আপনার সঙ্গীর কোন ইন্দ্রিয় বেশি ফোকাসড?

‘আমার প্রেমিকা সবসময় আমার মুখ থেকে শুনতে চাইতো “আমি তোমাকে ভালোবাসি”, “I LOVE YOU”, আমি তোমাকে অনেক মিস করি, I MISS YOU, জান, সোনা, লক্ষী, বাবু, এই ধরনের ভালবাসাময় শব্দগুলো, কিন্তু আমার এই শব্দগুলো বলতে মোটেও ভালো লাগতো না, আমার জীবনে হাতেগোনা দুইবার কি তিনবার এই ধরনের শব্দ ব্যবহার করেছি, তাও সে রাগ করবে বলে বলেছি, কিন্তু যখন এই শব্দগুলো বলতাম, সে খুব খুশি হতো, আমি বিষয়টি লক্ষ করলাম, সে আমার মুখ থেকে ভালবাসাময় শব্দগুলো শুনতে খুব পছন্দ করতো, কিন্তু আমি এই ধরনের প্রেমময় শব্দগুলো ব্যবহার করি না বলে তার সাথে প্রায় সময় ঝগড়া লাগতো, রাগারাগি হতো, তাও আমি বলতাম না, কারণ আমার ভালো লাগতো না, এই ধরনের শব্দ ব্যবহার করতে, সে প্রায় সময় আমাকে বলতো আমি তোমাকে অনেক ভালবাসি, তোমাকে অনেক মিস করি, তোমাকে ছাড়া বাঁচবো না, জান, বাবু, লক্ষী, এমন হাজারো প্রেমময় শব্দ, কিন্তু এই ধরনের শব্দ শুনতে আমার মোটেও ভালো লাগতো না।

আপনি হয়তো ভাবছেন, আমি ভালবাসতাম না বলে বলতাম না, এবং শুনতেও ভালো লাগতো না, আমার প্রেমিকাও সেইম কথাই বলতো, ভালবাসলে ঠিকই বলতা, ভালবাসনা বলেই বলনা, আমার কাছে বিষয়টি মোটেও এমন নয়, আমার মনে হতো আমি তার চেয়েও বেশি ভালবাসতাম। কিন্তু সে যেমন ভালবাসাময় শব্দগুলো শুনতে ও বলতে পছন্দ করতো , আমি তেমনি ভালবাসাকে অনুভব ও স্পর্শ করতে পছন্দ করতাম। ব্যক্তি টু ব্যক্তি ভালবাসার প্রকাশভঙ্গী ভিন্ন হয়।

আমার কাছে মনে হতো “ভালবাসি” বলার কিছু নাই, ভালবাসি অনুভব করার বিষয়, আমি যখন মাঝে মাঝে দেখতাম আমার প্রতি তার অনুভূতি আছে, টান আছে, একটা পাগলামি আছে, আমার খুব ভালো লাগতো, আমি যখন দেখতাম, সে পরম মমতায় আমার হাতটা স্পর্শ করছে, তখন আমার কাছে ভালবাসা অনুভব হতো, যখন আমার মাথায় হাত রেখে আমার চুলগুলো এলোমেলো করে দিতো, তখন আমার কাছে ভালবাসা অনুভব হতো, সে যখন মাঝে মাঝে আমার ঘাড়ে মাথা রেখে ঘুমাতো , তখন আমার অনুভব হতো সে আমাকে অনেক ভালবাসে, আমাকে মুখে না বললেও আমি অনুভব করতে পারতাম, আমি যখন তার প্রতি ভালবাসা অনুভব করতাম, খুব মায়া কাজ করতো, টান কাজ করতো, পাশে থাকলে হাতটা ধরতাম, তার হাতের স্পর্শ অনুভব করতাম, ঘাড়ে মাথা রেখে চুপ করে তাকে অনুভব করতাম, মুখে কিছুই বলতাম না, আমি ভীষণ শান্তি অনুভব করতাম তার মাঝে, অনুভূতি এবং স্পর্শে মাধ্যমে আমার ভালবাসা প্রকাশ করতে পছন্দ করতাম।

আমার প্রেমিকা ভালবাসার কথা শুনতে এবং বলতে পছন্দ করতো, আমি ভালবাসা অনুভব করতে এবং স্পর্শ করতে পছন্দ করতাম, দুইটা বিষয়ই সুন্দর কিন্তু ভিন্ন।

দুই জনের ভিন্ন রকম পছন্দের কারণে আমাদের প্রায় সময় ঝগড়া লেগেই থাকতো, কারণ আমরা কেউই সচেতন ছিলাম না, কারো ভাল লাগার বিষয়ে, কারণ আমরা কেউই জানতাম না, কে কেমন র্পাসোনালিটির, এবং আমি কেমন পার্সোনালিটির, সে কেমন পার্সোনালিটির, তার কোন অনুভূতি বেশি পছন্দ, আমি জানতাম না, যদি জানতাম আমাদের রিলেশনশিপ নিয়ে এতোটা তিক্ততা আসতো না, এতো সমস্যা হতো না, দুইজন দুইজনকে এতো ভালবাসার পরেও। কেউই কাউকে প্রাধান্য দিতে পারিনি, কারণ আমরা জানতাম না, কে কী পছন্দ করে। দুইজনই হয়তো নিজেকে সঠিক ভেবেছিলাম, এবং অন্যকে ভুল ভেবেছিলাম।’

আমাদের প্রত্যেকের নিজস্ব র্পাসোনালিটির গঠন আছে, মানে আমরা একজন অন্য জন থেকে ভিন্ন, কেউ কার মতো না, সবার আলাদা ভালো লাগা, খারাপ লাগা আছে, এই ভাল লাগা, খারাপ লাগা অনুভব করি আমাদের পাঁচটা সেন্সের মাধ্যমে, বা পঞ্চন্দ্রীয়ের মাধ্যমে।

আমাদের পঞ্চন্দ্রীয়গুলো হলো, মুখ, কান, নাক, চোখ, এবং স্কিন। আমাদের সবারই কম বেশি একটি বা দুইটি ইন্দ্রীয় বেশি শক্তিশালী হয়ে থাকে, অন্য ইন্দ্র‍য়ের তুলনায়, যেমন আমার প্রেমিকার শুনতে বেশি ভাল লাগতো, তার মানে তার কান ইন্দ্রীয় বেশি শক্তিশালী, কারণ সে কান দিয়ে শুনে। আমার ক্ষেত্রে, আমার কাইনেস্থেটিক, বা স্পর্শ করতে বেশি ভাল লাগতো, তার মানে আমার স্কিন ইন্দ্রীয় বেশি শক্তিশালী।

অনেকের আবার স্মেল বা নাক ইন্দ্রীয় বেশি শক্তিশালী হতে পারে, এমন র্পাসোনালিটির ব্যক্তিগন কোন একটা খাবার দেখলে প্রথমে দেখে খাবারের স্মেল কেমন, মানে তারা অবচেতন মনে খাবারের স্মেলের দিকে বেশি মনযোগ দিয়ে থাকে, তার কাছে হয়তো খাবার দেখতে কেমন তার থেকেও বেশি প্রাধান্য পাবে স্মেল কেমন, আবার যার ভিজুয়াল বা চোখ ইন্দ্রীয় বেশি শক্তিশালী, সে হয়তো দেখবে খাবারটা দেখতে কেমন, তার কাছে স্মেল থেকেও বেশি প্রাধান্য পাবে ভিজুয়াল পিকচারটা, মানে দেখতে কতোটা সুন্দর। আবার যার স্বাদ বা মুখ ইন্দ্রীয় বেশি শক্তিশালী, তিনি হয়তো খাবারটি দেখতে কেমন, কেমন স্মেল, তার থেকেও বেশি প্রাধান্য দিবেন খাবারটি কতটা মজাদার বা সুস্বাদু।

আপনি যখন আপনার নিজের ইন্দ্রীয়গুলো সম্পর্কে জানতে পারবেন, আপনার কোন ইন্দ্রীয়টি দ্বারা আপনার আচরণ বেশি প্রভাবিত ,কোন ইন্দ্রীয়কে আপনি বেশি প্রাধান্য দেন, এবং আপনার কাছের মানুষ কোন ইন্দ্রীয় দ্বারা বেশি প্রভাবিত, কোন ইন্দ্রীয় দ্বারা উনি আপনার সাথে আচরণ করে, যখন আপনি উনার পছন্দ সম্পর্কে ভালভাবে বুঝতে পারবেন, তখন আপনার কাছের মানুষের সাথে সম্পর্কের বোঝাপড়া আগের তুলনায় অনেক ভালো হতে পারে।

আপনি এই মুহূর্তে কিছু সময় ভাবতে পারেন, আপনার আচরনে কোন ইন্দ্রীয়ের প্রভাব সবচেয়ে বেশি, আপনার কাছের মানুষের আচরনে কোন ইন্দ্রীয়ের প্রভাব বেশি, তখন সম্পর্কের বোঝাপড়া অনেক ভালো হতে পারে, মনে করেন আপনার আপনজন শুনতে খুব পছন্দ করে, আপনি তাকে খুশি করতে চাইছেন, আপনি যদি জানেন তার শোনার বা কান ইন্দ্রীয় বেশি শক্তিশালী তাহলে আপনি তাকে কিছু মিষ্টি কথা বললেই সে খুশি হতে পারে।

আবার মনে করেন, আপনার কাছের মানুষের স্পর্শ বা কাইনেস্থেটিক বেশি পছন্দ, তাহলে সে স্পর্শ বা হাগ পছন্দ করবে, আপনি তাকে খুশি করতে চাইলে হাগ করতে পারেন।

আবার মনে করেন আপনার প্রেমিক বা প্রেমিকা ভিজুয়ালাইজ করতে বেশি পছন্দ করে, আপনি তার সাথে ভিডিও কল করে কথা বলতে পারেন, বা তার সমানে নিজেকে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করতে পারেন।

সেই জন্য প্রথমে আপনাকে বুঝতে হবে, আপনার কোন ইন্দ্রিয় বেশি ফোকাসড, এবং তার কোন ইন্দ্রিয় বেশি ফোকাসড।।

মহিউদ্দীন মাহী
কাউন্সেলর, আইসিডিডিআর,বি
কাউন্সেলর, ডিইউওএস

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *