So why Do Ladies Have It Much easier Dating?

Why perform women have it less complicated when it comes to going out with? It may big surprise you to are aware that there are many different reasons why females are interested in other males over guys. There are various evolutionary explanations for this however the most well-liked is the have to compete with other men meant for mates and reproduce. Due to this fact, ladies are very interested inside the status of other males and how that they compare to these people socially. Due to their have to compete designed for mates, girls are willing to devote more job into building a relationship versus a guy who is more interested in just working with a casual fling. Here are some with the top reasons how come do women of all ages have it much easier when it comes to going out with.

https://s3.amazonaws.com/medium.cosplay.com/145534/1820305.jpg

Women are attracted to great – In nature, the two males and females want to look their finest. In fact , a lot of would believe the only thing that stands between men and women is actually or not really they will look not as much attractive than their mate. When it comes to dating, women are looking for a lover that will look good. Ladies can look as effective as men and fact, it is part of their very own genetic makeup.

Girls are attracted to men so, who are positive – A primary reason why ladies are interested in men is that they are often times interested in men exactly who are self-assured and whom are self-confident. Many men mistake this https://wanderlustbay.com/wedding-ceremony-scripts/ as world of one but in simple fact, a confident man can be one who is definitely willing to be him self and be true to himself by what he would like out of life. This is not to say that a guy who is inferior about whom he is are never happy. However , a lot of men who happen to be insecure regarding the way they look are normally men so, who are not comfortable about their capabilities in many aspects of life.

Women just like guys who also are eye-catching – Now this could come across as a turn off to some women. However , there are some features about males that make these people attractive. For just one, we all know that women are attracted to tall, strong and hairy men. While we have now all found the terrible stereotypes, extra tall, strong and furry men are actually quite common. And for one more thing, women happen to be drawn to males exactly who are attractive in general.

Men have to date more – Another reason why women date a lot of men is they need to balance their lives. With so many men demanding and so much from them, girls find it hard https://topmailorderbride.com/spanish/ in order to meet that require and to continue to keep a balance. Therefore , women in many cases date several men simultaneously. While this can be flattering to several women, in addition, it creates as well many man-children. This imbalance can be solved by the fact that many men just want to date one woman and at the end of the day that girl decides futhermore important.

These are just a few of the many reasons why do women get it easier online dating? There are a lot more factors that are involved in the dating scene. The only way it will be easy to discover what it is that both you and your future spouse prefer is if you dive in the dating game. So why? Because if you do not try to amount https://demoapus.com/yozi/yozi1/steps-to-create-online-human-relationships-work-is-it-possible/ things out, you will not ever know whether or perhaps not the girl that you’re viewing is right for you.

সফল মানুষ মাত্রই সুখী মানুষ নন

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন, সারা বিশ্বেই তিনি এখন তুমুল আলোচিত। ২০১৭ সালের ২১ মে যুক্তরাষ্ট্রের কলবি কলেজের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে তরুণদের সামনে এক অনবদ্য বক্তৃতা দিয়েছিলেন তিনি। যে বক্তৃতায় তাঁর নীতি, অনুপ্রেরণা, মনোভাব সম্পর্কে জানা যায়।

“সমাবর্তন বক্তৃতা দেওয়া আমার কাছে খুব কঠিন কাজ মনে হয়। সত্যিই। কারণ, বক্তৃতা চলাকালীন শিক্ষকেরা মনে মনে বলেন, ‘এখন জীবনের ১৫তম সমাবর্তন বক্তৃতাটা শুনতে হবে।’ শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘তাড়াতাড়ি শেষ করুন, আমাদের পার্টি শুরু হবে।’ আর অভিভাবকেরা বলেন, ‘অর্থবহ কিছু বলুন, যেন টিউশন ফি দেওয়াটা সার্থক মনে হয়।’ তবে তাই হোক। চেষ্টা করব, তবে জানি না পারব কি না।

১৯৬৮ সালে জর্জটাউন ইউনিভার্সিটিতে সমাবর্তন বক্তৃতা দিতে হাজির হয়েছিলেন বব হোপ। তখন ভিয়েতনাম যুদ্ধের মাঝামাঝি সময়। পরিস্থিতি ক্রমশ খারাপ হচ্ছে। উপস্থিত অন্যান্য তারকা, শিক্ষকদের পর বব হোপ বক্তৃতা দিতে দাঁড়ালেন। শিক্ষার্থীদের দিকে তাকিয়ে তিনি বলেছিলেন, ‘তোমাদের আমার শুধু একটা কথাই বলার আছে: যেয়ো না’। এ কথা বলে তিনি বসে পড়লেন। এটাই সম্ভবত সে বছরের সবচেয়ে অর্থবহ সমাবর্তন বক্তৃতা ছিল।

বাবার কাছে শেখা

আমার বাবা ছিলেন একজন সহৃদয় ব্যক্তি। হাইস্কুল পর্যন্ত পড়ালেখা করেছেন। কিন্তু শিক্ষিত এবং সত্যিকার সজ্জন ছিলেন। বলতেন, ‘জো, প্রত্যেক নারী, পুরুষ, শিশুকে শ্রদ্ধা করা উচিত। সম্মান সবার প্রাপ্য।’ চলার পথে কেউ ভিক্ষা চাইছেন, আর আমার বাবা তাঁকে কিছু না দিয়েই চলে গেছেন, এমন কখনো হয়নি। আমি বলতাম, ‘বাবা, সে তো এই টাকা ফুর্তি করবে, মদ খাবে।’ বাবা বলতেন, ‘তোমার কি মনে হয়, ভিক্ষা ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প পথ থাকলে তিনি এই কাজ করতেন? মানুষটা যে-ই হোন না কেন, মর্যাদা তাঁর প্রাপ্য।’

বন্ধুরা, তোমাদের সবার অনেক দায়িত্ব—তোমরা জানো, মানুষকে সম্মান দেওয়ার শিক্ষা তোমরা এখানে পেয়েছ, এখানে আসার আগেও পেয়েছ। সমানুভূতিপূর্ণ একটা শক্তিশালী সম্পর্ক গড়ে তুলতে আমাদের সবাইকে কাজ করতে হবে। যেন যে বন্ধুরা আমাদের মতো নন, তাঁরা জানেন, আমরা তাঁদের বুঝি।

অনলাইনে আমরা নিজেরা নিজেদের প্রতিধ্বনি শুনতে পাই, এই আত্মকেন্দ্রিকতা কোনো জীবন নয়। মুঠোফোন বা কম্পিউটারের পর্দার দিকে তাকিয়ে বেঁচে থাকা আমাদের একটা অগভীর, আন্তরিকতাহীন সম্পর্কের দিকে ঠেলে দেয়। ফলে মানুষের ধ্যানধারণায় অনেক সীমাবদ্ধতা থেকে যায়। একজন মানুষ একটা খারাপ সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, কিন্তু আমরা তাঁকে খারাপ মানুষ ভেবে দূরে ঠেলে দিই। টেবিলের উল্টো দিকে থাকা মানুষটি হয়তো এমন এক জনগোষ্ঠী থেকে উঠে এসেছেন, যাঁদের কাছে আমি কখনো যাইনি। রাজনৈতিক বিতর্কের মঞ্চে যিনি আমার উল্টো দিকে আছেন, তিনি দেখতে আমার মতো নন, তাঁর বেড়ে ওঠা হয়তো একেবারেই ভিন্ন। মানবিকতার আদর্শ উদাহরণ তাঁরা নন, বৈশিষ্ট্যে-গুণে নানা জায়গায় ঘাটতি আছে। তাঁরাও রক্ত-মাংসের মানুষ, ত্রুটিযুক্ত, পৃথিবীতে সফল হওয়ার সংগ্রাম করে যাচ্ছেন—ঠিক তোমার মতোই। তোমার ভেতর যত জটিল অনুভূতি খেলা করে, তোমার উল্টো দিকের মানুষটির ক্ষেত্রেও তা-ই, সেভাবেই তাঁকে গ্রহণ করার চেষ্টা করতে হবে।

ব্যক্তিগত সম্পর্কের শক্তি

ক্যাম্পাসে গল্প করার সময় তোমরা যখন একে অন্যের গল্প শোনো, তা থেকে তোমার নিজের একটা গল্প তৈরি হয়। কলবিতে তুমি যত কিছু শিখেছ, এটাই হয়তো তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, জীবনে চলার পথে আমি দেখেছি, ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে তোলাই আসলে সব। রাজনৈতিক সম্পর্ক বলো, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বলো—সবই আসলে ব্যক্তিগত সম্পর্ক।

গত ৪২ বছরে বিশ্বের সব বড় বড় নেতার সঙ্গে আমার দেখা হয়েছে। এমন অনেক মানুষের সঙ্গে মিশেছি, যাঁদের ক্ষমতাবান বলে মনে করা হয়, এমনকি তাঁরা সত্যিই ক্ষমতাবান। আমি দেখেছি, সফল মানুষ মাত্রই সুখী মানুষ নন। যাঁরা সাফল্য আর সুখের মাঝখানের মধুরতম জায়গাটা আবিষ্কার করতে পারেন, আমি দেখেছি তাঁদের প্রত্যেকেরই ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে তোলার গুণ আছে। সহকর্মীর মা-বাবা যখন অসুস্থ থাকেন, কিংবা তাঁর সন্তান যখন কলেজ স্নাতক হন কিংবা কোনো দুর্ঘটনার শিকার হন, তাঁর খোঁজ রেখো। এটিই সত্যিকার সম্পর্ক গড়ে তোলে, পরস্পরের মধ্যে বিশ্বাস তৈরি করে, কঠিন এই পৃথিবীতে আমাদের চলার পথ সহজ করে।

এই শিক্ষা আমি পেয়েছি, যখন ৩০ বছর বয়সী একজন তরুণ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের অংশ হই। আমি সিনেটে যেতে চাইনি। ৩ নভেম্বর আমি নির্বাচিত হই। ১৮ ডিসেম্বর ওয়াশিংটন ডিসিতে আমার কর্মীদের নিয়োগ দিতে ব্যস্ত ছিলাম। এমন সময় একজন নারী আমাকে ফোন করলেন। তিনি আমাকে চেনেন না, সে জন্যই তাঁকে দিয়ে ফোনটা করানো হয়েছিল। একঘেয়ে স্বরে তিনি বললেন, ‘মিস্টার বাইডেন, আপনার স্ত্রী মারা গেছেন। আপনার মেয়ে মারা গেছেন। আপনার ছেলে বাঁচবেন কি না জানি না। আপনার এখন বাড়ি ফেরা উচিত।’ আমার পরিবার ক্রিসমাসের কেনাকাটা করতে গিয়েছিল। এমন সময় একটা ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষ হলো, আর হঠাৎ করেই সব বদলে গেল।

এ ঘটনা আমার জীবনে একটা বড় শিক্ষা। মাইক ম্যানসফিল্ড, এড মাসকির এবং আরও কয়েকজন প্রবীণ সিনেটর বলেছিলেন, ‘আসুন, শপথ গ্রহণ করুন। ছয় মাসের জন্য থাকুন। মাত্র ১ হাজার ৭০৩ জন মানুষের শপথ গ্রহণের সৌভাগ্য হয়েছে। আপনাকে এই অবস্থানে আনার জন্য আপনার স্ত্রী কঠোর পরিশ্রম করেছেন। পরিবারের ঋণ শোধ করতেই আপনার শপথ গ্রহণ করা উচিত।’ কিন্তু আমি যেতে চাইনি। তাই যেদিন আমার শপথ গ্রহণ করার কথা, সেদিন আমি সিনেটে যেতে রাজি হলাম না। আমিই সম্ভবত ইতিহাসের একমাত্র সিনেটর, যিনি হাসপাতালে শপথ গ্রহণ করেছি। কারণ, আমি আমার ছেলেকে ছেড়ে যেতে চাইনি। তাই সেক্রেটারি হাসপাতালে এসেছিলেন আমাকে শপথ গ্রহণ করানোর জন্য।

তোমাদের প্রজন্মের ওপর সফল হওয়ার ভীষণ চাপ। তোমাদের অর্জন অনেক। কিন্তু একই সঙ্গে হয়তো লক্ষ্য করেছ, তোমরা একটা গণ্ডির মধ্যে পড়ে গেছ। যে গণ্ডিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার চেয়ে সমাজের তৈরি করা ‘সফল হওয়ার ফাঁদে’ পড়াই গ্রহণযোগ্য। ‘চাকরি করো, মাথা গোঁজার একটা ঠাঁই তৈরি করো, বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে ঘুরে বেড়াও, কোনো ঝুঁকি নিয়ো না, কোনো পরিবর্তন করতে যেয়ো না’—ব্যস। অথচ মর্যাদা রক্ষা করা মানে কেবল নিজের সুযোগ, নিজের সাফল্য খোঁজা নয়।

গণ্ডিতে বন্দী থেকো না

তোমাদের প্রজন্মের ওপর সফল হওয়ার ভীষণ চাপ। তোমাদের অর্জন অনেক। কিন্তু একই সঙ্গে হয়তো লক্ষ্য করেছ, তোমরা একটা গণ্ডির মধ্যে পড়ে গেছ। যে গণ্ডিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার চেয়ে সমাজের তৈরি করা ‘সফল হওয়ার ফাঁদে’ পড়াই গ্রহণযোগ্য। ‘চাকরি করো, মাথা গোঁজার একটা ঠাঁই তৈরি করো, বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে ঘুরে বেড়াও, কোনো ঝুঁকি নিয়ো না, কোনো পরিবর্তন করতে যেয়ো না’—ব্যস। অথচ মর্যাদা রক্ষা করা মানে কেবল নিজের সুযোগ, নিজের সাফল্য খোঁজা নয়। কারণ, যা-ই করো না কেন, নিজেকে ও পরিবারকে রক্ষা করার মতো গণ্ডি তুমি গড়ে তুলতে পারবে না।

পরিবর্তনশীল পৃথিবীর চাপ থেকে এই ডিগ্রি তোমাদের রক্ষা করবে না। তোমার জনগোষ্ঠীতে যা হবে, তা তোমার ওপরও প্রভাব ফেলবে। তোমার বোন যদি পারিবারিক সহিংসতার শিকার হয়, তুমিও ভুগবে। তোমার সবচেয়ে ভালো বন্ধুটি যদি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার দুশ্চিন্তায় থাকে, তার মানে তুমিও ভালো নেই। যদি বিশুদ্ধ বাতাসে বুকভরে শ্বাস নিতে না পারো, যত সাফল্য বা টাকাই তোমার থাকুক না কেন, কোথাও লুকিয়ে বাঁচতে পারবে না।” (সংক্ষেপিত)

ইংরেজি থেকে অনুদিত
সূত্র: টাইম ডটকম, প্রথম আলো

সে বিবাহিত জেনেও তার ওপর প্রচন্ড দূর্বল হয়ে পড়ি, আমি তাকে ভালোবাসি

📮 মনচিঠি টেক্সট-২২ (প্রেরকের সম্মতিতে প্রকাশিত)

গত জুলাই মাসে আমার একটা ছেলের সাথে পরিচয় হয়, একটা ফুটবল গ্রুপের মাধ্যমে। আমরা দুজন সেম ক্লাবের সাপোর্টার। ফেসবুকে আলাপ হওয়ার পর জানতে পারি সে বিবাহিত। কিন্তু তার সাথে কথা বলতে বলতে আমি তার ওপর প্রচন্ড দূর্বল হয়ে পড়ি। আমি তাকে প্রচন্ড ভালোবাসি। সে আমাকে প্রচন্ড সাপোর্ট দেয় সবকিছুতে।

আমি জানি সে তার ওয়াইফকে প্রচন্ড ভালোবাসে। সে আমার সাথে ফ্রেন্ডের মতোই বিহেভ করে, কিন্তু আমি তাকে ভালোবেসে ফেলেছি। সে বাংলাদেশে থাকতো না। নেক্সট মান্থে সে দেশে আসবে। তারা দুজন আমার সাথে দেখাও করবে বলেছে। কিন্তু আমার এখন ভয় হয় আমি তাকে হারিয়ে ফেলবো কজ তার সাথে আমার আর যোগাযোগ হবে না যতদিন সে দেশে থাকবে। এইজন্য আমি প্রচন্ড ডিপ্রেসড। খুব কান্না পায় আমার। কিচ্ছু ভালো লাগে না।

এই পরিস্থিতিতে আমি কী করতে পারি? আমি সুস্থ স্বাভাবিক থাকতে চাই আবার তার সাথে যোগাযোগও রাখতে চাই ফিউচারে। এইটা কি পসিবল?

💌  মনচিঠি টেক্সট-২২ এর উত্তর

আপনি আপনার জীবনে ঘটে যাওয়া মুহূর্তগুলো সম্পর্কে সচেতন, সে জন্য আপনাকে সাধুবাদ জানাই।

আপনার চিঠি পড়ে যেটা বুঝতে পারলাম আপনি ফেসবুকের মাধ্যমে একজনের সাথে পরিচিত হয়েছেন এবং তাকে আপনি পছন্দ করেন, যেটা স্বাভাবিক। তার সাথে আপনি শুধু অনলাইনে আলাপ করেছেন। এর মানে আপনি তাকে সরাসরি জানেন না। তাই আপনি উনার উপর পুরোপুরি ভরসা করাটা কতটুকু যৌক্তিক হবে সেটা একটু ভেবে দেখবেন।

কারোর সাথে বেশ কিছু দিন কথা বললে তার প্রতি একটা ভালোলাগা কাজ করা স্বাভাবিক। যেটা আপনার ক্ষেত্রে হয়েছে। এটাকে লাভ না বলে ইনফেচুয়েশন বলা যেতে পারে।

আপনি বলছেন সে আপনাকে ফ্রেন্ড মনে করে এবং তার একটা পরিবার আছে। আপনি বাস্তবিকভাবে ব্যাপারটা একটু ভেবে দেখবেন।

ফ্রেন্ড হিসেবে সে আপনাকে অনেক সাপোর্ট দিচ্ছে, তাই তার প্রতি আপনার দূর্বলতা কাজ করাটা স্বাভাবিক।

আপনি বলছেন আপনি ভাড়া বাসায় থাকেন। একা থাকেন/ পরিবারের সাথে থাকেন/নাকি মেসে থাকেন? সেটা জানালে আপনার সাপোর্ট সিস্টেম সম্পর্কে জানতে পারতাম।

যেহেতু ফেসবুক ফ্রেন্ডের কাছ থেকে আপনি সাপোর্ট পাচ্ছেন, ধরে নিলাম আপনি সরাসরি তেমন কারোর সাথে আপনার বিশেষ মুহূর্তগুলো শেয়ার করেন না। (আমার ধারণা ভুল হলে ক্ষমা করবেন)

ফেসবুক বা ইন্টারনেট থেকে সাপোর্ট সিস্টেম না খুঁজে সরাসরি সাপোর্ট সিস্টেম তৈরি করা বেশি যৌক্তিক হবে কি না সেটা একবার ভেবে দেখুন।

জীবনটা আপনার, তাই আপনি যেভাবে জীবনকে সাজাবেন সেভাবেই হবে। কারোর প্রতি ডিপেন্ডেড না হয়ে নিজেই নিজের সাপোর্ট সিস্টেম হতে পারেন।

আপনি তার প্রতি ডিপেন্ডেড হওয়াতে তাকে হারিয়ে ফেলবেন ভেবে ভয় পাচ্ছেন। আপনি যাকে হারানোর ভয় পাচ্ছেন সে আদৌ আপনার ছিল কি না সেটা একবার ভেবে দেখুন।

আপনি কি তাকে আপনার মনের কথা গুলো বলেছিলেন? সে কী চাচ্ছে সেটা জেনে নিলে আপনার সিদ্ধান্ত নিতে সহজ হবে বলে মনে করি।

আপনি তাকে মিস করছেন ভেবে খারাপ লাগছে, যেটা স্বাভাবিক। আমরা আসলে কাউকে মিস করি না। তার সাথে কাটানো মুহূর্তগুলোকে আর উপভোগ করতে পারবো না ভেবে খারাপ লাগে। মিস করি ঐ মুহূর্তগুলোকে। সব কিছুই নিজের ইচ্ছের উপর নির্ভরশীল।

“আউট অব সাইট, আউট অব মাইন্ড” বলে একটা কথা আছে। তার সাথে যদি সম্পর্ক আগানোর কোন ইচ্ছে না থাকে তাহলে তার সাথে যোগাযোগ কমিয়ে ফেলা ভালো হবে বলে মনে করি।

(*** আমি সুস্থ স্বাভাবিক থাকতে চাই আবার তার সাথে যোগাযোগও রাখতে চাই ফিউচারে। এইটা কি পসিবল?? ***
এই প্রশ্নের উত্তরে বলব, এইটা সম্পূর্ণ আপনার ইচ্ছার উপর নির্ভর করছে, আপনি তার সাথে কী ধরনের সম্পর্ক রাখতে চাচ্ছেন, সে সেটা চাচ্ছে কি না, আপনি যা চাচ্ছেন সে কি তা চাচ্ছে? আবার তার স্ত্রী এই পুরো ব্যাপারটা জানলে কিভাবে নিবে, এরকম আরও অনেক বিষয় থাকতে পারে।

সবগুলো দিক বিবেচনা করে আপনিই সিদ্ধান্ত নিন আপনি কী চাচ্ছেন। এই সকল বিষয়ে আপনি সরাসরি তার সাথে কথা বললে আপনার জটিলতা কেটে যাবে।)

আপনার চিঠি পড়ে বুঝতে পারলাম খেলাধুলার  প্রতি আপনি বেশ আগ্রহী। বর্তমান পরিস্থিতিতে আপনি যে কোন ধরনের অ্যাক্টিভিটি করতে পারেন। এতে আপনার দেহ ও মন দুইটাই ভালো থাকবে ।

এছাড়া সাময়িক সমাধান পেতে আপনি Breathing Exercise করতে পারেন।

প্রথমে লম্বা করে মুখ দিয়ে শ্বাস নিতে হবে, কিছুটা সময় তা ধরে রাখতে হবে (৪/৫ সেকেন্ড),
তারপর ধীরে ধীরে মুখ দিয়ে প্রশ্বাস ছাড়তে হবে।

এই ব্যায়াম আপনার বুক ধড়ফড় ও অস্বস্তি ভাব কমাতে সাহায্য করবে।

আপনি এর আগে কখনও এই রকম পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছিলেন কি না সেটাও চিঠিতে উল্লেখ নেই। থাকলে চিঠির উত্তর দিতে সুবিধা হতো ।

আপনি সরাসরি একজন মনোবিজ্ঞানীর সাথে যোগাযোগ করতে পারেন, যিনি আপনার সমস্যা শুনে কিভাবে আপনার জীবনকে আরও সুন্দর করা যায় সে ব্যাপারে আপনাকে সাহায্য করবেন।

দেরীতে চিঠির উওর দেয়ার জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখিত। আশা করি কিছুটা হলেও আপনার উপকারে আসবে।

DUOS এর মনচিঠির পাতায় সাহায্য চাইবার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। আমরা সবসময় আপনার পাশে আছি।

মোঃ মোজাম্মেল হক তায়েফ
২০-০২-৩১, পিয়ার কাউন্সেলর, মনচিঠি by DUOS  
mmh.decp8.du@gmail.com

💌 অনলাইন চিঠি ও উত্তরের (টেক্সট) মাধ্যমে মানসিক স্বাস্থ্য পরামর্শ পেতে এখানে ক্লিক করে ‘মনচিঠি’তে লিখতে হবে।

📞 ভয়েস কলে কাউন্সেলিং/মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা পেতে এখানে ক্লিক করে ফরমটি পূরণ করতে হবে।

☎️ হটলাইন নম্বরে ফোনকলের মাধ্যমে মানসিক স্বাস্থ্য পরামর্শ পাওয়ার নম্বরগুলো জানতে এই লিঙ্কে ক্লিক করতে হবে।

👩‍⚕️ এ ছাড়াও ইমেইল আইডি, ফেসবুক পেজ এবং সেলফোন নম্বরে যোগাযোগ করে মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা পাওয়া যাবেঃ

👍 ফেসবুক পেজ (ক্লিক করুন)
💬 ফেসবুক মেসেঞ্জার (ক্লিক করুন)
📞 সেলফোন নম্বর : 01841 21 52 71
📧 ইমেইল আইডি : monchithi.duos@gmail.com

🌐 বিস্তারিতঃ www.duos.org.bd/monchithi

বন্ধুদের মাঝে জনপ্রিয় হবেন কীভাবে?

কীভাবে মানুষের মন জয় করা যায়, কিংবা বন্ধুদের কাছে প্রিয় হয়ে ওঠা যায়, এ প্রসঙ্গে সেরা লেখাটা সম্ভবত ডেল কার্নেগিই লিখেছেন। তাঁর লেখা হাউ টু উইন ফ্রেন্ডস অ্যান্ড ইনফ্লুয়েন্স পিপল বইটি সেই ১৯৩৬ সালে লেখা, অথচ এখনো আশ্চর্য সমসাময়িক। ডেল কার্নেগির বইটার তুমুল জনপ্রিয়তার সম্ভবত আরও একটা কারণ আছে। ১৯৩৬ সালের পর পৃথিবীতে বহু পরিবর্তন এসেছে। কিন্তু প্রিয় বন্ধু হয়ে ওঠার আকাঙ্ক্ষাটা বোধ হয় এখনো একই রকম আছে।

বন্ধুদের প্রায় সব দলেই একজন থাকেন বিশেষ। যাঁর কথার সঙ্গে সবাই প্রায় একমত হন। যে বন্ধুর জন্য সবাই উদ্‌গ্রীব হয়ে অপেক্ষা করেন। বলা হয় না কখনো, কিন্তু ভেতরে ভেতরে সবাই তাঁর মতো হতে চান। যে বন্ধুর সাফল্যে ঈর্ষা হয়, আবার তাঁর খারাপ ফল অন্যদেরও মন ভারী করে। নেতা হতে অনেক সময় কৌশলী হতে হয়, তবে বন্ধুদের মধ্যে জনপ্রিয় হতে নিজের সহজাত বিষয়টাকেই শুধু সামনে রাখা দরকার, যা একধরনের বিশেষ গুণ। কিছু বিষয় নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত করতে পারলে আপনিও হয়ে উঠতে পারেন সেই জনপ্রিয় বন্ধু।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সুলতানা মোসতাফা খানম বলেন, ‘বন্ধুদের যেকোনো দলের মধ্যে একজন বিশেষভাবে জনপ্রিয় থাকে। এটা অনেক সময় বন্ধুদের ছোট দল থেকে পুরো ক্লাসেও তাকে জনপ্রিয় করে তোলে। জনপ্রিয় হওয়ার জন্য সেই মানুষটির ভেতর কিছু স্বাভাবিক গুণাবলি থাকতে হয়। এটা হয়তো সে সচেতনভাবে তৈরি না–ও করতে পারে। হয়তো এটাই তার স্বভাব, যা মানুষকে তার প্রতি আগ্রহী করে তোলে।’

অনেকেই বন্ধুদের মধ্যে জনপ্রিয় হতে রোজ রোজ দামি খাবার খাওয়াতে পারেন। কিনে দিতে পারেন দামি কোনো উপহার। কিন্তু তাতে কি জনপ্রিয়তা বাড়ে? সুলতানা মোসতাফা খানম মনে করেন, ‘মোটেও না; বরং অর্থের লোভে তার আশপাশে যারা ঘুরবে, তারা কখনো প্রকৃত বন্ধু হবে না।’

ভালো নেতা হওয়ার জন্য যেমন বিশেষ কিছু গুণ থাকতে হয়, বন্ধুদের মধ্যে জনপ্রিয়তা পেতেও তেমন কিছু গুণের দরকার পড়ে।

শুরুতেই বাজিমাত

আপনি যখন নতুন কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হবেন, সেখানে নানা রকম ছেলেমেয়ে থাকবেন। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ হয়তো আপনার কাছের বন্ধু হয়ে উঠবেন। বন্ধুরা যেন আপনাকে তাঁদের দলে পেতে চান, সেভাবেই নিজেকে তৈরি করুন। প্রথম দিনের পরিচিত পর্বেই ‘নজরে পড়া’র কাজটি সেরে নিতে পারেন। পরিপাটি পোশাক, ঠিকঠাক চুলের স্টাইল, সুন্দর কথা বলার পাশাপাশি থাকুন স্বাভাবিক। তরুণদের ভাষায় ‘বেশি ভাব নেওয়া’ ছেলেমেয়েকে বাকিরা কম পছন্দ করেন।

নাম মনে রাখুন

কারও সঙ্গে প্রথমবার পরিচয় হলে তাঁর নাম মনে রাখুন। পরেরবার দেখায় তাঁর নাম ধরে সম্বোধন করলে তিনি সহজেই আপনার প্রতি আকৃষ্ট হবেন। আপনি যে তাঁকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিচ্ছেন, সেটা মনে করেই মানুষটি আপনাকে তাঁর প্রিয়জনের তালিকায় নিয়ে আসবেন।

কথা বলুন স্পষ্ট ভাষায়

আপনি যখন বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলবেন, তখন স্পষ্ট ভাষায় কথা বলুন। কথা বলুন তাঁদের ভাষায়, তাঁদের মতো করে। আপনাকে যেন কখনো ভিন্ন কেউ মনে না হয়; বরং আপনার স্পষ্ট কথা তাঁদের কাছে আপনাকে বিশেষ জায়গা করে দেবে। বন্ধুদের কাছে কথা চেপে না রেখে প্রকাশ করুন। এতে তাঁরাও আপনার ওপর আস্থা রাখবে।

গোপনীয়তা রক্ষা করুন

যেকোনো সম্পর্কে অন্যের আস্থাভাজন হওয়া খুব জরুরি। কেউ আপনাকে যখন বিশ্বাস করে কোনো কথা বলবেন, সেটার গোপনীয়তা বজায় রাখা আপনার দায়িত্ব। এক বন্ধু যখন আপনাকে গোপনে কিছু বলবেন, সেটা অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে দিলে তিনি আপনার ওপর আস্থা হারাবেন। আপনাকে বিশ্বাস করবেন না। বন্ধুদের মধ্যে জনপ্রিয়তা পেতে এই গুণ আপনাকে ওপরের দিকে তুলে দেবে।

চুলচেরা বিশ্লেষণ নয়

বন্ধুত্বের সম্পর্কে কখনো কোনো বিষয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণে না যাওয়াই ভালো। বন্ধুদের সবাই এক মানসিকতার হবেন না, কেউ কেউ থাকবেন ভিন্ন। যিনি যেমন, তাঁকে সেভাবে গ্রহণ করতে পারলে সবার কাছেই আপনার গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হবে।

সবার সঙ্গে চলুন

বন্ধুদের মধ্যে কে বড়লোক আর কে গরিব, এই চিন্তা বাদ দিন। বন্ধুকে ব্যক্তি হিসেবে চিনুন। আপনি যখন সবার সঙ্গে মিশবেন, আপনার প্রতি সবার একধরনের আস্থা তৈরি হবে। বিশেষ করে ক্লাসে পিছিয়ে পড়া ছেলেমেয়েদের আলাদা চোখে না দেখে তাঁদের সঙ্গে সুন্দর বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি করুন। নিজ থেকে তাঁদের সঙ্গে কথা বলুন। তাঁদের খোঁজ রাখুন। এতে তাঁরাও আপনার প্রতি ভালোবাসা দেখাবেন।

প্রশংসা করুন

কেউ কোনো কাজে ভালো করলে মন খুলে তাঁর প্রশংসা করুন। কোনো বন্ধুকে তিরস্কার করবেন না। যাঁর যে ভালো গুণ আছে, সেগুলো সামনে এনে তাঁর সঙ্গে কথা বলুন। নতুন কারও সঙ্গে বন্ধুদের পরিচয় করিয়ে দিতে তাঁর ভালো গুণের কথাগুলো বলুন।

নিজেকে চাঙা রাখুন

যেকোনো পরিস্থিতিতে নিজেকে চাঙা রাখুন। প্রাণচাঞ্চল্যে ভরপুর থাকুন সারাক্ষণ। এতে বন্ধুদের মধ্যে হতাশা কেটে আপনাকে দেখে চঞ্চলতা বাড়বে। সব বন্ধুর সঙ্গে দুষ্টুমি করুন, তবে সীমা অতিক্রম করবেন না। কারও দুর্বলতাকে কটাক্ষ করে অন্যদের সামনে তাঁকে খাটো করা যাবে না। কোনো বন্ধুকে টিজ করা বা বুলিং করা যাবে না; বরং কেউ বুলিং করলে তার প্রতিবাদ করুন। এতে বুলিংয়ের শিকার বন্ধুটি আপনাকে বিশেষভাবে ভালোবাসবেন।

নেতা নেতা ভাব নয়

বন্ধুদের মধ্যে জোর করে নেতা হওয়ার কিছু নেই। হুমকি-ধমকি বা চড়া গলায় কথা বললে আপনাকে কেউ মন থেকে ভালোবাসবে না। আপনি যদি আলাদা করে বাইরে পরিচিতি পেয়েও থাকেন, বন্ধুদের মধ্যে সেটার প্রভাব দেখাবেন না। বিশ্বসেরা ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান তাঁর এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘আমি যেমন ক্রিকেটারই হই না কেন, বন্ধুদের কাছে আমার কোনো বিশেষ পাত্তা নেই। তাদের কাছে আমি সেই মাগুরার সাকিবই। এই বিষয়টা আমার খুব ভালো লাগে।’

খোঁজ রাখুন

কোনো বন্ধুর সঙ্গে কয়েক দিন দেখা না হলে তাঁর খোজ নিন। করোনাভাইরাসের কারণে এখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ। তাই গুটিকয় বন্ধুর সঙ্গে হয়তো ফোনে বা ফেসবুকে যোগাযোগ হচ্ছে। কিন্তু আপনি বাকি বন্ধুদেরও খোঁজ নিন। আপনার এই অনাকাঙ্ক্ষিত ফোনকল বা ফেসবুকের নক তাঁকে বিস্মিত করবে। তিনি আপনাকে আপনজন ভাববেন।

সূত্র: প্রথম আলো, কনসালটিং ডট কম ও উইকি হাউ

মানসিক রোগ : বাংলাদেশে মানুষ চিকিৎসা নিতে যায় না কেন?

সামাজিক কুসস্কারের কারণে অনেকেই মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার বিষয়টি চেপে যান।

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় একটি মানসিক হাসপাতালে একজন উচ্চ পদস্থ পুলিশ কর্মকর্তার মৃত্যুর পর মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা নিয়ে চিকিৎসার বিষয়টি আবারো আলোচনায় এসেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশটিতে যারা মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভোগেন তাদের বেশির ভাগই কখনোই চিকিৎসা নিতে যান না।

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউটের এক হিসাব বলছে, সবশেষ ২০১৮ সালে তাদের যে গবেষণাটি পরিচালিত হয়েছে সে অনুযায়ী, বাংলাদেশে ১৮.৫ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক এবং প্রায় ১৩ শতাংশ শিশু-কিশোরদের মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা রয়েছে।

কিন্তু এদের মধ্যে ৯২ শতাংশ মানুষই কোন ধরনের সেবা বা পরামর্শ নেন না।

বাকি মাত্র ৮ শতাংশ মানুষ মূল ধারার চিকিৎসা নিচ্ছেন। আর সেখানে শুধু মানসিক রোগের চিকিৎসক নন বরং অন্যান্য চিকিৎসকও রয়েছেন।

আর যারা চিকিৎসা নিতে যান তারাও সমস্যা দেখা দেয়ার প্রথম দিকে নয় বরং একেবারে শেষ মুহূর্তে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন।

“কাছের মানুষরাও বুঝতে পারেনি”

বর্তমানে এক সন্তানের মা নাসরুন নাহার। বরাবরই প্রচণ্ড আত্মনির্ভরশীল আর চাপা স্বভাবের মানুষ।

তবে হঠাৎ করেই ২০১৭ সালে একবার আত্মহত্যার চেষ্টা করে বসেন তিনি।

নাসরুন্নাহার বলেন, এই ঘটনার আগে তার কাছের মানুষজনও বুঝতে পারেননি যে, তিনি বিষণ্ণতার মতো মানসিক সমস্যায় ভুগছেন।

“কাছের মানুষ এমনকি আমার বেস্ট ফ্রেন্ডরাও জানতো না।”

জানালার কাঁচ ভেঙে সেটি দিয়ে হাতের রগ কেটে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন তিনি।

তিনি বলেন, “যেদিন সুইসাইড অ্যাটেম্পট করি তার আগের দিনও আমি কাজিনদের সাথে ট্যুর দিয়ে আসি।”

নাসরুন নাহার বলেন, একেবারে শেষ স্তরে পৌঁছানোর পর যখন তিনি আত্মহত্যা প্রবণ হয়ে উঠেন তখন তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়।

প্রাপ্তবয়স্কদের পাশাপাশি শিশুরাও মানসিক সমস্যায় ভুগে থাকেন।

“আমাকে দুই দিন পাহারা দিয়ে রাখে যাতে আমি মরতে না পারি। একেবারে লাস্ট স্টেজে গিয়ে আমাকে হাসপাতালে ভর্তি করে।”

ছয়-সাত বছর আগে দ্বিতীয় সন্তান জন্ম দেয়ার পর পোস্ট পার্টাম সাইকোসিস নামে মানসিক সমস্যায় ভুগেছিলেন উন্নয়নকর্মী নাদিয়া সারোয়াত।

তিনি জানান, দ্বিতীয় সন্তান জন্ম দেয়ার ১৪-১৫ দিনের মাথায় তার যে সমস্যাটি দেখা দিয়েছিল সেটি হচ্ছে, নিজের সন্তানকেই চিনতে পারতেন না তিনি। খুঁজে বেড়াতেন তার প্রথম সন্তানকে।

নাদিয়া সারোয়াতের সাথে যখন কথা হচ্ছিল তিনি জানান যে, অসুস্থ থাকার সময়টার অনেক বিষয়ই তিনি এখনও মনে করতে পারেন না। মানসিক সমস্যার জন্য ১০ দিন একটি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন।

তিনি অভিযোগ করেন, সেসময় হাসপাতালের নার্সের হাতে মার পর্যন্ত খেতে হয়েছিল তাকে।

“আমার ঘুম আসতো না। পুরো হাসপাতাল ঘুরে বেড়াতাম। আর আমার বাচ্চাটাকে খুঁজতাম।”

নাদিয়া সারোয়াত বলেন, বাংলাদেশে মানসিক রোগীদের ভালভাবে দেখা হয় না। বিভিন্ন ভাবে তাদের হেনস্তার মুখে পড়তে হয়। হাসপাতাল কর্মী বা যারা এর চিকিৎসার সাথে জড়িত তারাও মানসিক রোগীদের সাথে ভাল ব্যবহার করেন না বলে অভিযোগ করেন তিনি।

“আমাদের দেশে তো মানসিক রোগী দেখলে পাগল বলে একটা বাচ্চাও ঢিল ছুঁড়ে মারে। তাদের অপদস্থ করার এক ধরনের মানসিকতা রয়েছে।”

মানুষ চিকিৎসা নিতে যায় না কেন?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সমাজে হেয় হওয়ার ভয়, স্বাস্থ্য সেবার অভাব এবং অসচতেনতার কারণে বিশাল পরিমাণ মানুষ মানসিক স্বাস্থ্য চিকিৎসার বাইরে রয়েছেন।

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক হেলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, তিন ধরনের কারণে মানুষ মানসিক সমস্যার চিকিৎসা নিতে যায় না।

এর মধ্যে প্রথম কারণ হিসেবে, সমাজের প্রচলিত স্টিগমাকে দায়ী করেন তিনি।

মানসিক সমস্যা নিয়ে সমাজে এক ধরনের কুসংস্কার প্রচলিত রয়েছে বলে মনে করেন তিনি। বলেন, মানুষ এটাকে প্রকাশ করতে চায় না, লুকিয়ে রাখতে চায়।

মানুষ মনে করে যে, মানসিক সমস্যা রয়েছে এটা প্রকাশিত হলে তারা সমাজের চোখে হেয় হয়ে যাবেন।

“এ নিয়ে এক ধরনের স্টিগমা তাদের মধ্যে কাজ করে।” বলেন তিনি।

দ্বিতীয় বিষয়টি হচ্ছে, মানসিক স্বাস্থ্য সেবার অপ্রতুলতা রয়েছে। মেডিকেল কলেজ কিংবা টারশিয়ারি পর্যায় ছাড়া আর কোথাও এই সেবা পাওয়া যায় না।

বিশেষায়িত হাসপাতাল রয়েছে মাত্র দুটি।

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের হিসাবে দেশে ১৮ কোটি মানুষের জন্য এই মুহূর্তে ২৭০ জন মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক রয়েছে।

আর কাউন্সেলিংয়ের জন্য সাইকোলজিস্ট রয়েছেন মাত্র ২৫০ জন। যেটা অপ্রতুল।

এক বছরে সাত থেকে ১০ জনের বেশি মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ প্রস্তুত হচ্ছে না বলেও জানানো হয়।

যার কারণে অনেকেই এই সেবা নেয়ার সুযোগ পাচ্ছে না বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

তৃতীয় কারণ হিসেবে মি. আহমেদ মানুষের সাধারণ অসচেতনতাকে দায়ী করেছেন।

তিনি বলেন, “অনেক সময় মানুষ বোঝেই না যে, তার আচরণগত সমস্যাটি মানসিক কারণে হয়েছে।”

বিপুল পরিমাণ মানুষ মানসিক স্বাস্থ্য সেবার বাইরে থাকায় পরিস্থিতি আরো খারাপ হচ্ছে এবং তারা এক পর্যায়ে সমাজের বোঝায় পরিণত হচ্ছে। এই পরিস্থিতির উন্নয়নে আরো দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা প্রয়োজন বলেও মনে করেন হেলাল উদ্দিন আহমেদ।

মুন্নী আক্তার
বিবিসি বাংলা

চাইলেই আত্মহত্যা প্রতিরোধ করা যায়

সম্প্রতি বেশ কয়েকটি আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে গেল বাংলাদেশে। প্রতিভাবান তরুণী, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, প্রকৌশলবিজ্ঞানের ছাত্র থেকে স্কুলপড়ুয়া কিশোরী আত্মহত্যা করেছে গত কয়েক মাসে। আবার করোনাভাইরাস মহামারির কারণে মানসিক চাপ বাড়ায় আত্মহত্যাও করেছেন কয়েকজন।

গবেষণায় প্রমাণিত যে মানসিক অসুস্থতা, বিশেষ করে বিষণ্নতা, ব্যক্তিত্ব ও আবেগের সমস্যা, মাদকাসক্তি আর সিজোফ্রেনিয়ায় যাঁরা ভুগছেন; তাঁদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা বেশি। পৃথিবীতে বছরে আট লাখ মানুষ আত্মহত্যা করে থাকেন। প্রতি ৪০ সেকেন্ডে ১ জন! বাংলাদেশে বছরে গড়ে ১০ হাজার জন আত্মহত্যা করেন। পাশ্চাত্যে মধ্য বা শেষ বয়সী মানুষেরা একাকিত্বে ভোগেন, যার কারণে সেখানে ৪০ থেকে ৫০ বছর বয়সী একাকী পুরুষদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা বেশি। বাংলাদেশে তরুণীদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা বেশি দেখা যায়।

বাংলাদেশে যৌতুক ও পারিবারিক নির্যাতন, আবেগ নিয়ন্ত্রণের ব্যর্থতা, দাম্পত্য কলহ, উত্ত্যক্তকরণ, প্রেম ও পরীক্ষায় ব্যর্থতা, দারিদ্র্য ও বেকারত্ব, আত্মহত্যার উপকরণের সহজপ্রাপ্যতা, মানসিক অসুস্থতা ইত্যাদি কারণে বেশির ভাগ আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে থাকে। প্রচারমাধ্যমে আত্মহত্যার সংবাদের অতিপ্রচার, অপপ্রচার বা অদায়িত্বশীল সংবাদ পরিবেশনের কারণেও কখনো কখনো আত্মহত্যার ঘটনা বাড়তে পারে।

দুই ধরনের আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে-

এক. আগে থেকে পরিকল্পনা করে, আয়োজন করে, সুইসাইড নোট লিখে আত্মহত্যা করেন অনেকে। যেটাকে বলা হয় ডিসিসিভ সুইসাইড।

দুই. হুট করে আবেগের রাশ টানতে না পেরে আত্মহত্যা করে ফেলেন অনেকে, যেটাকে বলা হয় ইমপালসিভ সুইসাইড। ডিসিসিভ সুইসাইড যাঁরা করেন, তাঁরা আগে থেকেই কিন্তু আত্মহত্যার ইঙ্গিত দিয়ে থাকেন। এ ধরনের মানুষ আত্মহননের আগে যেভাবে সেটা প্রকাশ করেন, তার মধ্যে আছে—

• তাঁরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মৃত্যু আর আত্মহত্যা নিয়ে নিজের ইচ্ছার কথা প্রকাশ করেন।

• আত্মহত্যা বা মৃত্যুবিষয়ক কবিতা–গান লিখতে, শুনতে বা পড়তে থাকেন।

• নিজের ক্ষতি করেন। প্রায়ই এঁরা নিজের হাত-পা কাটেন, বেশি বেশি ঘুমের ওষুধ খান।

• মনমরা হয়ে থাকা, সব কাজে উৎসাহ হারিয়ে ফেলা, নিজেকে দোষী ভাবা—এগুলো বিষণ্নতার লক্ষণ; যা থেকে আত্মহত্যা ঘটে।

• মাদকাসক্তি বা ইন্টারনেটে মাত্রারিক্ত আসক্তি আত্মহত্যায় সহায়তা করে।

• সারা রাত জেগে থাকা আর সারা দিন ঘুমানো।

• নিজেকে গুটিয়ে রাখা, সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ না নেওয়া।

• পড়ালেখা, খেলাধুলা, শখের বিষয় থেকে নিজে দূরে থাকা।

আত্মহত্যা প্রতিরোধে একসঙ্গে

আত্মহত্যা প্রতিরোধ করতে হলে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। শিশুদের বিকাশের সময় তাদের এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা সফলতার মতো ব্যর্থতাকে মেনে নিতে পারে। আত্মহত্যার উপকরণ, যেমন ঘুমের ওষুধ, কীটনাশকের সহজলভ্যতা কমাতে হবে। প্রেসক্রিপশন ছাড়া ঘুমের ওষুধ বিক্রি বন্ধ করতে হবে। যেকোনো ধরনের মানসিক সমস্যা বা আত্মহত্যার ইঙ্গিত পেলে দ্রুত মনোরোগ বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হতে হবে।

বিষণ্নতা, মাদকাসক্তি, ব্যক্তিত্বের বিকার, সিজোফ্রেনিয়াসহ সব মানসিক রোগের দ্রুত শনাক্ত করা ও সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। পারিবারিক বন্ধনগুলো দৃঢ় করতে হবে আর পরিবারে প্রত্যেকের সঙ্গে গুণগত সময় কাটাতে হবে। আত্মহত্যার সংবাদ পরিবেশনের সময় গণমাধ্যমগুলোকে সব সময় অনুমোদিত নির্দেশিকা মেনে চলতে হবে। প্রথাগত প্রচারমাধ্যমের পাশাপাশি বিকল্পধারার ইন্টারনেটভিত্তিক প্রচারমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগের সাইটগুলোর ব্যবহারকারীদেরও সতর্কতার সঙ্গে আত্মহত্যার বিষয় নিয়ে মন্তব্য ও ছবি পোস্ট করতে হবে। এখানেও কোনো আত্মহত্যার ঘটনাকে খুব মহৎ করে দেখানোর চেষ্টা করা যাবে না। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগের সাইটগুলোর কর্তৃপক্ষেরও নিজস্ব নীতিমালা থাকা প্রয়োজন। আত্মহত্যা প্রতিরোধে একটি সার্বক্ষণিক হটলাইন এখন সময়ের দাবি।

আত্মহত্যা একটি প্রতিরোধযোগ্য বিষয়। সঠিক সময়ে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারলে অবশ্যই আত্মহত্যা ঠেকানো যায়। এ জন্য সবাইকে যার যার ক্ষেত্র থেকে একযোগে কাজ করে যেতে হবে।

লেখকঃ ডা. হেলাল উদ্দিন আহমেদসহযোগী অধ্যাপক, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট, ঢাকা
সূত্রঃ প্রথম আলো

📮 আমি সবার সাথে মিশতে পারি না তাই আমার বন্ধু কম

💌 মনচিঠি টেক্সট-১৮ (প্রেরকের সম্মতিতে প্রকাশিত)

ছোট থেকেই আমি চুপচাপ স্বভাবের। মা নেই। আমার যখন ১১ মাস বয়স ছিল তখন তিনি আত্মহত্যা করে মারা যান। তবে এখন সৎ মা আছে। মা মারা যাবার পর থেকে দাদির কাছে বড় হয়েছি। সব সময় আব্বুর থেকে দূরে থাকতাম। তিনি একটু রগচটা ছিলেন। খালি বকাবকি করতেন আমাকে নিয়ে। অনেক ভয় পেতাম তাকে। এখন আর তেমন পাই না।

★ আমার প্রাইমারি ও হাই স্কুলে থাকাকালীন সময়ে ২জন স্যার ছিল। যারা খুব মেরেছে আমাকে। এখনও স্বপ্নও দেখি তাদের নিয়ে। স্বপ্নের ভিতরে আমার ক্লাস নিচ্ছে আর মারছে। স্বপ্নগুলো অনেক দিন ধরে দেখি।
★ আমি অল্পতে রেগে যাই। বাট যার প্রতি রাগি তাকে কিছু বলতে পারিনা।
★ আমি অল্প কথা বলি বাট বলতে শুরু করলে অনেক দ্রুত বলি।
★ আমি সহজেই মানুষ বিশ্বাস করি আর প্রতারিত হই বেশি।
★ আমি আমার ব্যর্থতাকে মেনে নিতে পারিনা।
★ আমি সবার সাথে মিশতে পারি না। তাই আমার বন্ধু কম।
★ নেপোটিজমের স্বীকার হয়েছি অনেকবার।

📮 মনচিঠি টেক্সট-১৮ এর উত্তর

আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি, আপনি আপনার কষ্টগুলো আমাদের সম্মানিত কাউন্সিলর ও পিয়ার কাউন্সিলরদের সাথে শেয়ার করেছেন।

আপনি আপনার পরিবারের সবার বড়। আমি খুবই আনন্দিত যে, আপনি অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন, আপনার বিভিন্ন পরীক্ষার রেজাল্টে আমি দেখতে পেলাম যা অনেকেরই আজও সাধনা।

বিভিন্ন উদ্দীপনামূলক কাজের আগ্রহ দেখে আমি অভীভূত যে, আপনি অনেক সৃষ্টিশীল যা ভবিষ্যতে আপনাকে অনেক ভালো যায়গায় স্থান পাওয়ার সুযোগ বয়ে আনতে সাহায্য করবে। আল্লাহ আপনাকে অনেক সাহায্য করেছেন এবং আপনি অনেক উৎসাহী যার ফলশ্রুতিতে আপনার বিভিন্ন প্রাপ্তিগুলো।

আপনি উল্লেখ করেছেন ছোটবেলা থেকেই আপনি চুপচাপ। আপনার মা আত্মহত্যা করে মারা গিয়েছেন, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। আপনি আপনার দাদীর কাছে বড় হয়েছেন, যা পরম আদরের। আপনি যদি আপনার সৎ মায়ের ভূমিকাগুলো উল্লেখ করতেন তাহলে আমার জন্য কিছু বিষয় স্পষ্ট হতো আপনাকে সহায়তা করার জন্য।

ছোটবেলা হলো শিশুদের মেধা বিকাশের গুরুত্বপূর্ণ সময়, তাই প্রত্যেক বাবা-মা ই চায় তার সন্তান সুন্দর একটি পরিবেশে সাবলীলভাবে বেড়ে উঠুক। তাই স্নেহের সাথে শাসনটা ও অতি জরুরি, যা আপনার বাবার আচরণের বহিঃপ্রকাশ। এখন তো আপনি অনেক বড় হয়েছেন, বাস্তবতা শিখেছেন তাহলে এখন আর কেন ভয় পাবেন, আলহামদুলিল্লাহ আপনার ভয় দূর হয়েছে।

আসলে কী জানেন, আমাদের সকল কল্পনাই আমাদের স্বপ্ন। কারণ যখন আমরা সবাই ঘুমিয়ে যাই তখন আমাদের স্নায়ু কোষগুলো সকল গুরুত্বপূর্ণ তথ্য লিপিবদ্ধ করে রাখে। আপনার উপরোক্ত ঘটনায় বর্নিত হয়েছে আপনি আপনার অতীতের স্মৃতিগুলো বিভিন্ন সময়ে বিভিন্নভাবে মনে করেন, তাই আপনার অতীত আপনাকে এখনো নাড়া দেয়।

আপনি বলেছেন যে, আপনি অল্পতেই রেগে যান তবে আপনার ভালো গুণ হলো যার সাথে রেগে যান তাকে কিছু বলেন না অর্থাৎ তর্কে জড়ান না, যা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। মনোবিজ্ঞানীরা যদিও বলছেন রাগ একটি স্বাভাবিক আবেগ। কিন্তু এই রাগ ক্ষতির কারণ হয়েও দেখা দিতে পারে। তার প্রভাব পড়তে পারে ব্যক্তি জীবন, সামাজিক ও পেশাগত জীবনে। এমনকি স্বাস্থ্যের ওপরও রাগের নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

তাই ওই মূহুর্তে আপনি কিছু কাজ করতে পারেন যেমন, যে জায়গাটিতে রেগে যাওয়ার মতো কিছু ঘটেছে সেখান থেকে সরে যাওয়া। যার ওপরে রাগ হয়েছে তার কাছ থেকে সরে যাওয়া। তার সাথে তখনই নয়, বরং খানিক পরে কথা বলা। হাতের কাছে যদি বরফ থাকে তাহলে তা হাত দিয়ে ধরে থাকা। বরফ মেজাজ শীতল করতেও সহায়তা করে।”যদি সম্ভব হয় যে কাপড়ে আছেন তাতেই গোসল করে ফেলুন। নিশ্বাসের একটি ব্যায়াম করে দেখতে পারেন। সেটি করার পদ্ধতি হল, রাগ থেকে মনটাকে সরিয়ে নিশ্বাসের দিকে মনোযোগ দেয়া। বুক ভরে গভীর নিশ্বাস নেয়া, সেটাকে কিছুক্ষণ ধরে থাকা, কিছুক্ষণ পর বাতাস ছেড়ে দেয়া। সেটি রাগ কমাতে সাহায্য করে।”

অল্প কথা বলা ভালো যা আপনার কথাবার্তায় বিচক্ষণতার পরিচয় বহন করে তবে দ্রুত কথা বলা বর্জন করা উচিত কেননা তাতে অনেক কথা গোপন থেকে যায় মনের অজান্তেই। আর আপনি প্রথমেই বলেছেন আপনি চুপচাপ স্বভাবের তাই অল্প কথা বলা আপনার জন্য অত্যন্ত স্বাভাবিক।

‘বিশ্বাসে মিলায় বস্তু আর তর্কে বহুদূর’ এ কথাটি আমরা সবাই জানি। তাই বিশ্বাস করা দরকার তবে একজন পরিনত বয়সের পুরুষ হিসেবে অবশ্যই ভালো/মন্দ যাচাই করার পরে যে কোনো বিষয়ে আস্থা রাখতে পারেন, যাতে করে প্রতারিত হবার সম্ভাবনা অনেকাংশে কমে যায়।

দেখুন, এত সুন্দর ও রঙিন পৃথিবীতে আমরা সবাই চাই সফল হতে। তাই সফল হতে হলে যে ব্রত ও পরিশ্রম নিয়ে কাজ করা উচিত আপনাকে সেভাবেই এগিয়ে যেতে হবে। তবে সকল ক্ষেত্রে আপনি সফল হবেন এই ধারনা ভুল, কারন আপনি যদি ব্যর্থই না হন তবে সফলতা কী করে ছিনিয়ে আনবেন! তাই ভালো কাজের দিকে মনোনিবেশ করুন এবং নিজের চেষ্টা অব্যাহত রাখুন, অবশ্যই সফল হবেন।

আপনি ছিলেন পরিবারের সবার বড়, তবে উল্লেখ করেননি আপনার আরো দুই ভাই/বোনের সাথে আপনার সম্পর্ক কেমন? আপনার বর্ণনা থেকে বোঝা যায়, যেহেতু আপনার মা মারা গিয়েছিলো এবং আপনার বাবার সাথেও একটি সমৃদ্ধ সম্পর্ক গড়ে উঠেনি এবং আপনি বড় হয়েছেন আপনার দাদীর কাছে তাই একটি বন্ধুসুলভ পরিবেশ আপনার কাছে অপরিচিত। কারন আপনার মেধা বিকাশের পুরো সময়টা কেটেছে আপনার দাদীর সাথে এবং একাকী। এখন আপনি যেহেতু হলে অবস্থান করছেন তাই মুক্ত মন নিয়ে সবার সাথে মিশুন এবং নিজের কষ্টগুলো শেয়ার করুন। নিজের ইতিবাচক দিকগুলো নিয়ে সজাগ দৃষ্টি রাখুন।

সর্বশেষে আপনি উল্লেখ করেছেন যে, আপনি নেপোটিজমের শিকার হয়েছেন অনেকবার, আমি অত্যন্ত দুঃখিত কারন আপনি উল্লেখ করেননি কী ধরনের নেপোটিজমের শিকার হয়েছেন আপনি? নেপোটিজম বলতে সাধারনত আত্মীয়দের প্রভাব খাটিয়ে কোন কাজ করা বুঝায়। তার স্বাধীনতাকে খর্ব করে অন্যের মতে চাপিয়ে দেওয়া। আবার এটাও হতে পারে ভালো স্কুলে আত্মীয় কারো প্রভাবে ভর্তি হওয়া। যেখানে মেধার মূল্যায়ন কম।

আপনার সর্বোচ্চ সফলতা কামনা করছি। ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন এবং নিরাপদে বাসায় থাকুন।

তানজিলা রহমান তমা
০৯, পিয়ার কাউন্সেলর, মনচিঠি, ডিইউওএস
tanzilarahman95t@gmail.com

💌 অনলাইন চিঠি ও উত্তরের (টেক্সট) মাধ্যমে মানসিক স্বাস্থ্য পরামর্শ পেতে এখানে ক্লিক করে ‘মনচিঠি’তে লিখতে হবে।

📞 ভয়েস কলে কাউন্সেলিং/মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা পেতে এখানে ক্লিক করে ফরমটি পূরণ করতে হবে।

☎️ হটলাইন নম্বরে ফোনকলের মাধ্যমে মানসিক স্বাস্থ্য পরামর্শ পাওয়ার নম্বরগুলো জানতে এই লিঙ্কে ক্লিক করতে হবে।

👩‍⚕️ এ ছাড়াও ইমেইল আইডি, ফেসবুক পেজ এবং সেলফোন নম্বরে যোগাযোগ করে মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা পাওয়া যাবেঃ

👍 ফেসবুক পেজ (ক্লিক করুন)
💬 ফেসবুক মেসেঞ্জার (ক্লিক করুন)
📞 সেলফোন নম্বর : 01841 21 52 71
📧 ইমেইল আইডি : monchithi.duos@gmail.com

🌐 বিস্তারিতঃ www.duos.org.bd/monchithi

সংগঠনে কেন যুক্ত হব?

প্রতিটি কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়েই আছে সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। অনেকে নিশ্চয়ই যুক্ত আছেন এমন বিভিন্ন দলের সঙ্গে। আবার অনেক শিক্ষার্থী মনে করেন, ক্লাব বা সংগঠনে কাজ করা মানে সময় নষ্ট, পড়ালেখার ক্ষতি। সত্যিই কি তাই?

অন্যদের চেয়ে আলাদা

বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা কেন সংগঠনে যুক্ত হবেন? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কালচারাল সোসাইটির মডারেটর সাবরিনা সুলতানা চৌধুরীর মতে, ‘সুস্থ সংগঠনগুলোতে চর্চার মাধ্যমে ইতিবাচক গুণাবলি তৈরি হয়। দায়িত্বশীলতা বাড়ে। নেতৃত্বগুণ তৈরি হয়। ধরুন, একটা সাংস্কৃতিক সংগঠনের কর্মী হয়তো নাচ-গান-আবৃত্তি কিছুই জানে না, দেখবেন তবু সে একজন “সংগঠন না করা” মানুষের চেয়ে আলাদা।’

বিভিন্ন সংগঠনে কাজ করেন রাজধানীর আপডেট ডেন্টাল কলেজের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ওসামা বিন নূর। কিছুদিন আগে যুক্তরাজ্যের রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের হাত থেকে ‘কুইন্স ইয়াং লিডারস অ্যাওয়ার্ড’ পাওয়া এই তরুণ বলেন, ‘নেতৃত্বের পুরো ব্যাপারটা আমি সংগঠন থেকে পেয়েছি।’ ওসামা মাদ্রাসায় পড়েছেন। তবে নেতৃত্বের জায়গায় নিজেকে তৈরি করেছেন জাগো, বিওয়াইএলসিসহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থেকে। তাঁর মতে, ‘মতামত জানানো, প্রোগ্রামের বাজেট তৈরি, স্পনসর জোগাড় করা—এসব করতে করতে অবচেতনে একটা প্রশিক্ষণ হয়ে যায়, যেটা পেশাজীবনে কাজে আসে।’

‘সংগঠনে জড়িত থাকার ফলে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাস-দূত হিসেবেও কাজ করার সুযোগ মেলে।’ এমন যুক্তি তুলে ধরে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) বিতর্ক ক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক তানসিফ আনজার বলেন, ‘পড়াশোনা ও সহশিক্ষা কার্যক্রম একে অপরের সহায়ক।’

প্রতিটি ক্লাব বা সংগঠনের মৌলিক বিষয় একই। যেমন সবার মতকে শ্রদ্ধা করা, সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করা। এমনটাই বিশ্বাস করেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটারবিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও রোবটিকস ক্লাবের উপদেষ্টা মো. খলিলুর রহমান। তিনি বলেন, ‘যারা কম্পিউটার বা রোবট ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত, তারা নতুন কিছু সৃষ্টির আনন্দ উপভোগের সুযোগ পায়।’

উচ্চশিক্ষায় বাড়তি সুবিধা

উচ্চশিক্ষায় সংগঠন বা সহশিক্ষা কার্যক্রমে যুক্ত শিক্ষার্থীরা অগ্রাধিকার পান। এর বড় প্রমাণ হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র তারিক আদনান মুন। ফেসবুক মেসেঞ্জারে তাঁর সঙ্গে কথা হলো। বললেন, ‘আমার ভর্তির ক্ষেত্রে গণিত অলিম্পিয়াডের সাফল্য খুব সাহায্য করেছে। এ ছাড়া বিতর্ক সংগঠনসহ বিভিন্ন দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। সেগুলোকেও ভর্তির সময় বিবেচনায় নেওয়া হয়েছিল।’

তাঁর কাছে জানা গেল, যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলো খুব গুরুত্বের সঙ্গে শ্রেণি–বহির্ভূত কার্যক্রমের বিষয়টি আমলে নেয়, বিশেষ করে স্নাতক পর্যায়ে ভর্তির সময়। কারণ স্নাতক পর্যায়ে যাঁরা ভর্তির জন্য আবেদন করেন, তাঁদের ফলাফলসহ আইইএলটিএস বা টোয়েফল কোর্সের স্কোর প্রায় সমান থাকে। তখন নেতৃত্বগুণ আছে কি না, পাঠ্যবইয়ের বাইরে সামাজিক অন্য কোনো কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত ছিলেন কি না, এসব গুরুত্ব দেওয়া হয়।

নির্ভয়ে সবার সামনে

সাব্বির আহমেদের কথাই ধরা যাক। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ছাত্র একটি প্রতিষ্ঠানে ইন্টার্নি হিসেবে যোগ দিতে আবেদনপত্র জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি তাঁর জীবনবৃত্তান্ত দেখে জানাল, ‘ইন্টার্নি নয়। আমরা তোমাকে চাকরি দিতে চাই!’

কেন? শোনা যাক সাব্বিরের কাছেই, ‘আমি বিভিন্ন সংগঠনে নেতৃত্বের জায়গায় ছিলাম। যোগাযোগ, মানুষকে বোঝানোর দক্ষতা—এসব তো আগে থেকেই শেখা আছে। তাই চাকরি পেতে সমস্যা হয়নি।’ শুধু সাব্বির নন, এমন উদাহরণ আছে আরও। যেমন বিতর্ক সংগঠনসহ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনে কাজের অভিজ্ঞতা ছিল ৩১তম বিসিএস পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকারী ফারহানা জাহানের। সংগঠনে জড়িত থাকার ফলও পেয়েছেন তিনি বিসিএস মৌখিক পরীক্ষার সময়। বলছিলেন, ‘ভাইভা বোর্ডে নার্ভাসনেস দূর করতে এটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কারণ, সংগঠন করলে সব সময় মানুষের সঙ্গেই কাজ করতে হয়, কথা বলতে হয়, বোঝাতে হয়।’

মানতে হবে সময়ের ভারসাম্য

প্রতিটি সংগঠনের নিয়মিত কার্যক্রম থাকে। সংগঠনের কাজে সময় দিতে গিয়ে কি পড়াশোনার ক্ষতি হয়? নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী মেহজাবিন হাই, ‘আমার হয় না। কারণ আমি ভারসাম্য রক্ষা করে চলি। নিজের মতো করে সময় ভাগ করে নিই।’

কেমন সংগঠনে যুক্ত হব?

কে কী ধরনের সংগঠনে যুক্ত হবে, বিষয়টি নিজের পছন্দের ওপর নির্ভর করে। কেউ বিতর্ক করবে, কেউ আলোকচিত্রী হবে, কেউ আবার মূকাভিনয় কিংবা রোবটিকস ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত হবে। আবৃত্তির সংগঠন, নাটকের দল…নানা দিকেই মানুষের আকর্ষণ থাকতে পারে। বলছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সাবরিনা সুলতানা চৌধুরী। তিনি যোগ করেন, ‘যে সংগঠন আমাদের পরিবার, ধর্ম, সমাজ—সর্বোপরি দেশের জন্য সাংঘর্ষিক নয়, নিশ্চয়ই এমন সংগঠনেই জড়াতে হবে।’

সংগঠনগুলোকে অনুদান দেওয়া হচ্ছে

আসাদুজ্জামান নূর, সংস্কৃতিমন্ত্রী

বিশ্ববিদ্যালয়ে কিংবা স্থানীয়ভাবে গড়ে ওঠা সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোকে আমরা সব সময় উৎসাহিত করি। সারা দেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা সংগঠনগুলোকে আমরা একটা নেটওয়ার্কের মধ্যে নিয়ে আসতে চাই। সবাই যেন গুছিয়ে কাজ করতে পারে।
এখন সংগঠনগুলোকে অনুদান দেওয়া হচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আমরা অনুদান দিয়েছি, যেন তারা তাদের কার্যক্রম আরও এগিয়ে নিতে পারে। যেহেতু অনুদান দেওয়া হচ্ছে, আমরা চাই সংগঠনগুলোর মধ্যে জবাবদিহির জায়গা তৈরি হোক। আশা করছি, সামনের দিনে তারা আরও ভালো ভালো কাজ করবে।

সংগঠনের ছায়ায় ব্যক্তি নিজেকে বিকশিত করতে পারে

সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
লেখক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক

সংগঠন মানুষকে সহনশীলতা শেখায়, একসঙ্গে কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করে। গত শতকের ষাট-সত্তরের দশক অবধি আমাদের দেশের সাংস্কৃতিক পরিসর ছিল একরকম—পড়ার সংস্কৃতি ছিল, খেলাধুলার সংস্কৃতি ছিল। পাড়ায় পাড়ায় ছিল গ্রন্থাগার। তখনকার সংগঠন বা সংঘগুলো আবর্তিত হতো এ বিষয়গুলো ঘিরে। সুনির্দিষ্ট কিছু মূল্যবোধের ভিত্তিতে তারা তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করত। পরে স্বাধীনতা-উত্তরকালে নব্য ধনবাদের উত্থান আমাদের মূল্যবোধগুলোকে প্রচণ্ডভাবে ঝাঁকুনি দিল। সেই সঙ্গে বিনষ্ট রাজনীতি, নগরায়ণ—এই প্রপঞ্চসমূহ সংগঠনের ভিত্তিকে দিনে দিনে ভোঁতা করে তুলল। আজ মানুষের মধ্যে যে অসহিষ্ণুতা, অস্থিরতা—এগুলো দূর হতে পারে সুস্থ সংস্কৃতির বিকাশের মাধ্যমে, শুভময় সংগঠনে নিজেকে নিয়োজিত করার মাধ্যমে। ভালো কোনো সংগঠন—সে সাংস্কৃতিক, ক্রীড়াকেন্দ্রিক—যা-ই হোক না কেন, তার নির্দিষ্ট মূল্যবোধ বা আদর্শ থাকে। সেই সংগঠনের ছায়ায় দাঁড়িয়ে ব্যক্তি যেমন নিজেকে বিকশিত করতে পারে, তেমনি সামাজিক সুস্থতাও আসতে পারে এই উপায়ে।

লেখক : সজীব মিয়া
সূত্র : প্রথম আলো

📮 আমার যোগ্যতা নিয়ে হীনমন্যতায় থাকি

💌 মনচিঠি-১১ (টেক্সট)

প্রথমেই বলে রাখি আমার যোগ্যতা নিয়ে হীনমন্যতায় থাকি।

৫ বছরের প্রেমের আকস্মিক সমাপ্তি, পারিবারিক অনটন, মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়া কাজে খেই হারিয়ে ফেলা কিংবা প্রতিদিন অন্তত দুই-তিন বার হস্তমৈথুন সবমিলিয়ে সামগ্রিকভাবে ডিপ্রেশন ভর করেছে।

আর্থিক অনটন কিংবা মেজাজ হারানো যার ফলে মনোযোগ হারাচ্ছি৷ কোন কাজে মন বসছেনা।

যা পড়ছি তা মনে রাখা সম্ভব হচ্ছেনা, যা দেখছি তাও স্মরণে থাকছেনা। নিজের ক্যারিয়ার, পরিবারের হাল ধরার বিষয়গুলো মাথায় এলে কিছুই করতে পারিনা।

আমি ইদানীং লোকচক্ষুর আড়ালে থাকার চেষ্টা করছি। আমি জানিনা কিসে শান্তি পাবো।

ইনসমনিয়ার ফলে দিনকে দিন সবকিছুতে মনযোগ হারাচ্ছি। ১০ মিনিট ইংরেজি/বাংলা পত্রিকা পড়া, গানশুনা কিছুতেই গাঢ়োভাবে মনযোগ রাখা যাচ্ছেনা।

আমি একটা পজিটিভ লাইফ লিড করতে চাই কিন্তু দেখা যাচ্ছে এটা সম্ভব হচ্ছেনা আমার ব্যর্থতার জন্য।

খাদ্যাভাস, চরিত্র, পার্সোনালিটি সব বদলাতে চাই, ইতিবাচকভাবে বাচতে চাই। নিজের যোগ্যতার অবমূল্যায়ন থেকে নিস্তার চাই।

📮 মনচিঠি টেক্সট-১১ এর উত্তর

প্রথমে আপনাকে অনেক ধন্যবাদ যে আপনি আমাদের কাছে চিঠি লিখেছেন এবং আপনি প্রডাক্টিভ জীবন যাপন করতে চাচ্ছেন।

আমাদের জীবনে যেকোন সম্পর্কের বিচ্ছেদই অনেক কষ্টের। আপনার ৫ বছরের সম্পক হঠাৎ বিচ্ছেদ হয়ে গেসে, আমি আপনার কষ্টটা অনুভব করতে পারছি। আপনার চিঠি থেকে বুঝতে পারলাম আপনার এই সম্পর্কটা আপনার কলেজ জীবনের। আপনি আপনার আশে-পাশে একটু লক্ষ্য করলে দেখবেন আপনার মত অনেকেই আছে, কলেজ জীবনের সম্পর্কগুলোর সফলতার হার খুবই কম।

আমি বুঝতে পারছি আপনার তার সাথে আবেগীয় ব্যাপার জড়িত, আমাদের সুখ-দুঃখগুলো আমাদের নিজের। আপনার শরীরের কোথাও কেটে গেলে আপনারই রক্ত বের হবে, তেমনি আপনি আপনার জিফের কথা মনে করে কষ্ট আপনারই ক্ষতি হবে, আপনার প্রডাকটিভিটি নষ্ট হবে।

আপনি Masturbation এ আসক্ত, মানুষ যখন হতাশায় থাকে তখন Masturbation করে, যখন আপনি Masturbation করেন তখন আপনার ব্রেনে ডোপামিন নামক এক ধরনের Chemical Release হয়, ডোপামিনের কাজ হলো আমাদের ভাল একটা অনুভূতি দেয়া। অতিরিক্ত Masttbation ফলে মনোযোগের ঘাটতি (যা আপনার আছে) দেখা দেয়, শারীরিক দূর্বলতা, কোন কাজে আনন্দ না পাওয়াসহ আরও সমস্যা দেখা দেয়। আপনি নিচের ভিডিওটা দেখতে পারেন।

আমাদের যখন Parasympathetic Nervous System Activity বেশি থাকে তখন আমাদের মধ্য একটা অস্থিরতা কাজ করে, তখন আমাদের মাঝে খারাপ লাগা কাজ করে, সেই অস্থিরতা দূর করার জন্য আমাদের মাঝে Masturbation করার আগ্রহ আসতে পারে, তাই নিচের লিংকের Exercise টা অবশ্যই অবশ্যই করবেন। যা কিনা আপনার ভালো ঘুমের জন্যও ঔষধ হিসেবে কাজ করবে। তাই ঘুমানের আগে Exercise টা করবেন।

আপনি বলেছেন আপনার জীবনে পজিটিভ কিছু নাই। আপনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছেন যা কি না অনেকের স্বপ্ন থাকে, আপনি আপনার স্বপ্ন পুরনের একটা ধাপ পুরন করেছেন, এখন আপনি আপনার বাকি স্বপ্নগুলোও পুরন করতে পারবেন, আপনার মাঝে সেই যোগ্যতা আছে। আপনার দৃঢ় মনোবলই পারে আপনার সেই লক্ষ্য পৌঁছে দিতে।

আপনি প্রতিদিন আপনার ব্যক্তিগত ডায়েরিতে আপনার জীবনে ঘটে যাওয়া ৩ টি পজিটিভ দিক লিখে রাখবেন। যেমন- আমি যোগ্য, আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যাবিদ্যালয়ে পড়াশুনা করছি।


উপরের Indfulness Exercise-গুলো করবেন, যা আপনার মনোযোগের ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করবে।

ঘুমের জন্য PMR Exercise (Progressive Muscular Relaxation) করবেন।


দেরিতে চিঠির উওর দেয়ার জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখিত, আশা করি আমার লিখাগুলো কিছুটা হলেও আপনার উপকারে আসবে। আপনি একজন মনোবিজ্ঞানীর সাথে যোগাযোগ করতে পারেন, যিনি আপনার সমস্যা শুনে কিভাবে আপনার জীবনকে আরও সুন্দর করা যায় সে ব্যাপারে আপনাকে সাহায্য করবে।

Dhaka University Optimistic Society always beside you, Thank you. Just believe yourself you will lead a better life. Best of luck.

ওয়াহিদ আরিফ
২৭, পিয়ার কাউন্সেলর, মনচিঠি, ডিইউওএস
wahid4arif@gmail.com

💌 অনলাইন চিঠি ও উত্তরের (টেক্সট) মাধ্যমে মানসিক স্বাস্থ্য পরামর্শ পেতে এখানে ক্লিক করে ‘মনচিঠি’তে লিখতে হবে।

📞 ভয়েস কলে কাউন্সেলিং/মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা পেতে এখানে ক্লিক করে ফরমটি পূরণ করতে হবে।

☎️ হটলাইন নম্বরে ফোনকলের মাধ্যমে মানসিক স্বাস্থ্য পরামর্শ পাওয়ার নম্বরগুলো জানতে এই লিঙ্কে ক্লিক করতে হবে।

👩‍⚕️ এ ছাড়াও ইমেইল আইডি, ফেসবুক পেজ এবং সেলফোন নম্বরে যোগাযোগ করে মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা পাওয়া যাবেঃ

👍 ফেসবুক পেজ (ক্লিক করুন)
💬 ফেসবুক মেসেঞ্জার (ক্লিক করুন)
📞 সেলফোন নম্বর : 01841 21 52 71
📧 ইমেইল আইডি : monchithi.duos@gmail.com

🌐 বিস্তারিতঃ www.duos.org.bd/monchithi

কাউকে সুইসাইডাল মনে হলে আমাদের করনীয়

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী সুইসাইড করার আগে তার টাইমলাইনে পোস্টগুলো দিয়ে গিয়েছে। খেয়াল করে দেখুন, মৃত্যুর আগে প্রতিটা মুহুর্তে সে জানান দিয়ে গেছে যে, সে চরম ডিপ্রেশানে আছে। আত্মহত্যা করতে চলেছে। কেউ-কেউ হয়তো তাকে ফালতু এটেনশান সিকার ভেবে উড়িয়ে দিয়েছেন। আর কেউ-কেউ হয়তো বিষয়টাকে গুরুত্ব দিয়েছিলেন। কিন্তু বুঝে উঠতে পারেন নি যে কিভাবে তাকে সাহায্য করবেন। অনেকে হয়তো তাকে উপদেশ, পরামর্শ, নানা ধরণের ধর্মীয় ব্যাখ্যা দিয়ে বোঝানোর চেষ্টা করেছেন।

কিন্তু সবার আগে আমাদেরকে বোঝার দরকার ‘ডিপ্রেশান’ একটি মারাত্বক সাইকোলজিক্যাল ডিসঅর্ডার। যেটা শুধু মানসিক না শারীরিকভাবেও আপনাকে দুর্বল করে দেবে৷ এটার বিভিন্ন স্টেজ রয়েছে। সাধারণ খারাপ লাগা বা প্রাথমিক স্টেজের ডিপ্রেশান অনেকের আপনা-আপনি ঠিক হয়ে যায়। কারণ, শরীরের রোগ প্রতিরোধ করতে আমাদের যেমন নিজস্ব ইমিউনিটি সিস্টেম আছে। মানসিক অসুখ থেকে সুস্থ হতেও আমাদের আছে মানসিক শক্তি। অনেকেই স্ট্রং পার্সোনালিটির জোরে কিংবা প্রাইমারি স্টেজ থেকে আপনা-আপনি সুস্থ হয়ে উঠতে পারে৷ অথবা বন্ধু-পরিবারের সাপোর্ট, ধর্মীয় আচার অনুসরণ করে ঠিক হয়ে যায়।

কিন্তু আমাদের মনে রাখতে হবে সবাই মানসিকভাবে স্ট্রং না। আর কেউ যদি ডিপ্রেশানের সিরিয়াস স্টেজে পৌঁছে যায় তখন এসব সাধারণ উপদেশ-পরামর্শে তার জন্যে সেরে ওটা অনেক দুরূহ হয়ে ওঠে। আর সে সময়ে একজন এক্সপার্টের হেল্প তার জন্য অবধারিত হয়ে ওঠে। তখনও যদি তাকে হেল্প করা না যায় তাহলে সেটার শেষ পরিণতিই হলো আজকের এই ঘটনা৷

মানসিক অসুখের উপরে বিশেষজ্ঞ সাধারণত ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট এবং কাউন্সেলিং সাইকোলজিস্ট। কিংবা সাইকিয়াট্রিস্ট। তারা সাইন্টিফিক ওয়েতে মানুষের মানসিক অবস্থা মেজার করেন। আর সে অনুযায়ী চিকিৎসা প্রদান করেন। শরীর যেমন একটি সত্ত্বা মনও একটি সত্ত্বা। শরীরের যেমন অসুখ হয় মনেরও ঠিক তেমনি অসুখ হয়৷ সেটাকে কোনোভাবেই অবজ্ঞা করার সুযোগ নেই।

হ্যাঁ, সবাই যে মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞের কাছে গেলেই সুস্থ হয়ে উঠবে এমনটা বলা একদমই টিক হবে না। মনে রাখবেন ডাক্তাররাও কিন্তু সব রোগীকে সেইভ করতে পারেন না। কিন্তু চেষ্টা তো করেন। এর মানে তো এই না যে আপনি সুস্থ হবেন কিনা সেই দ্বন্দ্বে ডাক্তারের কাছেই যাবেন না।

অনেকেই আপনাকে যুক্তি দেবে এসব মানসিক অসুখ-টসুখ ফালতু কথা। সাইকোলজি-টাইকোলজি সব ভাঁওতাবাজি। এসব করে কিচ্ছু হবে না।

এখন ধরুন বাজারে আপনি একটি পণ্য কিনতে গিয়েছেন। রাস্তায় একজন পরিচিত লোকের সাথে দেখা হলো। সে আপনাকে বললো, এইসব জিনিস কিনো না। এইগুলাতে কাজ হবে না। আবার অন্য আর একজন বললো, ওমুকের দোকান থেকে নিও না। জিনিস ভালো না। এখন দোকানে গিয়ে দেখলেন হয়তো আসলেই জিনিসটা খুব কাজের না, মানও হয়তো মোটামুটি। কিন্তু যা আছে তাতে আপনার কাজ বেশ ভালো মতোই হবে৷ তাহলে আপনি যদি মানুষের কথা শুনে বাজারে না যেতেন তাহলে কী বুঝতে পারতেন?

মনে রাখবেন বেশিরভাগ মানুষ যারা সাইকোলজিস্টের কাছে যেতে নিরুৎসাহিত করে তারা নিজেরাই কখনো সেখানে যায়নি। বা সঠিক স্থানে যায়নি। এটা কোনোভাবে অস্বীকার করা যাবে না যে, আমাদের দেশে অনেক অদক্ষ মানুষও এই প্রফেশনে ঢুকে মানুষকে প্রতারিত করছে৷ কারণ, আমাদের দেশে এই বিষয়ে সরকারের কোনো সুনির্দিষ্ট নীতিমালা নেই।

তারপরেও বলবো আমাদের দেশে ও অনেক যোগ্য ব্যক্তি এই প্রফেশনে অবদান রাখছেন। আপনারা তাদের কাছে সেবা গ্রহণ করুন। এর জন্য অনেক বেশি প্রচারণা আর গণসচেতনতা গড়ে তোলা প্রয়োজন। আর আশে-পাশে এই ছেলের মতো যাদের সিভিয়ার মানসিক সমস্যা তাদেরকে সাইকোলজিক্যাল হেল্প নিতে উৎসাহিত করুন। দয়া করে সিরিয়াস কান্ডিশানের পেশেন্টকে নিজেরা কাউন্সেলিং করবেন না। এতে হিতের বিপরীত হতে পারে।

ফাহিম পারভেজ দীপ্ত
বিএসসি (অনার্স)
মনোবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
fahim.dipto@gmail.com

👩‍⚕️ মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা পেতে নিম্নের লিঙ্কে ক্লিক করতে পারেনঃ
www.duos.org.bd/monchithi