আমার কিছুই মনে থাকে না, এমনভাবে থাকে না যেন ওই জিনিস আমার সাথে হয়ই নাই

📮 মনচিঠি টেক্সট-২১ (প্রেরকের সম্মতিতে প্রকাশিত)

আমার আসলে মনে নাই শেষ কবে আমি একটু শান্তি নিয়ে ছিলাম। আমি জানি না কেনো কিন্তু এখন আমি আর নিতে পারছি না কারন আমার খালি বুকে ধড়ফড় করে আর শরীর কাপে। আমি ডক্টরও দেখিয়েছি কিন্তু আমার কোনো সমস্যা নেই বলেছেন। আমার কিছুই ভালো লাগে না আর আমি কোনো কিছুই ঠিক মত করতে পারি না।

১. আমি অনেক দিন যাবত খুব মানসিক যন্ত্রনায় আছি আর এখন এত বছর পরে আমার কাছে এই যন্ত্রনা নরমাল হয়ে গেছে।
২. আমার কিছুই মনে থাকে না, এমনভাবে থাকে না যেন ওই জিনিস আমার সাথে হয়ই নাই।
৩. আমি যেখানেই যাই, পলিটিক্সের স্বীকার হই।
৪. কম বয়স থেকে অনেক দায়িত্ব নিয়ে ফেলসি এখন আমি আর কিছু সহ্য করতে পারি না, তাও করতে হয়, দম বন্ধ লাগে, why me?
৫. আমার মন কখনই শান্ত হয় না, আমি অনেক বিক্ষিপ্ত অবিস্থায় থাকি।
৬. কিছুতেই মনোযোগ দিতে পারি না।
৭. আমি সুইসাইড করার চেষ্টা করছিলাম কিন্তু পারি নাই।
৮. আমার মাঝে মাঝে খুবই ভয় লাগত কারণ আমি উল্টাপাল্টা গন্ধ পাই যেটা আশেপাশের কেউই পায় না, এখন আর লাগে না।
৯. আমার চাইল্ডহুড খুবই বাজে, আমার ফ্যামিলির সব সদস্য এক একটা ফাজিলের বাচ্চা বিশেষ করে আমার চাচা, মামা টাইপ এই পাব্লিকগুলা আমাকে সারাক্ষন মানসিকভাবে হেয় করে।

💌 মনচিঠি টেক্সট-২১ এর উত্তর

প্রথমেই আপনাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি DUOS এর ‘মনচিঠি’তে চিঠি লিখে সাহায্য চাওয়ার জন্য।

আপনার লিখা থেকে বুঝতে পেরেছি আপনি খুব অশান্তির ভেতর দিয়ে যাচ্ছেন দীর্ঘ সময় ধরে। যেহেতু আপনার বাবা নেই এবং কোন ভাই-বোনও নেই তাই আপনাকে একাই সব দায়িত্ব নিতে হয়। একই সাথে আপনি আরো জানিয়েছেন আপনার আত্মীয়স্বজনরাও আপনাদেরকে তেমন সাহায্য করেন না।

আসলে এমন পরিস্থিতে খুব অসহায় অনুভব করাটাই স্বাভাবিক। আপনার এই অনুভূতির ফলে আপনার বুক ধড়ফড় করে এবং আরো কিছু শারীরিক সমস্যা হচ্ছে যার আসলেই শারীরবৃত্তীয় কোন কারণ নেই।

আপনি বলেছেন আপনি ডাক্তারও দেখিয়েছেন। আসলে আপনার এই সমস্যাগুলো এংজাইটি এর কারণে হচ্ছে। কারণ আসলে না পারছেন আপনি সহ্য করতে, না পারছেন সব কিছু থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখতে।

আপনি আরো বলেছেন আপনি আত্মহত্যার চেষ্টাও করেছেন। আমি বুঝতে পারছি আপনি আসলে কতটা কষ্টের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। আমরা আসলে কখনোই মরতে চাইনা, মারতে চাই কষ্টগুলোকে।

আপনি প্লিজ আপনার যে কাজগুলো করতে ভালো লাগে সেগুলো করবেন। সিথিলতার জন্য শ্বাস-প্রশ্বাস এর ব্যায়াম করবেন, ঠিকমত খাওয়া-দাওয়া করবেন। বিশ্বস্ত বন্ধুর সাথে অনুভূতিগুলো শেয়ার করবেন এবং ধর্মীয় কাজও করতে পারেন। আসলে বর্তমানে আমরা সবাই একটা অনিশ্চিত সময় পার করছি এবং এই পরিস্থিতিতে ভালো থাকাও একটু কষ্টকর।

আপনার এই আত্মহত্যাপ্রবনতা এবং শারীরিক সমস্যাগুলো যদি তীব্র হয় তাহলে আপনি প্লিজ ঢাকা মেডিকেল, বঙ্গবন্ধু মেডিকেল এর মানসিক রোগ বিভাগ অথবা জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউট এ একজন সাইকিয়াট্রিস্ট এর শরণাপন্ন হতে পারেন এবং একজন প্রফেশনাল সাইকেলজিস্ট এর কাছে যেতে পারেন।

মনে রাখবেন, মানসিক সেবা নেয়া মানেই আপনি পাগল হয়ে যাওয়া না। আমাদের সবারই দায়িত্ব মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি যত্নবান হওয়া।

আপনাকে আবারও অনেক ধন্যবাদ।

ফাতেমা আক্তার কেয়া
২০-০২-২০, পিয়ার কাউন্সেলর, মনচিঠি by DUOS
fatema00027@gmail.com

📞 ভয়েস কলে কাউন্সেলিং/মানসিক স্বাস্থ্য পরামর্শ পেতে এখানে ক্লিক করে ফরমটি পূরণ করতে হবে।

👩‍⚕️ এ ছাড়াও ইমেইল আইডি, ফেসবুক পেজ এবং সেলফোন নম্বরে যোগাযোগ করে মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা পাওয়া যাবেঃ

👍 ফেসবুক পেজ (ক্লিক করুন)
💬 ফেসবুক মেসেঞ্জার (ক্লিক করুন)
📞 সেলফোন নম্বর : 01841 21 52 71
📧 ইমেইল আইডি : monchithi.duos@gmail.com

🌐 বিস্তারিতঃ www.duos.org.bd/monchithi

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *