আমরা দুজনেই ছোট ছিলাম তাই তখন ধর্মের ব্যাপারটা নিয়ে অতো ভাবিনি

📮 মনচিঠি টেক্সট-২৬ (প্রেরকের সম্মতিতে প্রকাশিত)

নমস্কার। আমার নাম……। বর্তমানে আমি বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। কিন্তু আমার মানসিক অবস্থার জন্য ঠিকমতো প্রস্তুতি নিতে পারছি না আমি। ক্লাস টেন এ আমি একটি সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ি। আর কাল প্রায় তিন বছরের এই সম্পর্কটা শেষ করি। আর সেটা শুধুমাত্র ধর্মের কারণে।

যদিও পরিবারে জানাজানি হয়নি। তবুও পরিবার মেনে নিবে না ভেবেই আমরা আমাদের সম্পর্কের ইতি টানি। তার সাথে বর্তমানে আমার কোনো যোগাযোগই নেই। কিন্তু কিছুতেই মনকে বুঝাতে পারছি না।

অনেকেই বলবে এতো ছোট বয়সে প্রেম তার উপর অন্য ধর্মের। পরিবার যে মানবে না এটা আগে জানতে না? তাই কাওকে বলতেও পারছি না। আমরা দুইজনেই ছোট ছিলাম তাই তখন ধর্মের ব্যাপারটা নিয়ে অতো ভাবিনি। আস্তে আস্তে যখন বুঝতে শুরু করলাম তখন ছাড়াছাড়িটা খুব কঠিন হয়ে পড়ে আমাদের জন্য। তা সত্ত্বেও, বাধ্য হয়েছি ব্রেক আপ করতে।

আমাদের মধ্যে কোনো ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল না যদিও, তবুও খুব ভালোবেসেছিলাম একে অপরকে। যাইহোক, ছাড়াছাড়ি তো হয়েই গেলো। কিন্তু আমি কিছুতেই পড়াতে মন বসাতে পারছি না। সামনে আমার পরীক্ষা এবং বরাবরের মতই আমার মা-বাবা আমার কাছ থেকে ভালো কিছুই আশা করেন। কিন্তু আমি নিজেকে ঠিক রাখতে পারছি না। এক্ষেত্রে আমার কী করণীয়?

💌 মনচিঠি টেক্সট-২৬ এর উত্তর

অনেক ধন্যবাদ আমাদের কাছে চিঠি লিখে আপনার বর্তমান অবস্থা এবং মনঃকষ্ট শেয়ার করার জন্য।

আপনার লেখা পড়ে বুঝতে পারছি, আপনাদের যে সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল তা বেশ সময়ে মজবুত বন্ধুত্বে রূপ নেয়, যা ভেঙ্গে যাওয়ায় আপনার মনে বেশ শূন্যতা এবং মন খারাপ অনুভূতি কাজ করছে। এ নিয়ে আপনি প্রচন্ড কষ্টও পাচ্ছেন। কিন্তু কারো সাথেই শেয়ার করতে পারছেন না। আপনার চারপাশে পৃথিবীকে ধূসর লাগছে।

পড়াশুনা, জীবনের গল্প পাল্টে গেছে বলে মনে হচ্ছে। সব কিছু থেকে বেরিয়ে আবার স্বাভাবিক জীবনে আসার ইচ্ছায় আপনি ‘মনচিঠি’র কাছে আপনার কথা বলেছেন।

এই কথাগুলো শেয়ার করেছেন, মানসিক স্বাস্থ্যের ব্যাপারে আপনি সচেতন একজন ব্যক্তি। আবারও আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ ও অফুরন্ত শুভেচ্ছা জানাচ্ছি আপনাকে।

আপনার প্রশ্নগুলোর উত্তর দেবার আগে আমি বলব যে, একজন পেশাজীবী মনোবিজ্ঞানী হিসেবে আমার কাজের কিছুটা সীমাবদ্ধতা আছে। একজন ব্যক্তি বা ক্লায়েন্ট যখন কোন মাধ্যমে তার মানসিক সমস্যা তুলে ধরেন এবং সাহায্য কামনা করেন, সাধারনত পরামর্শ আশা করেন, সেক্ষেত্রে আমরা পেশাজীবী মনোবিজ্ঞানী হিসেবে সেই সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে প্রত্যক্ষ কোন নির্দেশনা বা উপদেশসহ পরামর্শ দিতে পারি না। কারণ প্রত্যক্ষ নির্দেশনা দেয়া আমাদের পেশাগত সীমার বাইরে।

আমি আপনাকে সহযোগিতা করব, আপনার আবেগ কিভাবে আপনার চিন্তাকে প্রভাবিত করছে এবং আপনার আচরণ কিভাবে দৈনন্দিন জীবনকে ব্যহত করছে তা আপনার কথা থেকেই আপনার কাছে একটি চিত্র তুলে ধরবো। আপনার লেখাকে একে একে বিশ্লেষণ করলে,

আপনি জানিয়েছেন, আপনার সামনে ভর্তি পরীক্ষা, কিন্তু আপনার মানসিক অবস্থার জন্য ঠিকমতো প্রস্তুতি নিতে পারছেন না। আর তাতে আপনি আপনার ভবিষ্যতে ক্যারিয়ার নিয়ে চিন্তিত।

আপনার ফলাফল ঘিরে আপনার বাবা মার প্রত্যাশার কথাও উল্লেখ করেছেন। আপনি আপনার পরিবার এবং আপনার ক্যারিয়ার নিয়েও কিছুটা চিন্তিত।

আপনি আরো লিখেছেন যে, আপনারা যখন বুঝা শুরু করেন তখন সম্পর্ক থেকে সরে আসা খুব কঠিন হয়ে পড়েছিল তবুও আপনারা দুজনের সিদ্ধান্তে সম্পর্ক থেকে দূরে আছেন। এই দূরে সরে যাওয়াটি মেনে নিতে আপনার খুব মন খারাপ এবং স্বাভাবিক কাজে ব্যাঘাত ঘটছে।

অর্থ্যাৎ যদি আমরা আমাদের হাতকে ব্রেনের কাঠামোর মতো মনে করি। এবার মুঠো করি হাত। তাহলে হাতের উপরের অংশ হলো আমাদের চিন্তা, বুদ্ধি, ভাবনা, বাস্তবতাকে বুঝা, সমস্যা সমাধানের কৌশল অর্থ্যাৎ লজিক্যাল ব্রেন। আর হাতের নিচের অংশটি হলো ইমোশনাল ব্রেন আনন্দ, দুঃখ, কষ্ট, ভয় সবকে ঘিরে।

বলা হয়, যখন আমরা কোন একটি বিষয়ে অনেক মজবুত আবেগীয় বন্ধনে জড়িয়ে পড়ি এবং ঐ বন্ধনের বিচ্ছেদে আমাদের হাতটি আস্তে করে খুলে যায়। তখন আমরা আমাদের লজিক্যাল ব্রেনকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারি না। আর আবেগীয় ব্রেন ৫গুন বেশি শক্তিশালী হয়ে মনে ঝড় তোলে। ফলে অবাস্তব চিন্তা, মেজাজ খিটখিটে আর আবেগকে অনিয়ন্ত্রিত মনে হয়। মনে হয় আমি এই কষ্টটাকে কোন ভাবেই মেনে নিতে পারব না। এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসা আমার পক্ষে সম্ভব নয়।

তবে সময় নিয়ে কাউন্সেলিং এর মাধ্যমে আপনি এই বিষয়টি সম্পর্কে আরো ক্লিয়ার ধারণা নিয়ে অবশ্যই আবেগীয় কষ্ট থেকে বেরিয়ে আসতে পারবেন। মনের ভেতরে জমে থাকা চিন্তাগুলো এবং অনুভূতির প্রকাশে সহায়তা করতে পারে আপনাকে।

এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে একজন প্রফেশনাল কাউন্সিলরের সাহায্য দরকার হয়, যাতে করে আপনি আপনার আচরণের উপর ঐ চিন্তা এবং অনুভূতির প্রভাব সম্পর্কে ধীরে ধীরে সচেতন হতে পারেন। তাছাড়া কোন সমস্যায় পড়লে আপনি নিজেই চিন্তা, অনুভূতি এবং আচরণ কিভাবে প্রভাবিত হচ্ছে তা বুঝতে পারেন এবং তার সমাধান আছে তা সম্পর্কে সঠিকভাবে জানতে পারেন।

আবার এই পরিবর্তিত চিন্তা, অনুভূতি এবং আচরণের জন্য যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে এবং তা কিভাবে সমস্যাকে আরো দীর্ঘায়িত করছে তাও আপনার বুঝতে সহজ হবে যদি আপনি সময় নিয়ে সেশন নেন।

আপনার সমস্যাটি দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলে তা আপনার পড়াশুনা, দৈনন্দিন কাজে বেশ প্রভাব ফেলবে। তাই স্বাভাবিক জীবন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আপনার কোন পেশাজীবী মনোবিজ্ঞানী থেরাপিস্টের শরণাপন্ন হওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

পুনরায় আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ আমাদের সাথে আপনার কষ্ট শেয়ার করার জন্য।

ফাতেমা শাহরিন
২০-০২-১৮, পিয়ার কাউন্সেলর, মনচিঠি by DUOS
zummi093824@gmail.com

📞 ভয়েস কলে কাউন্সেলিং/মানসিক স্বাস্থ্য পরামর্শ পেতে এখানে ক্লিক করে ফরমটি পূরণ করতে হবে।

👩‍⚕️ এ ছাড়াও ইমেইল আইডি, ফেসবুক পেজ এবং সেলফোন নম্বরে যোগাযোগ করে মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা পাওয়া যাবেঃ

👍 ফেসবুক পেজ (ক্লিক করুন)
💬 ফেসবুক মেসেঞ্জার (ক্লিক করুন)
📞 সেলফোন নম্বর : 01841 21 52 71
📧 ইমেইল আইডি : monchithi.duos@gmail.com

🌐 বিস্তারিতঃ www.duos.org.bd/monchithi

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *