দিনের পর দিন ওনাদের চিল্লাচিল্লি, মারামারি, ঝগড়াঝাটিতে আমি অতিষ্ট হয়ে যাচ্ছি | মনচিঠি টেক্সট-৪৫ 💌

📮 মনচিঠি টেক্সট-৪৫ (প্রেরকের সম্মতিতে প্রকাশিত)

১. আমি যখন খুব ছোট, ৫-৬ বছর বয়স হবে একদিন বাবা আমাকে কোলে করে দিদা আর দাদুভাইয়ার রুমে রেখে আসে, তারপর বাথরুমের জন্য উঠে শুনি অনেক চিল্লাচিল্লি, চিৎকার, অনেক বাজে অবস্থা, সেইদিন বুঝি মা-বাবার ঝগড়া হচ্ছে।

২. আস্তে আস্তে বড় হতে থাকি, মা-বাবার ঝগড়া বাড়তে থাকে। মা তেমন কিছুই বলে না কিন্তু বাবা এতো বেশী উত্তেজিত হয়ে যায় আর এতো বাজে ব্যবহার করে যে একটা ভয়ংকর পরিস্থিতি হয়ে যায়।

৩. সবসময় ঝামেলা হয় না তাই আর কথা বাড়াই না কিন্তু কেনো যেনো মনের ভিতর একটা ভয় ঢুকে যায়, সবসময় মনে হয় কিছু একটা হবে, কিছু একটা হবে, কিছু একটা হয়ে যাবে।

৪. কিছুদিন আগে এক আপু সুইসাইড করে মারা যায়। আমার অনেক কাছের বোন। আপু সারা রাত গল্প করার পরে আপুর রুমে ঘুমাতে যায় আমি আমার রুমে। সকালে উঠে শুনি আপু নাকি সুইসাইড করেছে। আপন না মামাতো বোন আর কি।

৫. তার কিছুদিন পরেই মেডিকেলের পরীক্ষা ছিলো, সারাজীবনের স্বপ্ন। আপু মারা যাওয়ার পর থেকেই অনেক ভয় পেতাম কান্না আসতো অনেক বাজে লাগতো। হলে যেয়ে সব গুলিয়ে যাচ্ছিলো, গা হাত পা কাপছিলো। চান্স পাই না আমি, অনেক খারাপ করি, এতো খারাপ যে, পাস মার্কসটাও আসে না অথচ আমি স্টুডেন্ট হিসেবে বেশ পরিচিত উদ্ভাস, রেটিনাতে। যাইহোক আবার খারাপ লাগলো।

৬. আমার কাউকে ভালো লাগে না, কোনো মানুষকে না, কোনো প্রাণীকে না, কিচ্ছু না। আমি মেডিকেলে চান্স পাইনাই এই কষ্টটা আমি কোনোভাবেই মানতে পারি না। আমার অনেক খারাপ লাগে অনেক বাজে অবস্থার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি আর বারবার-ই আল্লাহকে ডাকছি।

৭. এই সময়েই বাবা মায়ের ঝগড়া আরো এত বেড়ে গিয়েছে যে বলার বাইরে। ২৭ বছরের সংসার মায়ের উচিত ছিলো আরো আগে এখান থেকে সরে আসা কিন্তু মা আসে নাই। এখন অনেক কিছু জড়িত এটার সাথে, চাইলেই ছাড়া যায় না। কিন্তু দিনের পর দিন ওনাদের চিল্লাচিল্লি, মারামারি, ঝগড়াঝাটিতে আমি অনেক অতিষ্ট হয়ে যাচ্ছি, বেচে থাকাটা একটা কষ্ট মনেহয় আমার কাছে। সমাজে আমার বাবার স্ট্যাটাস অনেক হাই! এজন্য কথাগুলা সেভাবে কাওকে বলতেও পারিনা। আবার বাবার টাকা দিয়েই পড়াশোনা, খাওয়া-দাওয়া সবকিছু অনেক অসহ্য লাগে আমার কাছে।

💌 মনচিঠি টেক্সট-৪৫ এর উত্তর

প্রথমত আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ আপনার বিষয়গুলো তুলে ধরার জন্য এবং মনচিঠি’তে যোগাযোগ ও শেয়ার করার জন্য।

আপনার বিষয়গুলো আমি বোঝার চেষ্টা করবো এবং সেই অনুযায়ী পরামর্শ দেয়ার চেষ্টা করব।

ছোটবেলা থেকে আপনি পারিবারিক কলহ বিশেষ করে আপনার মা ও বাবার ঝগড়ার পরিস্থিতির শিকার হয়ে আসছেন যা আপনার জন্য একটি নেতিবাচক পরিবেশ এবং আপনাকে মানসিকভাবে অনেকভাবে প্রভাবিত করেছে এবং করছে।

তাছাড়া আপনার সাথে কিছু অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটেছে যেমন আপনার কাছের বোনের সুইসাইড, মেডিকেলে চান্স না পাওয়া, সব মিলিয়ে আপনি মানসিকভাবে হতাশ এবং নিজের উপর খুব কম আত্নবিশ্বাস অনুভব করছেন ও ভয় পাচ্ছেন।

আমাদের জীবনে মা-বাবার ভূমিকা অপরিসীম যা আমাদের পরবর্তী সময়ে আমাদের ব্যক্তিত্ব ও কোনো পরিস্থিতিতে আমরা কতটুকু আত্নবিশ্বাসী ও ঐ পরিস্থিতিতে নিজেকে মানসিক ও আবেগীয়ভাবে ঠিক রেখে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে পারি তা নির্ভর করে।

আপনার কোর একটি ইস্যু হচ্ছে আপনার মা-বাবার সম্পর্ক আপনাকে যে ভাবে প্রভাবিত করেছে এর জন্য আপনি আপনার মা-বাবার সাথে এসারটিভলি কথা বলতে পারেন এবং আপনি সিস্টেমেটিক ফ্যামিলি থেরাপি নিতে পারেন।

বতর্মানে আপনি নেতিবাচক অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন এর ফলে আপনার হতাশা, আত্নবিশ্বাসের ঘাটতি ও ভয় কাজ করছে।
আপনি এই ইস্যুগুলোর জন্য যা যা করতে পারেন-

প্রথমত আপনার অনুভূতিগুলো গ্রহন করে নিন, আপনি যে পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন তাতে এমন অনুভূতি/চিন্তা আসাটাই স্বাভাবিক।

দ্বিতীয়ত, আপনার পজিটিভ গুনগুলো, আপনার জীবের ছোট থেকে বড় সাফল্যগুলো লিখে ফেলুন।

তৃতীয়ত, নিজের ইতিবাচক দিকগুলো নিয়ে ভাবুন।

চতুর্থত, Deep breathing exercises, Mindfulness relaxation meditation (ইন্টারনেট থেকে এই বিষয়ে আরও জানতে পারবেন) , physical exercise, একটা daily routine মেন্টেন করতে পারেন।

তাছাড়া আপনি আপনার কথাগুলো আপনার সবচেয়ে কাছের মানুষের কাছে শেয়ার করতে পারেন, যদি সম্ভব না হয় নিজের অনুভূতি ও চিন্তার একটি journal /dairy লিখে রাখতে পারেন।

সবশেষে আপনার যদি মনে হয় আপনার বতর্মান পরিস্থিতির জন্য বিশেষজ্ঞের সাহায্য প্রয়োজন তাহলে আপনি তাদের সাথে কথা বলতে পারেন।

আপনার জন্য আন্তরিক শুভকামনা রইলো।

ধন্যবাদান্তে,
মারিয়া জামান (২১-০৫-৪৭)
পিয়ার কাউন্সেলর, মনচিঠি by DUOS
mariazaman58@gmail.com

📞 ভয়েস কলে কাউন্সেলিং/মানসিক স্বাস্থ্য পরামর্শ পেতে এখানে ক্লিক করে ফরমটি পূরণ করতে হবে।

☎️ হটলাইন নম্বরে ফোনকলের মাধ্যমে মানসিক স্বাস্থ্য পরামর্শ পাওয়ার নম্বরগুলো জানতে এই লিঙ্কে ক্লিক করতে হবে।

👩‍⚕️ এ ছাড়াও ইমেইল আইডি, ফেসবুক পেজ এবং সেলফোন নম্বরে যোগাযোগ করে মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা পাওয়া যাবেঃ

👍 ফেসবুক পেজ (ক্লিক করুন)
💬 ফেসবুক মেসেঞ্জার (ক্লিক করুন)
📞 সেলফোন নম্বর : 01841 21 52 71
📧 ইমেইল আইডি : monchithi.duos@gmail.com

🌐 বিস্তারিতঃ www.duos.org.bd/monchithi

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *