📮 আমি সবার সাথে মিশতে পারি না তাই আমার বন্ধু কম

💌 মনচিঠি টেক্সট-১৮

ছোট থেকেই আমি চুপচাপ স্বভাবের। মা নেই। আমার যখন ১১ মাস বয়স ছিল তখন তিনি আত্মহত্যা করে মারা যান। তবে এখন সৎ মা আছে। মা মারা যাবার পর থেকে দাদির কাছে বড় হয়েছি। সব সময় আব্বুর থেকে দূরে থাকতাম। তিনি একটু রগচটা ছিলেন। খালি বকাবকি করতেন আমাকে নিয়ে। অনেক ভয় পেতাম তাকে। এখন আর তেমন পাই না।

★ আমার প্রাইমারি ও হাই স্কুলে থাকাকালীন সময়ে ২জন স্যার ছিল। যারা খুব মেরেছে আমাকে। এখনও স্বপ্নও দেখি তাদের নিয়ে। স্বপ্নের ভিতরে আমার ক্লাস নিচ্ছে আর মারছে। স্বপ্নগুলো অনেক দিন ধরে দেখি।
★ আমি অল্পতে রেগে যাই। বাট যার প্রতি রাগি তাকে কিছু বলতে পারিনা।
★ আমি অল্প কথা বলি বাট বলতে শুরু করলে অনেক দ্রুত বলি।
★ আমি সহজেই মানুষ বিশ্বাস করি আর প্রতারিত হই বেশি।
★ আমি আমার ব্যর্থতাকে মেনে নিতে পারিনা।
★ আমি সবার সাথে মিশতে পারি না। তাই আমার বন্ধু কম।
★ নেপোটিজমের স্বীকার হয়েছি অনেকবার।

📮 মনচিঠি টেক্সট-১৮ এর উত্তর

আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি, আপনি আপনার কষ্টগুলো আমাদের সম্মানিত কাউন্সিলর ও পিয়ার কাউন্সিলরদের সাথে শেয়ার করেছেন।

আপনি আপনার পরিবারের সবার বড়। আমি খুবই আনন্দিত যে, আপনি অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন, আপনার বিভিন্ন পরীক্ষার রেজাল্টে আমি দেখতে পেলাম যা অনেকেরই আজও সাধনা।

বিভিন্ন উদ্দীপনামূলক কাজের আগ্রহ দেখে আমি অভীভূত যে, আপনি অনেক সৃষ্টিশীল যা ভবিষ্যতে আপনাকে অনেক ভালো যায়গায় স্থান পাওয়ার সুযোগ বয়ে আনতে সাহায্য করবে। আল্লাহ আপনাকে অনেক সাহায্য করেছেন এবং আপনি অনেক উৎসাহী যার ফলশ্রুতিতে আপনার বিভিন্ন প্রাপ্তিগুলো।

আপনি উল্লেখ করেছেন ছোটবেলা থেকেই আপনি চুপচাপ। আপনার মা আত্মহত্যা করে মারা গিয়েছেন, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। আপনি আপনার দাদীর কাছে বড় হয়েছেন, যা পরম আদরের। আপনি যদি আপনার সৎ মায়ের ভূমিকাগুলো উল্লেখ করতেন তাহলে আমার জন্য কিছু বিষয় স্পষ্ট হতো আপনাকে সহায়তা করার জন্য।

ছোটবেলা হলো শিশুদের মেধা বিকাশের গুরুত্বপূর্ণ সময়, তাই প্রত্যেক বাবা-মা ই চায় তার সন্তান সুন্দর একটি পরিবেশে সাবলীলভাবে বেড়ে উঠুক। তাই স্নেহের সাথে শাসনটা ও অতি জরুরি, যা আপনার বাবার আচরণের বহিঃপ্রকাশ। এখন তো আপনি অনেক বড় হয়েছেন, বাস্তবতা শিখেছেন তাহলে এখন আর কেন ভয় পাবেন, আলহামদুলিল্লাহ আপনার ভয় দূর হয়েছে।

আসলে কী জানেন, আমাদের সকল কল্পনাই আমাদের স্বপ্ন। কারণ যখন আমরা সবাই ঘুমিয়ে যাই তখন আমাদের স্নায়ু কোষগুলো সকল গুরুত্বপূর্ণ তথ্য লিপিবদ্ধ করে রাখে। আপনার উপরোক্ত ঘটনায় বর্নিত হয়েছে আপনি আপনার অতীতের স্মৃতিগুলো বিভিন্ন সময়ে বিভিন্নভাবে মনে করেন, তাই আপনার অতীত আপনাকে এখনো নাড়া দেয়।

আপনি বলেছেন যে, আপনি অল্পতেই রেগে যান তবে আপনার ভালো গুণ হলো যার সাথে রেগে যান তাকে কিছু বলেন না অর্থাৎ তর্কে জড়ান না, যা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। মনোবিজ্ঞানীরা যদিও বলছেন রাগ একটি স্বাভাবিক আবেগ। কিন্তু এই রাগ ক্ষতির কারণ হয়েও দেখা দিতে পারে। তার প্রভাব পড়তে পারে ব্যক্তি জীবন, সামাজিক ও পেশাগত জীবনে। এমনকি স্বাস্থ্যের ওপরও রাগের নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

তাই ওই মূহুর্তে আপনি কিছু কাজ করতে পারেন যেমন, যে জায়গাটিতে রেগে যাওয়ার মতো কিছু ঘটেছে সেখান থেকে সরে যাওয়া। যার ওপরে রাগ হয়েছে তার কাছ থেকে সরে যাওয়া। তার সাথে তখনই নয়, বরং খানিক পরে কথা বলা। হাতের কাছে যদি বরফ থাকে তাহলে তা হাত দিয়ে ধরে থাকা। বরফ মেজাজ শীতল করতেও সহায়তা করে।”যদি সম্ভব হয় যে কাপড়ে আছেন তাতেই গোসল করে ফেলুন। নিশ্বাসের একটি ব্যায়াম করে দেখতে পারেন। সেটি করার পদ্ধতি হল, রাগ থেকে মনটাকে সরিয়ে নিশ্বাসের দিকে মনোযোগ দেয়া। বুক ভরে গভীর নিশ্বাস নেয়া, সেটাকে কিছুক্ষণ ধরে থাকা, কিছুক্ষণ পর বাতাস ছেড়ে দেয়া। সেটি রাগ কমাতে সাহায্য করে।”

অল্প কথা বলা ভালো যা আপনার কথাবার্তায় বিচক্ষণতার পরিচয় বহন করে তবে দ্রুত কথা বলা বর্জন করা উচিত কেননা তাতে অনেক কথা গোপন থেকে যায় মনের অজান্তেই। আর আপনি প্রথমেই বলেছেন আপনি চুপচাপ স্বভাবের তাই অল্প কথা বলা আপনার জন্য অত্যন্ত স্বাভাবিক।

‘বিশ্বাসে মিলায় বস্তু আর তর্কে বহুদূর’ এ কথাটি আমরা সবাই জানি। তাই বিশ্বাস করা দরকার তবে একজন পরিনত বয়সের পুরুষ হিসেবে অবশ্যই ভালো/মন্দ যাচাই করার পরে যে কোনো বিষয়ে আস্থা রাখতে পারেন, যাতে করে প্রতারিত হবার সম্ভাবনা অনেকাংশে কমে যায়।

দেখুন, এত সুন্দর ও রঙিন পৃথিবীতে আমরা সবাই চাই সফল হতে। তাই সফল হতে হলে যে ব্রত ও পরিশ্রম নিয়ে কাজ করা উচিত আপনাকে সেভাবেই এগিয়ে যেতে হবে। তবে সকল ক্ষেত্রে আপনি সফল হবেন এই ধারনা ভুল, কারন আপনি যদি ব্যর্থই না হন তবে সফলতা কী করে ছিনিয়ে আনবেন! তাই ভালো কাজের দিকে মনোনিবেশ করুন এবং নিজের চেষ্টা অব্যাহত রাখুন, অবশ্যই সফল হবেন।

আপনি ছিলেন পরিবারের সবার বড়, তবে উল্লেখ করেননি আপনার আরো দুই ভাই/বোনের সাথে আপনার সম্পর্ক কেমন? আপনার বর্ণনা থেকে বোঝা যায়, যেহেতু আপনার মা মারা গিয়েছিলো এবং আপনার বাবার সাথেও একটি সমৃদ্ধ সম্পর্ক গড়ে উঠেনি এবং আপনি বড় হয়েছেন আপনার দাদীর কাছে তাই একটি বন্ধুসুলভ পরিবেশ আপনার কাছে অপরিচিত। কারন আপনার মেধা বিকাশের পুরো সময়টা কেটেছে আপনার দাদীর সাথে এবং একাকী। এখন আপনি যেহেতু হলে অবস্থান করছেন তাই মুক্ত মন নিয়ে সবার সাথে মিশুন এবং নিজের কষ্টগুলো শেয়ার করুন। নিজের ইতিবাচক দিকগুলো নিয়ে সজাগ দৃষ্টি রাখুন।

সর্বশেষে আপনি উল্লেখ করেছেন যে, আপনি নেপোটিজমের শিকার হয়েছেন অনেকবার, আমি অত্যন্ত দুঃখিত কারন আপনি উল্লেখ করেননি কী ধরনের নেপোটিজমের শিকার হয়েছেন আপনি? নেপোটিজম বলতে সাধারনত আত্মীয়দের প্রভাব খাটিয়ে কোন কাজ করা বুঝায়। তার স্বাধীনতাকে খর্ব করে অন্যের মতে চাপিয়ে দেওয়া। আবার এটাও হতে পারে ভালো স্কুলে আত্মীয় কারো প্রভাবে ভর্তি হওয়া। যেখানে মেধার মূল্যায়ন কম।

আপনার সর্বোচ্চ সফলতা কামনা করছি। ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন এবং নিরাপদে বাসায় থাকুন।

তানজিলা রহমান তমা
০৯, পিয়ার কাউন্সেলর, মনচিঠি, ডিইউওএস
tanzilarahman95t@gmail.com

💌 অনলাইন চিঠি ও উত্তরের (টেক্সট) মাধ্যমে মানসিক স্বাস্থ্য পরামর্শ পেতে এখানে ক্লিক করে ‘মনচিঠি’তে লিখতে হবে।

📞 ভয়েস কলে কাউন্সেলিং/মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা পেতে এখানে ক্লিক করে ফরমটি পূরণ করতে হবে।

☎️ হটলাইন নম্বরে ফোনকলের মাধ্যমে মানসিক স্বাস্থ্য পরামর্শ পাওয়ার নম্বরগুলো জানতে এই লিঙ্কে ক্লিক করতে হবে।

👩‍⚕️ এ ছাড়াও ইমেইল আইডি, ফেসবুক পেজ এবং সেলফোন নম্বরে যোগাযোগ করে মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা পাওয়া যাবেঃ

👍 ফেসবুক পেজ (ক্লিক করুন)
💬 ফেসবুক মেসেঞ্জার (ক্লিক করুন)
📞 সেলফোন নম্বর : 01841 21 52 71
📧 ইমেইল আইডি : monchithi.duos@gmail.com

🌐 বিস্তারিতঃ www.duos.org.bd/monchithi

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *