📮 আমি অতিরিক্ত সন্দেহপ্রবণ মানুষ

💌 মনচিঠি-০৩ (টেক্সট)

আমি ছোটবেলা থেকেই অনেক হাসিখুশি মেয়ে। বাবা খুব ভালোসাবতো আমায়। এসএসসি এর একমাস আগে বাবা মারা যাওয়ার পর আমি অনেকটা ভেঙে পড়ি। একটা রিলেশনে জড়িয়ে যাই। একমাস পর ব্রেকাপ হয়ে যায়। তখন মারাত্মক ডিপ্রেশনে চলে যাই। ঘুমের ওষুধ খাওয়া শুরু করলাম। হাত পা কাটা শুরু করলাম। দেন একটা সময় আরেকজনের সাথে রিলেশন করি। বাট প্রব্লেম হলো আরেকটা বিষয়। আমি তখন আমার বিএফ এর সাথে কোন মেয়েকে সহ্য করতে পারিনা। তার ফেসবুক পোস্টে কোন মেয়ে লাভ রিঅ্যাক্ট বা কমেন্ট করলে আমার মাথায় রক্ত উঠে যায়। হোক তার বেস্ট মেয়ে ফ্রেন্ড অথবা মেয়ে কাজিন। সবচেয়ে বড় কথা আমি অতিরিক্ত সন্দেহপ্রবণ মানুষ। আমি অলটাইম মনে করি সে অন্য কোন মেয়ের সাথে অ্যাফেয়ারে আছে। এসব কারণে চার বছর রিলেশনের পর আমার আবার তার সাথে ব্রেকাপ হয়ে যায়। দেন এখন আমি মারাত্মক আকারে ডিপ্রেশনে আছি… আমি এত সন্দেহ নিয়ে আসলে আর বাঁচতে পারছিনা… প্লিজ গিভ মি অ্যা সল্যুশন…

📮 মনচিঠি টেক্সট-০৩ এর উত্তর

আমি খুবই আনন্দিত যে, আপনি ছোটবেলা থেকেই অনেক হাসিখুশি একটি মেয়ে। আপনার সুস্থতা ও স্বাভাবিকভাবে বেড়ে ওঠার জন্য যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রসঙ্গক্রমে আপনি উল্লেখ করেছেন, আপনি ছোট মেয়ে। পরিবারে স্বাভাবিকভাবেই যা আদরের ও স্নেহশীলতার পরিচয়। আপনার বাবাও আপনাকে খুব ভালোবাসত।

আপনি জানিয়েছেন, আপনার এস,এস,সি পরীক্ষার এক মাস আগে আপনার বাবা মারা যান। যে বিষয়টি প্রাকৃতিক হলেও কষ্টদায়ক।তাই আপনি অনেকটা ভেঙে পড়েছেন। সেই সাথে আপনি একটি সম্পর্কে জড়িয়ে যান, যে সম্পর্কের স্থায়িত্ব খুবই অল্প সময়ের। নিজেকে সামলাতে আপনি সমাধানের অনেক উপায়ও বেছে নিয়েছিলেন কিন্তু তারপর আবার একটি সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন।

প্রথমত, আপনার বাবা মারা গেলো, সেই সাথে সম্পর্কে বিচ্ছেদ দুটো ব্যাপারই যন্ত্রনাদায়ক। যেহেতু আপনার বাবা আপনাকে খুব ভালোবাসত তাই বাবার মৃত্যুটা আপনার নিকট তীব্র যন্ত্রণাদায়ক ছিলো। যার ফলশ্রুতিতে আপনি “সিরিয়াস ডিপ্রেশনে” চলে যান। তবে আমি মনে করি, মনের দিক থেকে আপনি খুবই শক্তিশালী তাই সমাধানের উপায়গুলো (ইতিবাচক/নেতিবাচক) নিজেই খুঁজেছেন, যা করলে আপনি ভালো থাকতে পারেন। তবে “সেল্ফ হার্ম” এর ব্যাপারে একটু সচেতন থাকবেন যেন এর পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

দেখুন, মানুষ মানুষকে ভালোবাসবে এটাই স্বাভাবিক। স্বভাবতই আপনিও আরেকটি সম্পর্কে জড়িয়ে যান। একটু খেয়াল করুন, প্রথম যখন আপনার সম্পর্ক ভেঙে যায়, তখন আপনার সমস্যা ছিলো “ডিপ্রেশন বা হতাশা” কারণ আপনি কোথাও স্থির ছিলেন না, যা বারবার আপনার মনে হতাশা সৃষ্টি করেছে।

দ্বিতীয়ত, যখন আপনার পরবর্তী সম্পর্কটি ভেঙে যায় তখন কিন্তু আপনি আর সমাধানের চেষ্টা করেননি। যার ফলে, নতুন আরও একটি সমস্যা দেখা দিয়েছে “সন্দেহপ্রবনতা” বলে আপনি মনে করছেন। আসলে, এটা খুবই স্বাভাবিক যে, রিলেশনশিপে একটু ক্যায়ারিং থাকা মেয়েরা স্বাচ্ছন্দবোধ করে। তাই আপনি আপনার বিএফ এর সাথে অন্য কোনো মেয়ে সহ্য করতে পারতেন না। এমনকি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কোনো রিঅ্যাক্ট হলেও না। আপু এটা খুবই স্বাভাবিক কারণ আজ হয়তো আপনি বলছেন আর অন্য কেউ বলেনি যে সে তার বিএফ এর সাথে অন্য কোন মেয়েকে সহ্য করতে পারেন না, এটাই পার্থক্য। তাই আপনার প্রথম কাজ নিজেকে মানিয়ে নেয়া এবং নিজের সিদ্ধান্তে স্থির থাকা, যা আপনি ইতিপূর্বেই করেছেন। কারণ আপনি এখন আর সম্পর্কে নেই। কিন্তু এটা ভাবার কোনো কারণ নেই যে, আপনার অতিরিক্ত সন্দেহপ্রবনতার জন্য সম্পর্ক বিচ্যুত হয়েছে। কারণ আপনি চেয়েছিলেন সে আপনার হয়ে থাকুক, শুধুমাত্র আপনার কিন্তু সে ব্যর্থ হয়েছে, আপনি না।

আপনি জানিয়েছেন যে, আপনি কিছুটা সন্দেহপ্রবন। আপনি একটি ঘটনাই উল্লেখ করেছেন তাই আমি একটি সীমাবদ্ধ বিষয়কে কেন্দ্র করে আপনার সমস্যাটি সনাক্ত করছি না। যদি এমন হতো এটা আপনার পরিবার, বন্ধুমহল সব জায়গাতেই পুনরাবৃত্তি হচ্ছে, তাহলেই কেবলমাত্র এটা কোনো সমস্যায় পরিনত হতো। এখন আমি মনে করছি, আপনার পুরো বিষয়গুলো বুঝতে পারাটাই অন্যতম সমাধান (আপনার উল্লেখিত বর্ণনা থেকে)।

তাই মনস্থির করুন, নতুন কোনো পদক্ষেপ নিয়ে এগিয়ে যান, ইতিবাচক কাজের মাধ্যমে। প্রতিদিন অন্তত পাঁচ মিনিট দুচোখ বন্ধ করে লম্বা লম্বা শ্বাস নিন, সব দুশ্চিন্তা ঝেড়ে ফেলুন আর নিজেকে নিয়ে ভাবুন- আপনি কে? আপনি কী করতে ভালোবাসেন? এবং আপনার গুরুত্ব? পাঁচ মিনিট শেষ হলে বুকের মাঝখানে অর্থাৎ হৃদপিণ্ড বরাবর হাত রেখে বলুন- ‘আমিই সেরা, আমি আমাকে অনেক ভালোবাসি।’

আপনার (উপরে উল্লেখিত) লক্ষ্যনগুলো যদি অতি মাত্রায় প্রকাশ পায় তাহলে সবচেয়ে ভালো হয় আপনি যদি সরাসরি কোন প্রফেশনাল ক্লিনিক্যাল বা কাউন্সেলিং সাইকোলজিস্টের সহায়তা নিতে পারেন। আশা করছি এই পরামর্শগুলো আপনাকে সহায়তা করবে।

আপনাকে ধন্যবাদ।

তানজিলা রহমান তমা
১১, পিয়ার কাউন্সেলর, মনচিঠি, ডিইউওএস
raseldhali27@gmail.com

💌 অনলাইন চিঠি ও উত্তরের মাধ্যমে বিনামূল্যে মানসিক স্বাস্থ্য পরামর্শ পেতে এখানে ক্লিক করে ‘মনচিঠি’তে লিখতে হবে।

📞 ভয়েস কলে বিনামূল্যে কাউন্সেলিং/মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা পেতে এখানে ক্লিক করে ফরমটি পূরণ করতে হবে।

☎️ হটলাইন নম্বরে ফোন করে বিনামূল্যে মানসিক স্বাস্থ্য পরামর্শ পেতে এই লিঙ্কে ক্লিক করতে হবে।

👩‍⚕️ এ ছাড়াও ইমেইল, ফেসবুক পেজ, সেলফোন নম্বরে যোগাযোগ করে বিনামূল্যে মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা নেয়া যাবেঃ

👍 ফেসবুক পেজ (ক্লিক করুন)
💬 ফেসবুক মেসেঞ্জার (ক্লিক করুন)
📞 সেলফোন নম্বর : 01841 21 52 71
📧 ইমেইল আইডি : monchithi.duos@gmail.com

🌐 বিস্তারিতঃ www.duos.org.bd/monchithi

Comments

  1. site says:

    It’s a shame you don’t have a donate button! I’d certainly donate to
    this excellent blog!
    I guess for now I’ll settle for book-marking and adding your RSS feed
    to my Google account.
    I look forward to brand new updates and will talk about this
    site with
    my Facebook group. Chat soon!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *