে উত্তর দিতে পেরে আনন্দবোধ করছি।

আপনি অনেক সুন্দর করে পয়েন্ট আকারে আপনার মনের কথাগুলো চিঠিতে লিখেছেন।

আপনার লিখা থেকে বুঝতে পারলাম যে, আপনি যাকে ভালোবাসতেন সে আপনিসহ আরো কয়েক জনের সাথে সম্পর্কে জড়িত ছিলো। আপনি সেটা জানতে পারার পর আপনাদের সম্পর্কের ইতি টানেন।

আরো বুজতে পারলাম যে, আপনি তাকে ক্ষমা করতে পারছেন না এবং আপনার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছেন ও তার সাথে আর রিলেশনে যেতে চান না। মাঝে মধ্যে আপনি তার (আপনার গার্লফ্রেন্ডের) সাথে কথা বলতেন, কিন্তু এখন কথা না বলায় আপনার একাকী লাগে এবং অসহায় বোধ করেন। কান্নাও করেন।

প্রথমেই বলি, ছেলে হলে যে কান্না করা যাবে না সেটা কিন্তু না। আবেগ/অনুভূতি সবারই থাকে, সেখানে ছেলে/মেয়ে আলাদা কিছু নেই। আনন্দ, কষ্ট, রাগ ইত্যাদি অনুভূতি আমাদের জীবনেরই অংশবিশেষ, কান্না তার একটি বহিঃপ্রকাশ মাত্র।

আপনার পরিবার-পরিজন/আত্মীয় স্বজন সবাই থাকা সত্বেও আপনি যখন একাকী হন (বিশেষ করে রাতের সময়) তখন আপনার অতীত স্মৃতি মনে হয় কষ্ট হয়। আপনার ব্যক্তিগত বিষয়গুলো বিশ্বস্ত কারোর সাথে শেয়ার করলে আপনার মনের কষ্ট অনেকটা কমবে বলে আমি মনেকরি। সেই সাথে ক্যাম্পাস বন্ধ থাকার কারণে আপনার অসহ্য লাগে।

সব কিছু থাকার পরেও আপনার কি যেনো নেই, সেই চিন্তা করেন। ওই সময় ইমোশনাল ব্রেন বেশি কাজ করে ও লজিক্যাল ব্রেন কম কাজ করে।

(আপনি বলছেন প্রতিটি দিন আপনাকে কুড়ে কুড়ে খায়) ওই সময় আপনার মনে ঠিক কী কী ধরনের চিন্তা আসে সেটা জানলে উত্তর দিতে সুবিধা হতো, যেহেতু চিন্তাগুলো আপনাকে কষ্ট দেয়, ধরে নিলাম এগুলো নেতিবাচক চিন্তা। {এটা আমার ব্যক্তিগত মতামত মাত্র, ব্যাতিক্রম কিছু থাকলে সংশোধন করে দিবেন এং ক্ষমা করবেন।}

আমরা যখন কোন কিছু নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা করি, তখন আমাদের সমস্যাটি সমাধানের জন্য ঠিক কী প্রয়োজন, সেই ব্যাপার থেকে আমাদের ফোকাসটি সরে যায়৷ আর আমরা আরও বেশি করে সমস্যায় জড়িয়ে পড়ি।

ঐ সময় সর্ব প্রথম আপনাকে যা করতে হবে তা হলো মনকে শান্ত করা। সেজন্য আপনি নিয়মিত মেডিটেশন বা ধ্যান করতে পারেন। এগুলো আমাদের মনকে শান্ত রেখে আমাদের মনোযোগ বাড়াতে সাহায্য করে।

মনোবিজ্ঞানে একটা শব্দ রয়েছে- মাইন্ডফুলনেস। মাইন্ডফুলনেস হলো দেহের এমন একটা পর্যায়, যেখানে আমাদের দেহ মস্তিষ্কের সাথে সামঞ্জস্য রক্ষা করে দেহকে একটা সুস্থির অনুভব দান করে। এই মাইন্ডফুলনেসই মূলত মেডিটেশনের সংজ্ঞা উপস্থাপন করে। সোজা বাংলায় বললে, মেডিটেশন হলো মানবদেহ, মন ও মস্তিষ্ককে শান্ত ও শিথিল করার একটি চর্চাসরূপ। এটিকে একধরনের ব্যায়ামও বলা যায়। তবে এটি আর ১০টি ব্যায়ামের মত দেহের মাংসপেশির বিকাশ ঘটায় না, বরং এই ব্যায়াম অল্প সময়ের জন্য হলেও ব্যাক্তি মনস্তাত্ত্বিক অবস্থাকে সবকিছু থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে ও শূন্য মস্তিষ্ককে আরও বেশি একাগ্র হতে ধাবিত করে।

কম্পিউটার চালানোর সময় উইন্ডোজ ধীরগতি হয়ে গেলে আমরা যেমন মাউসের রাইট ক্লিক করে উইন্ডোজকে রিফ্রেশ করে নিই, ঠিক তেমনি মেডিটেশন আমাদের দেহের জন্য কম্পিউটারে রিফ্রেশ বাটনের মত কাজ করে।

ইউটিউব বা গুগলে অসংখ্য মেডিটেশন এর টিউটোরিয়াল রয়েছে। সেখান থেকে আপনি আপনার পছন্দ ও স্বাচ্ছন্দ্য অনুযায়ী এক বা একাধিক অনুশীলন বেছে নিয়ে সেগুলো চর্চা করতে পারেন। মানসিকভাবে স্থির থাকার জন্য আমরা সব সময় Breathing Exercise করার কথা বলে থাকি।

এজন্য আপনাকে প্রথমে লম্বা করে মুখ দিয়ে শ্বাস নিতে হবে, কিছুটা সময় তা ধরে রাখতে হবে (৪/৫ সেকেন্ড), তারপর ধীরে ধীরে মুখ দিয়ে প্রশ্বাস ছাড়তে হবে। এভাবে আপনি ৩/৫ বার এই ব্যায়াম করবেন। এই ব্যায়াম আপনার বুক ধড়ফড় ও অস্বস্তি ভাব কমাতে সাহায্য করবে।

এছাড়াও আরো ভালো ভাবে বুঝার জন্য আপনি একটি ভিডিও দেখতে পারেন – “https://youtu.be/u6zGTgrO90Y”

আপনি যখন বোর ফিল করেন (বিশেষ করে রাতে) তখন যেকোন ধরনের একটিভিটি করতে পারেন। এতে আপনার দেহ ও মন দুইটাই ভালো থাকবে । নিজের শখ ও ভালোলাগার কাজগুলো করার অভ্যাস তৈরি করতে পারেন যাতে মন ভালো থাকে। সেই সাথে একাকীত্ব কমে যায়।

আগে যে সময়টায় আপনি তার (আপনার গার্লফ্রেন্ডের) সাথে কথা বলতেন, সেটা একরকম অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। এখন এই সময় ঐ কাজটা না করায় মনে একটা অপ্রাপ্তি কাজ করে । আপনি যদি সেই সময় অন্য কোনো কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখেন তাহলে আপনার পজিটিভ চেঞ্জ আসবে আশাকরি।

আপনি নতুন কোনও রিলেশনে যেতে চাচ্ছেন না, তার কারণ হিসেবে কি বলা যায় যে, আপনি আপনার সেই গার্লফ্রেন্ডকে ক্ষমা করতে পারছেন না। আপনি তার জন্য না, আপনার নিজের ভালো থাকার জন্য তাকে ক্ষমা করা দরকার বলে আমি মনেকরি। অতীতের ঘটে যাওয়া সব ঘটনাকে মেনে নিয়ে নিজেকে ও তাকে ক্ষমা করা এবং সামনে এগিয়ে যাওয়া যুক্তিযুক্ত হবে বলে আমি মনে করি।

নতুন করে রিলেশনে যাওয়াটা সম্পূর্ণ আপনার ইচ্ছের উপর নির্ভরশীল, আপনার বর্তমান অবস্থান থেকে সরে আসার জন্য (মুভ অন করার) এটা একটা মাধ্যম হতে পারে। আপনার পরিবার ও বন্ধু-বান্ধব অনেকেই আছেন, যারা আপনাকে পছন্দ করে, স্নেহ করে ও ভালোবাসে। আপনি চাইলে তাদের সাথে কোয়ালিটি টাইম কাটাতে পারেন। ইংরেজি তে একটা প্রবাদ আছে- “Time Heals All Wounds.”

তিনটা পয়েন্ট বলি, সেগুলো বিবেচনা করে দেখবেন-
১. আপনি যা পরিবর্তন করতে পারবেন না কেবল তা নিয়ে চিন্তা করা কতটা যুক্তিযুক্ত বলে মনে করেন। বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে আপনি যা করতে পারবেন তাতে মনোনিবেশ করুন । আপনি যদি কোন কিছু পরিবর্তন করতে না পারেন, তবে এই বাস্তবতাটি গ্রহণ করুন ।
২. আপনার যা কিছু আছে, যেমন- অনেকগুলো অর্জনের কথা বলেছেন, অনেক রিসোর্স রয়েছে, পরিবার-বন্ধুবান্ধব, এগুলোসহ এই পর্যন্ত যত অর্জন আছে তার জন্য নিজেকে গর্বিত মনে করুন ।
৩. আপনার লক্ষ্য ও স্বপ্ন পুরনের দিকে অগ্রসর হন এবং সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহন করুন ।

রাতে পরিমিত ঘুম ও দৈনিক কিছু শারীরিক ব্যায়ামের অভ্যাস তৈরি করতে পারেন, এগুলো আমাদের মন ও শরীর উভয় শান্ত ও ভালো রাখতে সহায়তা করে। আপনার লেখা অনেক গোছানো, তাই নিয়মিত ডায়েরি লেখার অভ্যাস তৈরি করতে পারেন। প্রতিদিন লেখার অভ্যাস থাকলে আপনার মন হালকা হবে এবং ভালো বোধ করবেন।

আপনি সরাসরি একজন মনোবিজ্ঞানীর সাথে যোগাযোগ করলে ভালো হয় , যিনি আপনার সমস্যা শুনে কিভাবে আপনার জীবনকে আরও সুন্দর করা যায় সে ব্যাপারে আপনাকে সাহায্য করবেন। এছাড়াও আমাদের ‘মনচিঠি’ টিম সব সময় আপনাদের পাশে আছে। যে কোন প্রয়োজনে আমাদেরকে লিখতে পারেন।

মোঃ মোজাম্মেল হক তায়েফ
২০-০২-৩১, পিয়ার কাউন্সেলর, মনচিঠি by DUOS
mmh.decp8.du@gmail.com

📞 ভয়েস কলে কাউন্সেলিং/মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা পেতে এখানে ক্লিক করে ফরমটি পূরণ করতে হবে।

👩‍⚕️ এ ছাড়াও ইমেইল আইডি, ফেসবুক পেজ এবং সেলফোন নম্বরে যোগাযোগ করে মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা পাওয়া যাবেঃ

👍 ফেসবুক পেজ (ক্লিক করুন)
💬 ফেসবুক মেসেঞ্জার (ক্লিক করুন)
📞 সেলফোন নম্বর : 01841 21 52 71
📧 ইমেইল আইডি : monchithi.duos@gmail.com

🌐 বিস্তারিতঃ www.duos.org.bd/monchithi

সফল মানুষ মাত্রই সুখী মানুষ নন

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন, সারা বিশ্বেই তিনি এখন তুমুল আলোচিত। ২০১৭ সালের ২১ মে যুক্তরাষ্ট্রের কলবি কলেজের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে তরুণদের সামনে এক অনবদ্য বক্তৃতা দিয়েছিলেন তিনি। যে বক্তৃতায় তাঁর নীতি, অনুপ্রেরণা, মনোভাব সম্পর্কে জানা যায়।

“সমাবর্তন বক্তৃতা দেওয়া আমার কাছে খুব কঠিন কাজ মনে হয়। সত্যিই। কারণ, বক্তৃতা চলাকালীন শিক্ষকেরা মনে মনে বলেন, ‘এখন জীবনের ১৫তম সমাবর্তন বক্তৃতাটা শুনতে হবে।’ শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘তাড়াতাড়ি শেষ করুন, আমাদের পার্টি শুরু হবে।’ আর অভিভাবকেরা বলেন, ‘অর্থবহ কিছু বলুন, যেন টিউশন ফি দেওয়াটা সার্থক মনে হয়।’ তবে তাই হোক। চেষ্টা করব, তবে জানি না পারব কি না।

১৯৬৮ সালে জর্জটাউন ইউনিভার্সিটিতে সমাবর্তন বক্তৃতা দিতে হাজির হয়েছিলেন বব হোপ। তখন ভিয়েতনাম যুদ্ধের মাঝামাঝি সময়। পরিস্থিতি ক্রমশ খারাপ হচ্ছে। উপস্থিত অন্যান্য তারকা, শিক্ষকদের পর বব হোপ বক্তৃতা দিতে দাঁড়ালেন। শিক্ষার্থীদের দিকে তাকিয়ে তিনি বলেছিলেন, ‘তোমাদের আমার শুধু একটা কথাই বলার আছে: যেয়ো না’। এ কথা বলে তিনি বসে পড়লেন। এটাই সম্ভবত সে বছরের সবচেয়ে অর্থবহ সমাবর্তন বক্তৃতা ছিল।

বাবার কাছে শেখা

আমার বাবা ছিলেন একজন সহৃদয় ব্যক্তি। হাইস্কুল পর্যন্ত পড়ালেখা করেছেন। কিন্তু শিক্ষিত এবং সত্যিকার সজ্জন ছিলেন। বলতেন, ‘জো, প্রত্যেক নারী, পুরুষ, শিশুকে শ্রদ্ধা করা উচিত। সম্মান সবার প্রাপ্য।’ চলার পথে কেউ ভিক্ষা চাইছেন, আর আমার বাবা তাঁকে কিছু না দিয়েই চলে গেছেন, এমন কখনো হয়নি। আমি বলতাম, ‘বাবা, সে তো এই টাকা ফুর্তি করবে, মদ খাবে।’ বাবা বলতেন, ‘তোমার কি মনে হয়, ভিক্ষা ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প পথ থাকলে তিনি এই কাজ করতেন? মানুষটা যে-ই হোন না কেন, মর্যাদা তাঁর প্রাপ্য।’

বন্ধুরা, তোমাদের সবার অনেক দায়িত্ব—তোমরা জানো, মানুষকে সম্মান দেওয়ার শিক্ষা তোমরা এখানে পেয়েছ, এখানে আসার আগেও পেয়েছ। সমানুভূতিপূর্ণ একটা শক্তিশালী সম্পর্ক গড়ে তুলতে আমাদের সবাইকে কাজ করতে হবে। যেন যে বন্ধুরা আমাদের মতো নন, তাঁরা জানেন, আমরা তাঁদের বুঝি।

অনলাইনে আমরা নিজেরা নিজেদের প্রতিধ্বনি শুনতে পাই, এই আত্মকেন্দ্রিকতা কোনো জীবন নয়। মুঠোফোন বা কম্পিউটারের পর্দার দিকে তাকিয়ে বেঁচে থাকা আমাদের একটা অগভীর, আন্তরিকতাহীন সম্পর্কের দিকে ঠেলে দেয়। ফলে মানুষের ধ্যানধারণায় অনেক সীমাবদ্ধতা থেকে যায়। একজন মানুষ একটা খারাপ সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, কিন্তু আমরা তাঁকে খারাপ মানুষ ভেবে দূরে ঠেলে দিই। টেবিলের উল্টো দিকে থাকা মানুষটি হয়তো এমন এক জনগোষ্ঠী থেকে উঠে এসেছেন, যাঁদের কাছে আমি কখনো যাইনি। রাজনৈতিক বিতর্কের মঞ্চে যিনি আমার উল্টো দিকে আছেন, তিনি দেখতে আমার মতো নন, তাঁর বেড়ে ওঠা হয়তো একেবারেই ভিন্ন। মানবিকতার আদর্শ উদাহরণ তাঁরা নন, বৈশিষ্ট্যে-গুণে নানা জায়গায় ঘাটতি আছে। তাঁরাও রক্ত-মাংসের মানুষ, ত্রুটিযুক্ত, পৃথিবীতে সফল হওয়ার সংগ্রাম করে যাচ্ছেন—ঠিক তোমার মতোই। তোমার ভেতর যত জটিল অনুভূতি খেলা করে, তোমার উল্টো দিকের মানুষটির ক্ষেত্রেও তা-ই, সেভাবেই তাঁকে গ্রহণ করার চেষ্টা করতে হবে।

ব্যক্তিগত সম্পর্কের শক্তি

ক্যাম্পাসে গল্প করার সময় তোমরা যখন একে অন্যের গল্প শোনো, তা থেকে তোমার নিজের একটা গল্প তৈরি হয়। কলবিতে তুমি যত কিছু শিখেছ, এটাই হয়তো তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, জীবনে চলার পথে আমি দেখেছি, ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে তোলাই আসলে সব। রাজনৈতিক সম্পর্ক বলো, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বলো—সবই আসলে ব্যক্তিগত সম্পর্ক।

গত ৪২ বছরে বিশ্বের সব বড় বড় নেতার সঙ্গে আমার দেখা হয়েছে। এমন অনেক মানুষের সঙ্গে মিশেছি, যাঁদের ক্ষমতাবান বলে মনে করা হয়, এমনকি তাঁরা সত্যিই ক্ষমতাবান। আমি দেখেছি, সফল মানুষ মাত্রই সুখী মানুষ নন। যাঁরা সাফল্য আর সুখের মাঝখানের মধুরতম জায়গাটা আবিষ্কার করতে পারেন, আমি দেখেছি তাঁদের প্রত্যেকেরই ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে তোলার গুণ আছে। সহকর্মীর মা-বাবা যখন অসুস্থ থাকেন, কিংবা তাঁর সন্তান যখন কলেজ স্নাতক হন কিংবা কোনো দুর্ঘটনার শিকার হন, তাঁর খোঁজ রেখো। এটিই সত্যিকার সম্পর্ক গড়ে তোলে, পরস্পরের মধ্যে বিশ্বাস তৈরি করে, কঠিন এই পৃথিবীতে আমাদের চলার পথ সহজ করে।

এই শিক্ষা আমি পেয়েছি, যখন ৩০ বছর বয়সী একজন তরুণ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের অংশ হই। আমি সিনেটে যেতে চাইনি। ৩ নভেম্বর আমি নির্বাচিত হই। ১৮ ডিসেম্বর ওয়াশিংটন ডিসিতে আমার কর্মীদের নিয়োগ দিতে ব্যস্ত ছিলাম। এমন সময় একজন নারী আমাকে ফোন করলেন। তিনি আমাকে চেনেন না, সে জন্যই তাঁকে দিয়ে ফোনটা করানো হয়েছিল। একঘেয়ে স্বরে তিনি বললেন, ‘মিস্টার বাইডেন, আপনার স্ত্রী মারা গেছেন। আপনার মেয়ে মারা গেছেন। আপনার ছেলে বাঁচবেন কি না জানি না। আপনার এখন বাড়ি ফেরা উচিত।’ আমার পরিবার ক্রিসমাসের কেনাকাটা করতে গিয়েছিল। এমন সময় একটা ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষ হলো, আর হঠাৎ করেই সব বদলে গেল।

এ ঘটনা আমার জীবনে একটা বড় শিক্ষা। মাইক ম্যানসফিল্ড, এড মাসকির এবং আরও কয়েকজন প্রবীণ সিনেটর বলেছিলেন, ‘আসুন, শপথ গ্রহণ করুন। ছয় মাসের জন্য থাকুন। মাত্র ১ হাজার ৭০৩ জন মানুষের শপথ গ্রহণের সৌভাগ্য হয়েছে। আপনাকে এই অবস্থানে আনার জন্য আপনার স্ত্রী কঠোর পরিশ্রম করেছেন। পরিবারের ঋণ শোধ করতেই আপনার শপথ গ্রহণ করা উচিত।’ কিন্তু আমি যেতে চাইনি। তাই যেদিন আমার শপথ গ্রহণ করার কথা, সেদিন আমি সিনেটে যেতে রাজি হলাম না। আমিই সম্ভবত ইতিহাসের একমাত্র সিনেটর, যিনি হাসপাতালে শপথ গ্রহণ করেছি। কারণ, আমি আমার ছেলেকে ছেড়ে যেতে চাইনি। তাই সেক্রেটারি হাসপাতালে এসেছিলেন আমাকে শপথ গ্রহণ করানোর জন্য।

তোমাদের প্রজন্মের ওপর সফল হওয়ার ভীষণ চাপ। তোমাদের অর্জন অনেক। কিন্তু একই সঙ্গে হয়তো লক্ষ্য করেছ, তোমরা একটা গণ্ডির মধ্যে পড়ে গেছ। যে গণ্ডিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার চেয়ে সমাজের তৈরি করা ‘সফল হওয়ার ফাঁদে’ পড়াই গ্রহণযোগ্য। ‘চাকরি করো, মাথা গোঁজার একটা ঠাঁই তৈরি করো, বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে ঘুরে বেড়াও, কোনো ঝুঁকি নিয়ো না, কোনো পরিবর্তন করতে যেয়ো না’—ব্যস। অথচ মর্যাদা রক্ষা করা মানে কেবল নিজের সুযোগ, নিজের সাফল্য খোঁজা নয়।

গণ্ডিতে বন্দী থেকো না

তোমাদের প্রজন্মের ওপর সফল হওয়ার ভীষণ চাপ। তোমাদের অর্জন অনেক। কিন্তু একই সঙ্গে হয়তো লক্ষ্য করেছ, তোমরা একটা গণ্ডির মধ্যে পড়ে গেছ। যে গণ্ডিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার চেয়ে সমাজের তৈরি করা ‘সফল হওয়ার ফাঁদে’ পড়াই গ্রহণযোগ্য। ‘চাকরি করো, মাথা গোঁজার একটা ঠাঁই তৈরি করো, বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে ঘুরে বেড়াও, কোনো ঝুঁকি নিয়ো না, কোনো পরিবর্তন করতে যেয়ো না’—ব্যস। অথচ মর্যাদা রক্ষা করা মানে কেবল নিজের সুযোগ, নিজের সাফল্য খোঁজা নয়। কারণ, যা-ই করো না কেন, নিজেকে ও পরিবারকে রক্ষা করার মতো গণ্ডি তুমি গড়ে তুলতে পারবে না।

পরিবর্তনশীল পৃথিবীর চাপ থেকে এই ডিগ্রি তোমাদের রক্ষা করবে না। তোমার জনগোষ্ঠীতে যা হবে, তা তোমার ওপরও প্রভাব ফেলবে। তোমার বোন যদি পারিবারিক সহিংসতার শিকার হয়, তুমিও ভুগবে। তোমার সবচেয়ে ভালো বন্ধুটি যদি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার দুশ্চিন্তায় থাকে, তার মানে তুমিও ভালো নেই। যদি বিশুদ্ধ বাতাসে বুকভরে শ্বাস নিতে না পারো, যত সাফল্য বা টাকাই তোমার থাকুক না কেন, কোথাও লুকিয়ে বাঁচতে পারবে না।” (সংক্ষেপিত)

ইংরেজি থেকে অনুদিত
সূত্র: টাইম ডটকম, প্রথম আলো

সে বিবাহিত জেনেও তার ওপর প্রচন্ড দূর্বল হয়ে পড়ি, আমি তাকে ভালোবাসি

📮 মনচিঠি টেক্সট-২২ (প্রেরকের সম্মতিতে প্রকাশিত)

গত জুলাই মাসে আমার একটা ছেলের সাথে পরিচয় হয়, একটা ফুটবল গ্রুপের মাধ্যমে। আমরা দুজন সেম ক্লাবের সাপোর্টার। ফেসবুকে আলাপ হওয়ার পর জানতে পারি সে বিবাহিত। কিন্তু তার সাথে কথা বলতে বলতে আমি তার ওপর প্রচন্ড দূর্বল হয়ে পড়ি। আমি তাকে প্রচন্ড ভালোবাসি। সে আমাকে প্রচন্ড সাপোর্ট দেয় সবকিছুতে।

আমি জানি সে তার ওয়াইফকে প্রচন্ড ভালোবাসে। সে আমার সাথে ফ্রেন্ডের মতোই বিহেভ করে, কিন্তু আমি তাকে ভালোবেসে ফেলেছি। সে বাংলাদেশে থাকতো না। নেক্সট মান্থে সে দেশে আসবে। তারা দুজন আমার সাথে দেখাও করবে বলেছে। কিন্তু আমার এখন ভয় হয় আমি তাকে হারিয়ে ফেলবো কজ তার সাথে আমার আর যোগাযোগ হবে না যতদিন সে দেশে থাকবে। এইজন্য আমি প্রচন্ড ডিপ্রেসড। খুব কান্না পায় আমার। কিচ্ছু ভালো লাগে না।

এই পরিস্থিতিতে আমি কী করতে পারি? আমি সুস্থ স্বাভাবিক থাকতে চাই আবার তার সাথে যোগাযোগও রাখতে চাই ফিউচারে। এইটা কি পসিবল?

💌  মনচিঠি টেক্সট-২২ এর উত্তর

আপনি আপনার জীবনে ঘটে যাওয়া মুহূর্তগুলো সম্পর্কে সচেতন, সে জন্য আপনাকে সাধুবাদ জানাই।

আপনার চিঠি পড়ে যেটা বুঝতে পারলাম আপনি ফেসবুকের মাধ্যমে একজনের সাথে পরিচিত হয়েছেন এবং তাকে আপনি পছন্দ করেন, যেটা স্বাভাবিক। তার সাথে আপনি শুধু অনলাইনে আলাপ করেছেন। এর মানে আপনি তাকে সরাসরি জানেন না। তাই আপনি উনার উপর পুরোপুরি ভরসা করাটা কতটুকু যৌক্তিক হবে সেটা একটু ভেবে দেখবেন।

কারোর সাথে বেশ কিছু দিন কথা বললে তার প্রতি একটা ভালোলাগা কাজ করা স্বাভাবিক। যেটা আপনার ক্ষেত্রে হয়েছে। এটাকে লাভ না বলে ইনফেচুয়েশন বলা যেতে পারে।

আপনি বলছেন সে আপনাকে ফ্রেন্ড মনে করে এবং তার একটা পরিবার আছে। আপনি বাস্তবিকভাবে ব্যাপারটা একটু ভেবে দেখবেন।

ফ্রেন্ড হিসেবে সে আপনাকে অনেক সাপোর্ট দিচ্ছে, তাই তার প্রতি আপনার দূর্বলতা কাজ করাটা স্বাভাবিক।

আপনি বলছেন আপনি ভাড়া বাসায় থাকেন। একা থাকেন/ পরিবারের সাথে থাকেন/নাকি মেসে থাকেন? সেটা জানালে আপনার সাপোর্ট সিস্টেম সম্পর্কে জানতে পারতাম।

যেহেতু ফেসবুক ফ্রেন্ডের কাছ থেকে আপনি সাপোর্ট পাচ্ছেন, ধরে নিলাম আপনি সরাসরি তেমন কারোর সাথে আপনার বিশেষ মুহূর্তগুলো শেয়ার করেন না। (আমার ধারণা ভুল হলে ক্ষমা করবেন)

ফেসবুক বা ইন্টারনেট থেকে সাপোর্ট সিস্টেম না খুঁজে সরাসরি সাপোর্ট সিস্টেম তৈরি করা বেশি যৌক্তিক হবে কি না সেটা একবার ভেবে দেখুন।

জীবনটা আপনার, তাই আপনি যেভাবে জীবনকে সাজাবেন সেভাবেই হবে। কারোর প্রতি ডিপেন্ডেড না হয়ে নিজেই নিজের সাপোর্ট সিস্টেম হতে পারেন।

আপনি তার প্রতি ডিপেন্ডেড হওয়াতে তাকে হারিয়ে ফেলবেন ভেবে ভয় পাচ্ছেন। আপনি যাকে হারানোর ভয় পাচ্ছেন সে আদৌ আপনার ছিল কি না সেটা একবার ভেবে দেখুন।

আপনি কি তাকে আপনার মনের কথা গুলো বলেছিলেন? সে কী চাচ্ছে সেটা জেনে নিলে আপনার সিদ্ধান্ত নিতে সহজ হবে বলে মনে করি।

আপনি তাকে মিস করছেন ভেবে খারাপ লাগছে, যেটা স্বাভাবিক। আমরা আসলে কাউকে মিস করি না। তার সাথে কাটানো মুহূর্তগুলোকে আর উপভোগ করতে পারবো না ভেবে খারাপ লাগে। মিস করি ঐ মুহূর্তগুলোকে। সব কিছুই নিজের ইচ্ছের উপর নির্ভরশীল।

“আউট অব সাইট, আউট অব মাইন্ড” বলে একটা কথা আছে। তার সাথে যদি সম্পর্ক আগানোর কোন ইচ্ছে না থাকে তাহলে তার সাথে যোগাযোগ কমিয়ে ফেলা ভালো হবে বলে মনে করি।

(*** আমি সুস্থ স্বাভাবিক থাকতে চাই আবার তার সাথে যোগাযোগও রাখতে চাই ফিউচারে। এইটা কি পসিবল?? ***
এই প্রশ্নের উত্তরে বলব, এইটা সম্পূর্ণ আপনার ইচ্ছার উপর নির্ভর করছে, আপনি তার সাথে কী ধরনের সম্পর্ক রাখতে চাচ্ছেন, সে সেটা চাচ্ছে কি না, আপনি যা চাচ্ছেন সে কি তা চাচ্ছে? আবার তার স্ত্রী এই পুরো ব্যাপারটা জানলে কিভাবে নিবে, এরকম আরও অনেক বিষয় থাকতে পারে।

সবগুলো দিক বিবেচনা করে আপনিই সিদ্ধান্ত নিন আপনি কী চাচ্ছেন। এই সকল বিষয়ে আপনি সরাসরি তার সাথে কথা বললে আপনার জটিলতা কেটে যাবে।)

আপনার চিঠি পড়ে বুঝতে পারলাম খেলাধুলার  প্রতি আপনি বেশ আগ্রহী। বর্তমান পরিস্থিতিতে আপনি যে কোন ধরনের অ্যাক্টিভিটি করতে পারেন। এতে আপনার দেহ ও মন দুইটাই ভালো থাকবে ।

এছাড়া সাময়িক সমাধান পেতে আপনি Breathing Exercise করতে পারেন।

প্রথমে লম্বা করে মুখ দিয়ে শ্বাস নিতে হবে, কিছুটা সময় তা ধরে রাখতে হবে (৪/৫ সেকেন্ড),
তারপর ধীরে ধীরে মুখ দিয়ে প্রশ্বাস ছাড়তে হবে।

এই ব্যায়াম আপনার বুক ধড়ফড় ও অস্বস্তি ভাব কমাতে সাহায্য করবে।

আপনি এর আগে কখনও এই রকম পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছিলেন কি না সেটাও চিঠিতে উল্লেখ নেই। থাকলে চিঠির উত্তর দিতে সুবিধা হতো ।

আপনি সরাসরি একজন মনোবিজ্ঞানীর সাথে যোগাযোগ করতে পারেন, যিনি আপনার সমস্যা শুনে কিভাবে আপনার জীবনকে আরও সুন্দর করা যায় সে ব্যাপারে আপনাকে সাহায্য করবেন।

দেরীতে চিঠির উওর দেয়ার জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখিত। আশা করি কিছুটা হলেও আপনার উপকারে আসবে।

DUOS এর মনচিঠির পাতায় সাহায্য চাইবার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। আমরা সবসময় আপনার পাশে আছি।

মোঃ মোজাম্মেল হক তায়েফ
২০-০২-৩১, পিয়ার কাউন্সেলর, মনচিঠি by DUOS  
mmh.decp8.du@gmail.com

💌 অনলাইন চিঠি ও উত্তরের (টেক্সট) মাধ্যমে মানসিক স্বাস্থ্য পরামর্শ পেতে এখানে ক্লিক করে ‘মনচিঠি’তে লিখতে হবে।

📞 ভয়েস কলে কাউন্সেলিং/মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা পেতে এখানে ক্লিক করে ফরমটি পূরণ করতে হবে।

☎️ হটলাইন নম্বরে ফোনকলের মাধ্যমে মানসিক স্বাস্থ্য পরামর্শ পাওয়ার নম্বরগুলো জানতে এই লিঙ্কে ক্লিক করতে হবে।

👩‍⚕️ এ ছাড়াও ইমেইল আইডি, ফেসবুক পেজ এবং সেলফোন নম্বরে যোগাযোগ করে মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা পাওয়া যাবেঃ

👍 ফেসবুক পেজ (ক্লিক করুন)
💬 ফেসবুক মেসেঞ্জার (ক্লিক করুন)
📞 সেলফোন নম্বর : 01841 21 52 71
📧 ইমেইল আইডি : monchithi.duos@gmail.com

🌐 বিস্তারিতঃ www.duos.org.bd/monchithi

বন্ধুদের মাঝে জনপ্রিয় হবেন কীভাবে?

কীভাবে মানুষের মন জয় করা যায়, কিংবা বন্ধুদের কাছে প্রিয় হয়ে ওঠা যায়, এ প্রসঙ্গে সেরা লেখাটা সম্ভবত ডেল কার্নেগিই লিখেছেন। তাঁর লেখা হাউ টু উইন ফ্রেন্ডস অ্যান্ড ইনফ্লুয়েন্স পিপল বইটি সেই ১৯৩৬ সালে লেখা, অথচ এখনো আশ্চর্য সমসাময়িক। ডেল কার্নেগির বইটার তুমুল জনপ্রিয়তার সম্ভবত আরও একটা কারণ আছে। ১৯৩৬ সালের পর পৃথিবীতে বহু পরিবর্তন এসেছে। কিন্তু প্রিয় বন্ধু হয়ে ওঠার আকাঙ্ক্ষাটা বোধ হয় এখনো একই রকম আছে।

বন্ধুদের প্রায় সব দলেই একজন থাকেন বিশেষ। যাঁর কথার সঙ্গে সবাই প্রায় একমত হন। যে বন্ধুর জন্য সবাই উদ্‌গ্রীব হয়ে অপেক্ষা করেন। বলা হয় না কখনো, কিন্তু ভেতরে ভেতরে সবাই তাঁর মতো হতে চান। যে বন্ধুর সাফল্যে ঈর্ষা হয়, আবার তাঁর খারাপ ফল অন্যদেরও মন ভারী করে। নেতা হতে অনেক সময় কৌশলী হতে হয়, তবে বন্ধুদের মধ্যে জনপ্রিয় হতে নিজের সহজাত বিষয়টাকেই শুধু সামনে রাখা দরকার, যা একধরনের বিশেষ গুণ। কিছু বিষয় নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত করতে পারলে আপনিও হয়ে উঠতে পারেন সেই জনপ্রিয় বন্ধু।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সুলতানা মোসতাফা খানম বলেন, ‘বন্ধুদের যেকোনো দলের মধ্যে একজন বিশেষভাবে জনপ্রিয় থাকে। এটা অনেক সময় বন্ধুদের ছোট দল থেকে পুরো ক্লাসেও তাকে জনপ্রিয় করে তোলে। জনপ্রিয় হওয়ার জন্য সেই মানুষটির ভেতর কিছু স্বাভাবিক গুণাবলি থাকতে হয়। এটা হয়তো সে সচেতনভাবে তৈরি না–ও করতে পারে। হয়তো এটাই তার স্বভাব, যা মানুষকে তার প্রতি আগ্রহী করে তোলে।’

অনেকেই বন্ধুদের মধ্যে জনপ্রিয় হতে রোজ রোজ দামি খাবার খাওয়াতে পারেন। কিনে দিতে পারেন দামি কোনো উপহার। কিন্তু তাতে কি জনপ্রিয়তা বাড়ে? সুলতানা মোসতাফা খানম মনে করেন, ‘মোটেও না; বরং অর্থের লোভে তার আশপাশে যারা ঘুরবে, তারা কখনো প্রকৃত বন্ধু হবে না।’

ভালো নেতা হওয়ার জন্য যেমন বিশেষ কিছু গুণ থাকতে হয়, বন্ধুদের মধ্যে জনপ্রিয়তা পেতেও তেমন কিছু গুণের দরকার পড়ে।

শুরুতেই বাজিমাত

আপনি যখন নতুন কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হবেন, সেখানে নানা রকম ছেলেমেয়ে থাকবেন। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ হয়তো আপনার কাছের বন্ধু হয়ে উঠবেন। বন্ধুরা যেন আপনাকে তাঁদের দলে পেতে চান, সেভাবেই নিজেকে তৈরি করুন। প্রথম দিনের পরিচিত পর্বেই ‘নজরে পড়া’র কাজটি সেরে নিতে পারেন। পরিপাটি পোশাক, ঠিকঠাক চুলের স্টাইল, সুন্দর কথা বলার পাশাপাশি থাকুন স্বাভাবিক। তরুণদের ভাষায় ‘বেশি ভাব নেওয়া’ ছেলেমেয়েকে বাকিরা কম পছন্দ করেন।

নাম মনে রাখুন

কারও সঙ্গে প্রথমবার পরিচয় হলে তাঁর নাম মনে রাখুন। পরেরবার দেখায় তাঁর নাম ধরে সম্বোধন করলে তিনি সহজেই আপনার প্রতি আকৃষ্ট হবেন। আপনি যে তাঁকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিচ্ছেন, সেটা মনে করেই মানুষটি আপনাকে তাঁর প্রিয়জনের তালিকায় নিয়ে আসবেন।

কথা বলুন স্পষ্ট ভাষায়

আপনি যখন বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলবেন, তখন স্পষ্ট ভাষায় কথা বলুন। কথা বলুন তাঁদের ভাষায়, তাঁদের মতো করে। আপনাকে যেন কখনো ভিন্ন কেউ মনে না হয়; বরং আপনার স্পষ্ট কথা তাঁদের কাছে আপনাকে বিশেষ জায়গা করে দেবে। বন্ধুদের কাছে কথা চেপে না রেখে প্রকাশ করুন। এতে তাঁরাও আপনার ওপর আস্থা রাখবে।

গোপনীয়তা রক্ষা করুন

যেকোনো সম্পর্কে অন্যের আস্থাভাজন হওয়া খুব জরুরি। কেউ আপনাকে যখন বিশ্বাস করে কোনো কথা বলবেন, সেটার গোপনীয়তা বজায় রাখা আপনার দায়িত্ব। এক বন্ধু যখন আপনাকে গোপনে কিছু বলবেন, সেটা অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে দিলে তিনি আপনার ওপর আস্থা হারাবেন। আপনাকে বিশ্বাস করবেন না। বন্ধুদের মধ্যে জনপ্রিয়তা পেতে এই গুণ আপনাকে ওপরের দিকে তুলে দেবে।

চুলচেরা বিশ্লেষণ নয়

বন্ধুত্বের সম্পর্কে কখনো কোনো বিষয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণে না যাওয়াই ভালো। বন্ধুদের সবাই এক মানসিকতার হবেন না, কেউ কেউ থাকবেন ভিন্ন। যিনি যেমন, তাঁকে সেভাবে গ্রহণ করতে পারলে সবার কাছেই আপনার গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হবে।

সবার সঙ্গে চলুন

বন্ধুদের মধ্যে কে বড়লোক আর কে গরিব, এই চিন্তা বাদ দিন। বন্ধুকে ব্যক্তি হিসেবে চিনুন। আপনি যখন সবার সঙ্গে মিশবেন, আপনার প্রতি সবার একধরনের আস্থা তৈরি হবে। বিশেষ করে ক্লাসে পিছিয়ে পড়া ছেলেমেয়েদের আলাদা চোখে না দেখে তাঁদের সঙ্গে সুন্দর বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি করুন। নিজ থেকে তাঁদের সঙ্গে কথা বলুন। তাঁদের খোঁজ রাখুন। এতে তাঁরাও আপনার প্রতি ভালোবাসা দেখাবেন।

প্রশংসা করুন

কেউ কোনো কাজে ভালো করলে মন খুলে তাঁর প্রশংসা করুন। কোনো বন্ধুকে তিরস্কার করবেন না। যাঁর যে ভালো গুণ আছে, সেগুলো সামনে এনে তাঁর সঙ্গে কথা বলুন। নতুন কারও সঙ্গে বন্ধুদের পরিচয় করিয়ে দিতে তাঁর ভালো গুণের কথাগুলো বলুন।

নিজেকে চাঙা রাখুন

যেকোনো পরিস্থিতিতে নিজেকে চাঙা রাখুন। প্রাণচাঞ্চল্যে ভরপুর থাকুন সারাক্ষণ। এতে বন্ধুদের মধ্যে হতাশা কেটে আপনাকে দেখে চঞ্চলতা বাড়বে। সব বন্ধুর সঙ্গে দুষ্টুমি করুন, তবে সীমা অতিক্রম করবেন না। কারও দুর্বলতাকে কটাক্ষ করে অন্যদের সামনে তাঁকে খাটো করা যাবে না। কোনো বন্ধুকে টিজ করা বা বুলিং করা যাবে না; বরং কেউ বুলিং করলে তার প্রতিবাদ করুন। এতে বুলিংয়ের শিকার বন্ধুটি আপনাকে বিশেষভাবে ভালোবাসবেন।

নেতা নেতা ভাব নয়

বন্ধুদের মধ্যে জোর করে নেতা হওয়ার কিছু নেই। হুমকি-ধমকি বা চড়া গলায় কথা বললে আপনাকে কেউ মন থেকে ভালোবাসবে না। আপনি যদি আলাদা করে বাইরে পরিচিতি পেয়েও থাকেন, বন্ধুদের মধ্যে সেটার প্রভাব দেখাবেন না। বিশ্বসেরা ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান তাঁর এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘আমি যেমন ক্রিকেটারই হই না কেন, বন্ধুদের কাছে আমার কোনো বিশেষ পাত্তা নেই। তাদের কাছে আমি সেই মাগুরার সাকিবই। এই বিষয়টা আমার খুব ভালো লাগে।’

খোঁজ রাখুন

কোনো বন্ধুর সঙ্গে কয়েক দিন দেখা না হলে তাঁর খোজ নিন। করোনাভাইরাসের কারণে এখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ। তাই গুটিকয় বন্ধুর সঙ্গে হয়তো ফোনে বা ফেসবুকে যোগাযোগ হচ্ছে। কিন্তু আপনি বাকি বন্ধুদেরও খোঁজ নিন। আপনার এই অনাকাঙ্ক্ষিত ফোনকল বা ফেসবুকের নক তাঁকে বিস্মিত করবে। তিনি আপনাকে আপনজন ভাববেন।

সূত্র: প্রথম আলো, কনসালটিং ডট কম ও উইকি হাউ

মানসিক রোগ : বাংলাদেশে মানুষ চিকিৎসা নিতে যায় না কেন?

সামাজিক কুসস্কারের কারণে অনেকেই মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার বিষয়টি চেপে যান।

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় একটি মানসিক হাসপাতালে একজন উচ্চ পদস্থ পুলিশ কর্মকর্তার মৃত্যুর পর মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা নিয়ে চিকিৎসার বিষয়টি আবারো আলোচনায় এসেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশটিতে যারা মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভোগেন তাদের বেশির ভাগই কখনোই চিকিৎসা নিতে যান না।

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউটের এক হিসাব বলছে, সবশেষ ২০১৮ সালে তাদের যে গবেষণাটি পরিচালিত হয়েছে সে অনুযায়ী, বাংলাদেশে ১৮.৫ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক এবং প্রায় ১৩ শতাংশ শিশু-কিশোরদের মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা রয়েছে।

কিন্তু এদের মধ্যে ৯২ শতাংশ মানুষই কোন ধরনের সেবা বা পরামর্শ নেন না।

বাকি মাত্র ৮ শতাংশ মানুষ মূল ধারার চিকিৎসা নিচ্ছেন। আর সেখানে শুধু মানসিক রোগের চিকিৎসক নন বরং অন্যান্য চিকিৎসকও রয়েছেন।

আর যারা চিকিৎসা নিতে যান তারাও সমস্যা দেখা দেয়ার প্রথম দিকে নয় বরং একেবারে শেষ মুহূর্তে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।

“কাছের মানুষরাও বুঝতে পারেনি”

বর্তমানে এক সন্তানের মা নাসরুন নাহার। বরাবরই প্রচণ্ড আত্মনির্ভরশীল আর চাপা স্বভাবের মানুষ।

তবে হঠাৎ করেই ২০১৭ সালে একবার আত্মহত্যার চেষ্টা করে বসেন তিনি।

নাসরুন্নাহার বলেন, এই ঘটনার আগে তার কাছের মানুষজনও বুঝতে পারেননি যে, তিনি বিষণ্ণতার মতো মানসিক সমস্যায় ভুগছেন।

“কাছের মানুষ এমনকি আমার বেস্ট ফ্রেন্ডরাও জানতো না।”

জানালার কাঁচ ভেঙে সেটি দিয়ে হাতের রগ কেটে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন তিনি।

তিনি বলেন, “যেদিন সুইসাইড অ্যাটেম্পট করি তার আগের দিনও আমি কাজিনদের সাথে ট্যুর দিয়ে আসি।”

নাসরুন নাহার বলেন, একেবারে শেষ স্তরে পৌঁছানোর পর যখন তিনি আত্মহত্যা প্রবণ হয়ে উঠেন তখন তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়।

প্রাপ্তবয়স্কদের পাশাপাশি শিশুরাও মানসিক সমস্যায় ভুগে থাকেন।

“আমাকে দুই দিন পাহারা দিয়ে রাখে যাতে আমি মরতে না পারি। একেবারে লাস্ট স্টেজে গিয়ে আমাকে হাসপাতালে ভর্তি করে।”

ছয়-সাত বছর আগে দ্বিতীয় সন্তান জন্ম দেয়ার পর পোস্ট পার্টাম সাইকোসিস নামে মানসিক সমস্যায় ভুগেছিলেন উন্নয়নকর্মী নাদিয়া সারোয়াত।

তিনি জানান, দ্বিতীয় সন্তান জন্ম দেয়ার ১৪-১৫ দিনের মাথায় তার যে সমস্যাটি দেখা দিয়েছিল সেটি হচ্ছে, নিজের সন্তানকেই চিনতে পারতেন না তিনি। খুঁজে বেড়াতেন তার প্রথম সন্তানকে।

নাদিয়া সারোয়াতের সাথে যখন কথা হচ্ছিল তিনি জানান যে, অসুস্থ থাকার সময়টার অনেক বিষয়ই তিনি এখনও মনে করতে পারেন না। মানসিক সমস্যার জন্য ১০ দিন একটি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন।

তিনি অভিযোগ করেন, সেসময় হাসপাতালের নার্সের হাতে মার পর্যন্ত খেতে হয়েছিল তাকে।

“আমার ঘুম আসতো না। পুরো হাসপাতাল ঘুরে বেড়াতাম। আর আমার বাচ্চাটাকে খুঁজতাম।”

নাদিয়া সারোয়াত বলেন, বাংলাদেশে মানসিক রোগীদের ভালভাবে দেখা হয় না। বিভিন্ন ভাবে তাদের হেনস্তার মুখে পড়তে হয়। হাসপাতাল কর্মী বা যারা এর চিকিৎসার সাথে জড়িত তারাও মানসিক রোগীদের সাথে ভাল ব্যবহার করেন না বলে অভিযোগ করেন তিনি।

“আমাদের দেশে তো মানসিক রোগী দেখলে পাগল বলে একটা বাচ্চাও ঢিল ছুঁড়ে মারে। তাদের অপদস্থ করার এক ধরনের মানসিকতা রয়েছে।”

মানুষ চিকিৎসা নিতে যায় না কেন?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সমাজে হেয় হওয়ার ভয়, স্বাস্থ্য সেবার অভাব এবং অসচতেনতার কারণে বিশাল পরিমাণ মানুষ মানসিক স্বাস্থ্য চিকিৎসার বাইরে রয়েছেন।

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক হেলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, তিন ধরনের কারণে মানুষ মানসিক সমস্যার চিকিৎসা নিতে যায় না।

এর মধ্যে প্রথম কারণ হিসেবে, সমাজের প্রচলিত স্টিগমাকে দায়ী করেন তিনি।

মানসিক সমস্যা নিয়ে সমাজে এক ধরনের কুসংস্কার প্রচলিত রয়েছে বলে মনে করেন তিনি। বলেন, মানুষ এটাকে প্রকাশ করতে চায় না, লুকিয়ে রাখতে চায়।

মানুষ মনে করে যে, মানসিক সমস্যা রয়েছে এটা প্রকাশিত হলে তারা সমাজের চোখে হেয় হয়ে যাবেন।

“এ নিয়ে এক ধরনের স্টিগমা তাদের মধ্যে কাজ করে।” বলেন তিনি।

দ্বিতীয় বিষয়টি হচ্ছে, মানসিক স্বাস্থ্য সেবার অপ্রতুলতা রয়েছে। মেডিকেল কলেজ কিংবা টারশিয়ারি পর্যায় ছাড়া আর কোথাও এই সেবা পাওয়া যায় না।

বিশেষায়িত হাসপাতাল রয়েছে মাত্র দুটি।

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের হিসাবে দেশে ১৮ কোটি মানুষের জন্য এই মুহূর্তে ২৭০ জন মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক রয়েছে।

আর কাউন্সেলিংয়ের জন্য সাইকোলজিস্ট রয়েছেন মাত্র ২৫০ জন। যেটা অপ্রতুল।

এক বছরে সাত থেকে ১০ জনের বেশি মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ প্রস্তুত হচ্ছে না বলেও জানানো হয়।

যার কারণে অনেকেই এই সেবা নেয়ার সুযোগ পাচ্ছে না বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

তৃতীয় কারণ হিসেবে মি. আহমেদ মানুষের সাধারণ অসচেতনতাকে দায়ী করেছেন।

তিনি বলেন, “অনেক সময় মানুষ বোঝেই না যে, তার আচরণগত সমস্যাটি মানসিক কারণে হয়েছে।”

বিপুল পরিমাণ মানুষ মানসিক স্বাস্থ্য সেবার বাইরে থাকায় পরিস্থিতি আরো খারাপ হচ্ছে এবং তারা এক পর্যায়ে সমাজের বোঝায় পরিণত হচ্ছে। এই পরিস্থিতির উন্নয়নে আরো দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা প্রয়োজন বলেও মনে করেন হেলাল উদ্দিন আহমেদ।

মুন্নী আক্তার
বিবিসি বাংলা